নিউইয়র্কে ‘মেইড ইন বাংলাদেশ’ বার্ণিজ্য মেলা আয়োজনের প্রস্তুতি এগিয়ে চলছে
বর্ণমালা নিউজ (নিউইয়র্ক): আমেরিকায় বাংলাদেশী পণ্যের বাজার সৃষ্টিতে আমেরিকান-বাংলাদেশী প্রতিষ্ঠান ফার্স্ট মাল্টিপারপাস সার্ভিস (এফএমএস)-উদ্যোগে ১৭ থেকে ১৯ অক্টোবর নিউইয়র্কের ম্যানহাটানের প্যান প্লাজা প্যাভিলিয়নে অনুষ্ঠিতব্য ‘মেইড ইন বাংলাদেশ’ বার্ণিজ্য মেলাকে বাংলাদেশ সরকারের রপ্তানী উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) অনুমোদন করে একে সফল করতে সকল প্রকার সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। ইপিবি’র এই অনুমোদন লাভ এবং মেলা আয়োজনের প্রস্তুতির সর্বশেষ অগ্রগতি তুলে ধরতে এফএমএস গত ২৬ সেপ্টেম্বও তাদের স্টেইন ওয়ে স্ট্রীটের কর্পোরেট অফিসে আয়োজন করেছিলো এক সংবাদ সমেমলন ও ইফতার পার্টির।
ইফতার পূর্ব সংক্ষিপ্ত সংবাদ সমেমলনে এফএমএস’র প্রেসিডেন্ট ও সিইও হোসেন জব্বার শৈবাল ইপিবি’র অনুমোদ লাভের আনন্দ সংবাদটি প্রকাশ করে ‘মেইড ইন বাংলাদেশ’ বাণিজ্য মেলা আয়োজনে প্রবাসের ব্যবসায়ী সমাজ ও সাধারন প্রবাসীদের সহযোগিতা কামনা করেন। শৈবাল জানান, গত ২২ সেপ্টেম্বর ঢাকায় ইপিবি’র সমেমলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সমেমলনে ইপিবি’র মহা পরিচালক খলিলুর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিতব্য ‘মেইড ইন বাংলাদেশ’ বার্ণিজ্য মেলাকে সহযোগিতার কথা ঘোষণা দেন। সেই সংবাদ সমেমলনে মেলায় অংশ গ্রহনে নিবন্ধীকৃত প্রতিষ্ঠানসহ ৮২টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সমেমলনে ইপিবি’র মহা পরিচালক বলেছেন, আমেরিকার বিশাল বাজাওে বাংলাদেশী পণ্য রপ্তানী ও বাজার সৃষ্ঠি সরকারের একার পক্ষে সম্ভব নয়, এক্ষেত্রে বেসরকারী উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। নিউইয়র্ক ভিত্তিক এফএমএস এই কাজে এগিয়ে আসায় তাদেরকে ইপিবি’র পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা দেয়ার পাশাপাশি ইপিবি এই মেলায় অংশ নিবে।
সংবাদ সমেমলনে হোসেন জব্বার শৈবাল সহযোগিতা করেন ‘মেইড ইন বাংলাদেশ’ বার্ণিজ্য মেলার চীফ কো অর্ডিনেটর মাহফুজুর রহামন খান রুবেল, রোয়েনা খান ও সঙ্গীত শিল্পী আজাদ। চীফ কো অর্ডিনেটর রুবেল জানান, এ পর্যন্ত বাংলাদেশের ৭১টি প্রতিষ্ঠান মেলায় অংশ গ্রহনের জন্য নির্ধারিত ফি দিয়ে নিবন্ধন করেছে। রোয়েনা খান জানান, আমেরিকার প্রায় সাড়ে তিনশ ক্রেতার তালিকা বাছাই করে তাদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করা হচ্ছে মেলায় তাদের উপিস্িথতি করতে। মেলার সাংষকৃতিক পর্বের প্রসঙ্গে কথা বলেন শিল্পী আজাদ।
তিনদিনব্যাপী মেলা শুরু হবে ১৭ অক্টোবর শুক্রবার দুপুর ১২ টায়। এদিন সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত হবে বর্ণাঢ্য আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। শেষের দুদিনে থাকবে বাংলাদেশের রপ্তানী বাণিজ্য সংক্রান্ত বিষয়ে সেমিনার। তিন দিনই থাকবে সাংষকৃতিক অনুষ্ঠান। এতে অংশ নিবে প্রবাসের সাংষকৃতিক সংগঠনগুলো। এছাড়াও প্রবাসের জনপ্রিয় শিল্পীরাও সঙ্গীত পরিবেশন করবেন।
সাভারে হায় হায় কোম্পানীর নামে সংখ্যালঘুদের সম্পত্তি ইজারা
ওমর আলী, (ঢাকা) ঃ ভুমিদস্যুদের দৌরাত্ম্যে দিশেহারা হয়ে পড়েছে সাভার অঞ্চলের মানুষ। জেলা প্রশাসন ও ভূমি অফিসের সংশ্লিষ্টদের যোগসাজশে জমিদারি আমলের পাট্টামুলে কেনা জমিকে ‘অকৃষি’ খাস দেখিয়ে প্রভাবশালীমহল নামে-বেনামে ইজারা নিয়ে দখলের পাঁয়তারা করছে। উপজেলার খৃষ্টান অধ্যুষিত মিটন, কৃষ্ণপুর. কমলাপুর, ধরেন্ডা ও রাজাশনের অধিবাসীদের শত বছরের পৈত্রিক সম্পত্তি দখলের নেপথ্যে রয়েছেন অনেক উঁচুতলার মানুষ। চারদলীয় জোট সরকারের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরেরও সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ পাওয়া গেছে। অপরদিকে অবৈধ ইজারা বাতিলের দাবিতে বৈধ মালিকরা আদালতে গিয়েও কোনো কুল কিনারা করতে পারছেন না। মিথ্যা মামলা দিয়ে উল্টো তাদেরকেই ফাঁসিয়ে দেয়া হচ্ছে।
রাজধানীর উপকন্ঠে সাভার উপজেলা সদর থেকে ৫ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে অবস্থিত মিটন ও কৃষ্ণপুর গ্রাম। ছলিয়া মৌজার আরএস খতিয়ানের ৩২৩, ৩৬৮ ও ৩৭৪ দাগের ১০ একর জমি খাস খতিয়ানভুক্ত করে ‘অকৃষি’ হিসেবে ইজারা দেয়া হয় বাংলাদেশ থাই মাল্টিপল এগ্রোফিসারিজ নামের একটি সাইনবোর্ড সর্বস্ব কোম্পানীকে। তিন বছর আগে ঢাকার জেলা প্রশাসক ৯৯ বছরের জন্য ইজারা দেন। উক্ত কোম্পানীর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মির্জা হাফিজুর রহমান সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরের মামাতো ভাই।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, জমিদার হরেন্দ্রনাথ রায় চৌধুরীর কাছ থেকে একশ তিরিশ বছর আগে উক্ত জমির একাংশ পাট্টামূলে কিনেন মিটনের শেখ ডাকু মিয়া (৩.৪৯ একর) ও ছিনু পালমা (২.৯৭)। বাকি অংশ ঢাকার নবাব এস্টেট থেকে কিনেন কৃষ্ণপুরের হাকিম আলী। ১৯৫০ সালে জমিদারি প্রথা বিলুপ্ত হওয়ার পর প্রজারা পাট্টামুলে কেনা ওইসব জমির মালিক হয়ে যান। ১৯৫৬ সালে এসএ রেকর্ড হয় তাদের নামে। তারপর নিয়মিত খাজনা দিয়ে তারা ভোগ দখল করে আসছিলো।
স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু খাজনা মাফ করে দেন। বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুর পর ৭৮ সালে পুনরায় খাজনা প্রথা চালু। তখন খাজনা দিতে গিয়েই তারা জানতে পারেন হিন্দু রাজাদের ওইসব জমি খাস খতিয়ানভুক্ত হয়ে গেছে। তারপর খাস খতিয়ানে অন্তর্ভূক্তি বাতিল ও খাজনা নিতে ৮৫ সালে তারা মামলা করে। প্রায় ১৮ বছর পর ২০০২ সালের ১৩ নভেম্বর তাদের পক্ষে মামলার রায় দেয় অর্থঋণ আদালতের যুগ্ম জেলা জজ। কোর্টে রায়ে জমির মালিকানা পেলেও ভূমিদস্যুদের হাত থেকে নিষকৃতি মেলেনি।
মিটনের শেখ ডাকু মিয়ার পুত্র কৃষিজীবি ইমান আলী (৮০) জানান, ‘ব্রিটিশ গেলো, আইয়ুব গেলো, দেশ স্বাধীন কইরা বঙ্গবন্ধু আইলো, কেউ আমাগো জমির উপর চোখ ফালায় নাই। অহন হুনতাছি অমুক মন্ত্রী পুরা গেরামের দখল নিবো। বাপের জমি থুইয়া যামু কই? মরলে এইহানেই মরুম। তাও দখল ছাড়ুম না’।
ইমান আলীর ভাতিজা নুরুল হক (৪৫) বাংলাদেশ থাই মাল্টিপল এগ্রোফিসারিজের নামে তাদের বৈধ জমি সরকার ইজারা দেয়ায় ২০০৫ সালের ২৪ অক্টোবর যুগ্ম জেলা জজের আদালতে মামলা করেন। আদালতের স্থিতাদেশ নিয়ে বাড়ি ফিরেও স্বস্তি মিলেনি। হঠাৎ একদিন গ্রেফতার হয় নুরুল হক। সাভার থানার এসআই সাইফুল ইসলাম তাকে জেএমবি সন্দেহ করে চালান দেয়। তারপর এলাকাবাসীর প্রবল আন্দোলনের মুখে গেস্খফতার হওয়ার ১০ দিন পর তিনি জামিনে মুক্তি পান।
এ ব্যাপারে নুরুল হক বলেন, ‘আমাকে অহেতুক জঙ্গি আখ্যায়িত করে পুলিশ জেল খাটালো। জেএমবির নাম শুনে কোনো উকিল আমার জামিনের জন্য কোর্টে উঠতে চায়নি। আমাকে কেনো জেএমবি বলে আটক করা হলো? নিজের বাপ-দাদার জমি রক্ষার জন্য আইনের আশ্রয় নিয়ে আমিতো কোনো অপরাধ করিনি। আমরা নিচুতলার মানুষ। স্বাধীনতার চেহারা কোনোদিন দেখিনি’। তিনি প্রবাসী মানবাধিকার সংগঠনসহ আইনজীবিদের নিকট এ ব্যপারে সহযোগীতা চেয়েছেন (যোগাযোগঃ মোবাইল- ০১৯১১ ৫৩৪ ৩৩৮)। মামলার ধীরগতির কারনে সুষ্ঠু বিচার নিয়ে সন্দিহান ছিনু পালমার দৌহিত্র অমল পালমা। তিনি বলেন, ‘মামলা প্রায় তিন মাস পর পর আদালতে উঠে। কবে রায় হবে কে জানে। সরকার পরিবর্তনের পর আবারো তাদের জমি দখল হয়ে যাওয়ার আশংকা তাঁর। তিনি অবিলম্বে অবৈধ ইজারা বাতিলের দাবি জানান।
Evergreen Bangla Community
…
Видел уже где то…
…
Спс …
…
Хм …
…
Thank you …