মালয়েশিয়ায় হাইকমিশনের কোটিপতি কর্মচারীর বিদায় : চাঞ্চল্যকর দুর্নীতির অভিযোগ

গৌতম রায়: বহু জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে শেষ পর্যন্ত মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ হাইকমিশন থেকে অপসারিত হয়েছে লেবার কাউন্সিলারের বহুল আলোচিত কোটিপতি কর্মচারী মোঃ শাজাহান মিয়া। মালয়েশিয়ায় জনশক্তি রপ্তানীতে দুর্নীতির মাধ্যমে কয়েক মাসেই বহুকোটি টাকার মালিক হয়েছেন তিনি। বিভিন্ন সূত্রমতে তার অসদোপায়ে উপার্জিত অর্থের পরিমান ১০ কোটি টাকার উপর হবে। জনশক্তি রপ্তানীকে ঘিরে মালয়েশিয়ায় যে অস্থিরতা বিরাজ করেছে তার জন্য অন্যতম দায়ী এই শাজাহান মিয়া। তার বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় অভিযোগ বিপুল অংকের টাকায় তিনি অসাধু আদম বেপারীদের শত শত ভূয়া কাজের ফাইল অনুমোদন করিয়ে দিয়েছেন। টাকা ছাড়া কোন ফাইলই চলতো না। পরবর্তীতে ঐসব ভূয়া কাজে হাজার হাজার শ্রমিক এসে দিনের পর দিন মালয়েশিয়ায় মানবেতর জীবন যাপন করেছে। তাকে খুশী করাতে না পারলে শ্রমিক রপ্তানীর ফাইল হারিয়ে যেত, ডাষ্টবিন বা কার্পেটের তলায় পরে থাকতো। তিনি অবৈধ সুবিধার জন্য হাইকমিশনে একটি সিন্ডিকেট চক্র গড়ে তুলেছিলেন। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত দরোজা বন্ধ করে চলেছে লেন দেনের গোপন হিসাব নিকাশ। হাইকমিশনে তার দূর্নীতি ছিল ওপেন সিক্রেট। গর্ব করে তিনি বলেন, গত বছর এমন দিন গেছে ২০ হাজার রিঙ্গিত (প্রায় ৪ লাখ টাকা) না নিয়ে বাসায় গেলে রাতে ভালো ঘুম হতো না। কিন্তু বাংলাদেশের মিডিয়া তার এই আয়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। গত বছর সংশ্লিষ্ট সচিবের নেতৃত্বে একটি তদন্তকারী দল মালয়েশিয়া এসে তার দুর্নীতি অনিয়মের প্রমান পেলে তাকে ঢাকায় বদলীর আদেশ করা হয়। কিন্তু তারপরও প্রায় ১ বছর তিনি বিভিন্ন অজুহাতে কর্মরত থাকেন। তবে হাইকমিশনেরই একটি গোপন সূত্র জানায়, ২০ লাখ টাকার বিনিময়ে তিনি তখন ঐ বদলীর আদেশ ঠেকাতে সক্ষম হয়েছিলেন। এমনকি মালয়েশিয়া সফরে আসা বিভিন্ন মাধ্যমকে মোটা অংকের টাকা দিয়ে সবকিছু ধামাচাপা দেবার চেষ্টা করতেন। কিন্তু দেশের পত্র পত্রিকায় ক্রমশঃ তার দুর্নীতির সংবাদ প্রচার হলে সরকার তাকে ষ্ট্যান্ড রিলীজ করে। কিন্তু অবাক ব্যাপার হচ্ছে, ষ্ট্যান্ড রিলীজ হবার পরও অদৃশ্য সূতোর টানে বহুদিন তিনি বহাল তবীয়তেই বাংলাদেশ হাইকমিশনে কর্মরত ছিলেন। বারবার তার বিরুদ্ধে ব্যাবস্থা নেবার উদ্যোগের কথা প্রচার হলেও রহস্যজনক কারনে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হয়নি। কাজেই মালয়েশিয়ায় শ্রমিক রপ্তানীতে ভয়াবহ দুর্নীতির অভিযোগ থাকলেও সৌভাগ্যবশতঃ রেহাই পেয়েছেন লেবার কাউন্সিলের সহকারী কোটিপতি কর্মচারী শাজাহান মিয়া।
মোঃ শাজাহান মিয়ার একটি ঘনিষ্ঠ সূত্র জানায় - মালয়েশিয়া, বাংলাদেশ ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন ব্যাংকে তার বিপুল অংকের টাকা জমা রয়েছে। এর আগে কুয়েতে বাংলাদেশ হাইকমিশনে চাকুরীরত থাকা অবস্থায় জনশক্তি রপ্তানীর অনুরূপ দুর্নীতির মাধ্যমেও অনেক টাকার মালিক হয়েছেন। তখনকার অসদোপার্জিত পুরো টাকাই দেশে কাজে লাগাতে পারলেও এবার তা করতে পারেন নি বর্তমান সরকারের ভয়ে। তিনি এখন চাকুরী হারানোর কোন ভয় করেন না বলেও ঐ সূত্রটি জানায়। চাকুরী চলে গেলে আবার তিনি মালয়েশিয়া এসে ব্যাবসা করবেন। মালয়েশিয়ায় ব্যাবসার পরিকল্পনা চুড়ান্তও করে রেখেছেন বলে সূত্রমতে জানা গেছে। তবে প্রবাসী বাংলাদেশীদের দাবী - যেভাবে এক বনরাক্ষসকে ধরে সরকার জনগনের প্রশংসা লাভ করেছিল, ঠিক তেমনি এই ধূর্ত কর্মচারীর বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যাবস্থা নিতে পারলে প্রবাসীদের কাছেও অনুরূপ প্রশংসা পাবে সরকার। তার আয়ের উৎস তদন্ত করলে আরো অনেক চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসবে বলে জানিয়েছে তারই ঐ ঘনিষ্ঠ সূত্রটি।

সূত্রঃ এনওয়াই নিউইয়র্ক।

Bangla Community News Tags: , , ,

Related Bangla Community News:

Post Your Comments

All comments are subject to editorial review and decision.

*
To prove you're a person (not a spam script), type the security text shown in the picture. Click here to regenerate some new text.
Click to hear an audio file of the anti-spam word

Free Membership. Join Now!