দূতাবাসের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

১২ শ’ শ্রমিক নেবে যুক্তরাষ্ট্র মেরিন ঈগল সার্ভিসেস

যুক্তরাষ্ট্রের ‘মেরিন ঈগল সার্ভিসেস’ কোম্পানী বাংলাদেশ থেকে প্রাথমিকভাবে শিপইয়ার্ডে কাজের জন্য ১২ শ’ দক্ষ শ্রমিক নেবে। পাইপ ফিডার, স্টিল ফিডার ও ওয়েলডার কাজে দক্ষ শ্রমিকরা যুক্তরাষ্ট্রে আসতে পারবেন। আগামী মাসে মেরিন ঈগল সার্ভিস থেকে একটি প্রতিনিধি দল ঢাকায় যাবেন। এই প্রতিনিধি দল দক্ষ শ্রমিকদের বাছাই করবে। যুক্তরাষ্ট্রে মেরিন খাতে শ্রমিক রপ্তানীর বিষয়টি দেশের শ্রমবাজারে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। তবে এই শ্রমিক রপ্তানীর বিষয়ে ওয়াশিংটনস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস প্রথমে ইতিবাচক ভূমিকা গ্রহণ করলেও পরবর্তীতে দূতাবাসের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠেছে। মেরিন ঈগল সার্ভিসের চাহিদার বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্রে মেরিন ইয়ার্ডের শ্রমিক রপ্তানী প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা ডক্টর ইফতেখার আহমেদ চৌধুরী গত বুধবার এই প্রতিনিধিকে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রে শ্রমিক রপ্তানীর প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করতে কার্যকর ভূমিকা রাখবেন। কিন্তু রাষ্ট্রদূত হুমায়ুন কবির গত বৃহসপতিবার বলেছেন, মার্কিন প্রশাসনের লেবার সার্টিফিকেশন ছাড়া বাংলাদেশ থেকে কোন শ্রমিক রপ্তানীর সুযোগ নেই। তিনি এই শ্রমিক রপ্তানীর সঙ্গে জড়িতদের অফিসিয়াল কার্যক্রমে অসন্তোষ ও সন্দেহ প্রকাশ করেন। এই শ্রমিক রপ্তানীর সঙ্গে জড়িত প্রতিষ্ঠানের একটি মুখপাত্র জানিয়েছে, ওয়াশিংটনস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস রহস্যজনক আচরণ করছে। দূতাবাস যুক্তরাষ্ট্রে শ্রমিক রপ্তানীর প্রক্রিয়ায় সহযোগিতামূলক ভূমিকা রাখছে না।
রিসিউল ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড নামে একটি বাংলাদেশী প্রতিষ্ঠান সম্প্রতি ওকলাহামায় অবস্থিত ‘মেরিন ঈগল সার্ভিসেস’ এর সঙ্গে দক্ষ শ্রমিক আদান-প্রদানের চুক্তি স্বাক্ষর করে। চুক্তি মোতাবেক যারা যুক্তরাষ্ট্রে আসবেন তারা প্রতি ঘন্টা ১৮ ডলার করে মজুরী পাবেন এবং তিন বছর এই কাজে নিয়োজত থাকতে পারবেন। তিনি বছর থাকার পর শ্রমিকরা মেরিন ঈগলের মাধ্যমে বৈধভাবে এই চাকুরিতে যুক্ত থাকার সুযোগ লাভও করতে পারবেন, এমন কথা মেরিন ঈগলের কর্মকর্তাদের অভিমত। এই চুক্তির পর মেরিন ঈগল সার্ভিসেস বাংলাদেশ থেকে ১২ শ’ শ্রমিক আমদানির চাহিদা পত্র সরবরাহ করে। এই চাহিদাপত্র ওয়াশিংটস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস পরীক্ষা-নীরিক্ষার পর সত্যায়িত করে দেয়। প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অনুরোধে বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক রপ্তানীর কাগজ পত্র যাচাই-বাছাই করে মার্কিন দূতাবাস এই প্রক্রিয়া সঠিক বলে মন্ত্রণালয়কে জানায়। এরপর রিসিউল ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল লিঃ ওয়েলডার, পাইপ ফিডার ও স্টিল ফিডার দক্ষ শ্রমিক সংগ্রহের উদ্যোগ নেয়। এরপরই দূতাবাসের কর্মকর্তার এই প্রক্রিয়া নিয়ে সন্দেহ পোষণ করেন। দূতাবাস সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে একটি পত্রে জানায়, লেবার সার্টিফিকেশনের আগে যেন সরকার কোন ভূমিকা না রাখে এবং রিসিউল ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল লিঃ যেন কারো কাছ থেকে এ বাবদ শ্রমিকদের কাছ থেকে অর্থ গ্রহণ না করে। এই পত্রের পর প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় এক বিজ্ঞপ্তিতে রিসিউল ট্রেড ইঃ লিঃ দক্ষ মেরিন শ্রমিক বাছায়ের বিজ্ঞাপন পত্রিকাতে প্রকাশ না করার নির্দেশ দেয়। এদিকে রিসিউল ট্রেড ইঃ লিঃ এর এমডি প্রফেসর আব্দুর রহিম জানিয়েছেন, আগামী ১৫ অক্টোর মেরিন ঈগলের প্রতিনিধি দল ঢাকায় আসছে। তারা বাছাই পরীক্ষার পর ২ শ’ দক্ষ শ্রমিককে যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করার জন্য তালিকাভূক্ত করবে। অথচ দক্ষ মেরিন শ্রমিক সংগ্রহের জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিতে পারছি না। তিনি বলেন, মেরিন ঈগলের প্রতিনিধি দল ঢাকায় এলে এতো শ্রমিক কীভাবে যোগার করবো? দূতাবাস তথা সরকার সহযোগিতা না করলে যুক্তরাষ্ট্রে মেরিন শ্রমিক রপ্তানীর প্রথম উদোগটি ভেস্তে যেতে পারে বলে তিনি শংকা প্রকাশ করেন। তিনি জানান, মেরিন ঈগল বাংলাদেশ ছাড়াও চায়না, থাইল্যান্ড ও মায়ানমার থেকে ১ শ’ মেরিন শ্রমিক নিচ্ছে। বাংলাদেশে শ্রমিক রপ্তানীর ক্ষেত্রে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা সৃষ্টির জন্য বিস্ময় প্রকাশ করেন তিনি।
এ প্রসঙ্গে ওয়াশিংটনস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রথম সেক্রেটারী মনোয়ার হোসেনের সঙ্গে গত মঙ্গলবার টেলিফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে দক্ষ শিপইয়ার্ড শ্রমিক রপ্তানীর সুযোগ রয়েছে। এইচ টু ভি ভিসায় এই সকল শ্রমিকরা যুক্তরাষ্ট্রে এসে কাজ করতে পারেন। তিনি এক প্রশ্নের জবাবে জানান, মেরিন ঈগল সার্ভিসেস এর সঙ্গে রিসিউল ট্রেড ইঃ লিঃ এর সম্পাদিত চুক্তি সঠিক। তবে ইমিগ্রেশন বিভাগ থেকে লেবার সার্টিফিকেশন না আসা পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে এই ধরনের শ্রমিকরা ভিসা পাবেন কিনা, তা নিশ্চিতভাবে বলা যায়না। শ্রমিক রপ্তানী সংক্রান্ত কাগজ সঠিক থাকার পরও রিসিউল ট্রেড ইঃ লিঃ কেন সরকারের সহযোগিতা পাচ্ছে না, এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা মন্ত্রণালয়কে পত্র দিচ্ছি। মন্ত্রণালয় এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবে।
রিসিউল ট্রেড ইঃ লিঃ এর একটি সূত্র জানিয়েছে, মেরিন ঈগল ১২ শ’ শ্রমিকের চাহিদাপত্র ছাড়াও আরো ৫ শ’ শ্রমিকের চাহিদাপত্র পাঠিয়েছে। এই চাহিদাপত্র দূতাবাস সত্যায়িত করতে গড়িমসি করছে। সূত্রটি আরো জানায়, বাংলাদেশ থেকে শিপইয়ার্ডের দক্ষ শ্রমিক নিতে মেরিন ঈগল সার্ভিসেস এর যথেষ্ট আগ্রহ রয়েছে। সরকারের জোরালো সহযোগিতা পেলে খুব দ্রুত বিভিন্ন পর্যায়ে কয়েক হাজার দক্ষ শ্রমিক যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করার সুযোগ পাবে। কিন্তু এই সুযোগ থমকে যাচ্ছে আমলাতান্ত্রিক জটিলতায়।

3 Responses to “দূতাবাসের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন”

» Post Your Comments...

Хм..

Thank you

Хм

Post Your Comments

All comments are subject to editorial review and decision.

Free Membership. Join Now!