অস্ট্রেলিয়ায় জাতীয় শোকদিবসের আলোচনা সভা
অস্ট্রেলিয়ায় জাতীয় শোকদিবসের আলোচনা সভায় জেনারেল সুবিদ আলী ভূঁইয়া
জেনারেলদের ক্ষমতায় আসার সুযোগ করে দেয় রাজনীতিবিদরাই
সিডনি,২৮ আগস্টঃ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৩৩তম শাহাদাৎ বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে গত ২৩ আগষ্ট , শনিবার সন্ধ্যা ৬টায় সিডনিস্থ গ্রীন স্কয়ার কমিউনিটি হলে আওয়ামী লীগ অস্ট্রেলিয়া এক আলোচনা ও স্মরনসভার আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের শুরুতে সংগঠনের সাংগাঠনিক সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন মোল্লা উপস্থিত সবাইকে স্বাগত জানিয়ে অনুষ্ঠানের সভাপতি গাজী কামরুল হুসাইন নীলু, সংগঠনের সাধারন সম্পাদক ব্যারিস্টার সিরাজুল হক, অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি মেজর জেনারেল ( অব.) সুবিদ আলী ভূঁইয়া, বিশেষ অতিথি ম্যাকুয়ারী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনের অধ্যাপক ড. রফিকুল ইসলাম, ওয়েস্টার্ন সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনের অধ্যাপক ড. মাসুদুল হককে মঞ্চে আসন গ্রহনের আহবান জানান এবং সভা পরিচালনার দায়িত্ব সাধারন সম্পাদক ব্যারিস্টার সিরাজুল হকের কাছে হস্তান্তর করেন। অনুষ্ঠানের শুরুতেই জাতির জনক ও তাঁর পরিবারসহ ১৫ আগস্টের কালরাতে নিহত সকলের আত্মার শান্তি কামনা করে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। এরপর দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। দোয়া পরিচালনা করেন জনাব হামিদুর রহমান।
আলোচনা পর্বের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন পিএস চুন্নু। গাজী কামরুল হুসাইন নিলুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার অন্যতম উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অবঃ) সুবিদ আলী ভূঁইয়া। এছাড়া বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক ড. রফিকুল ইসলাম, অধ্যাপক ড. মাসুদুল হক, আওয়ামী লীগ অস্ট্রেলিয়ার সাধারন সম্পাদক ব্যারিষ্টার সিরাজুল হক, সিনিয়র আওয়ামী লীগ নেতা বীরমুক্তিযোদ্ধা রবিন বনিক, আওয়ামী লীগ নেতা ও অস্ট্রেলিয়া থেকে প্রকাশিত বাংলা সংবাদপত্র সোনার বাংলা’র সম্পাদক পি এস চুন্নু, আওয়ামী লীগ অস্ট্রেলিয়ার সাংগাঠনিক সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন মোল্লা, মহিলা আওয়ামী লীগ অস্ট্রেলিয়া’র সাধারন সম্পাদিকা বিলকিস জাহান, বাংলাদেশ পূজা এসোসিয়েশনের সভাপতি অসিত রায় প্রমুখ।
প্রধান অতিথি মেজর জেনারেল (অবঃ) সুবিদ আলী ভুঁইয়া বলেন, ১ / ১১’র পরিবর্তনকে দেশের মানুষ স্বাগত জানিয়েছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্বাচন হবে কিনা তা নিয়ে এখন সেই মানুষজনের মধ্যেই শংকার সৃষ্টি হয়েছে। কোরেশির দলের মতো কাজকর্ম সরকার না করলেও পারত। নির্বাচন যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে না হয় এর ভবিষ্যত যে কত ভয়ংকর হতে পারে তা ভাবতে পারি না। জরুরি অবস্থা, ১ / ১১ এর ঘটনার জন্যে রাজনীতিবিদদের দায়ী করে বলেন, রাজনীতিকরাই সেনাবাহিনীকে ক্ষমতায় আসার সুযোগ করে দেয়। এরজন্যে দেশের দূর্ভাগ্যজনক ইতিহাস হচ্ছে, সেনাবাহিনী আসলেই মানুষ স্বাগত জানায়। এটি ১৯৮২ সালেও হয়েছে। সেনাবাহিনী আসার গন্ধ পেলে এক শ্রেণীর হতাশ রাজনীতিবিদ জেনারেলদের বাসায় ঘোরাঘুরি শুরু করে। কিন্তু জেনারেলরা রাজনীতিতে দক্ষ অভিজ্ঞ নয়। এসব হতাশ রাজনীতিবিদদের নিয়ে জেনারেলরা যখন নতুন একটি দল নিয়ে চলা শুরু করে তখন দেশের মানুষ আবার হতাশ হয়। এই সরকার ক্ষমতায় এসেও আওয়ামী লীগকে নিয়ে নাড়াচাড়ার চেষ্টা করেছে। কিন্তু সে মেঘ এরই মাঝে কেটে গেছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ এখন যে কোন সময়ের চেয়ে আরো বেশি শক্তিশালী ও ঐক্যবদ্ধ।
এরশাদ এবং বেগম জিয়ার অধীনে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক দায়িত্ব পালনের পর রাজনীতিতে আসা সুবিদ আলী ভুঁইয়া বলেন, আওয়ামী লীগকে আমি কতটা ভালোবাসি জানি না। আমি বঙ্গবন্ধুকে ভালোবাসি। মুক্তিযুদ্ধের সময়কার নানা পরিস্থিতি উল্লেখ করে বলেন, বঙ্গবন্ধু জীবিত আছেন তিনি যে কোন সময় আমাদের সঙ্গে যুদ্ধে যোগ দেবেন এটি তখন মুক্তিযোদ্ধা সেনা অফিসারদের উদ্যোগে বেশি বেশি প্রচার করা হয়েছে। আমরা আসলে সেনাবাহিনীর লোকেরা যখন যুদ্ধে গেছি তখন সবকিছুতে বঙ্গবন্ধুর নাম ভাঙ্গিয়েছি। কারণ আমরা জানতাম আমাদের মিলিটারিদের কথায় দেশের মানুষ যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়বে না। বঙ্গবন্ধুর নাম ব্যবহার করাতে দলে দলে মানুষ এসে যুদ্ধে যোগ দেয়। এটি কোন সেনা অফিসারের পক্ষে সম্ভব ছিল না। কারণ সেনা অফিসারের হুইসেলে সামরিক আইন জারি করা সম্ভব। দেশ স্বাধীন করা সম্ভব নয়। সুবিদ আলী ভুঁইয়া বলেন, বঙ্গবন্ধুর সাত মার্চের ভাষনই ছিল স্বাধীনতা মূল ঘোষনা। সেদিন তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানের মহাসমাবেশে দশ লাখের বেশি মানুষ যোগ দিয়েছিল। পাকিস্তানি জান্তা প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছিল বঙ্গবন্ধু সেখানে স্বাধীনতা ঘোষনা করলে সঙ্গে সঙ্গে সামরিক এ্যাকশন নেবার প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছিল পাকিস্তানি জান্তা। বঙ্গবন্ধু সেটি জানতেন বলে কৌশলের আশ্রয় নেন। ‘আমি যদি নির্দেশ দিবার নাও পারি’, ‘ঘরে ঘরে দূর্গ গড়ে তোল’, ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সঙগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’ এসব আহবানের মাধ্যমে স্বাধীনতার ঘোষনা বলতে যা যা বোঝায় এর সবই বঙ্গবন্ধু তাঁর সাত মার্চের ভাষনে দিয়ে গেছেন। সেই বঙ্গবন্ধু রক্তাক্ত লাশ বত্রিশ নম্বরের সিঁড়িতে পড়েছিল! একবার কল্পনা করে দেখুন। বাঙ্গালির জন্যে এরচেয়ে বড় কলঙ্কের আর কি হতে পারে!
অধ্যাপক ড. রফিকুল ইসলাম বলেন সেই পাকিস্তান আমলের গোলাম মোহামমদ থেকে শুরু করে বিএনপি-জামায়াত এরা কোনদিন স্বাধীনতার পক্ষে ছিল না। গোলাম আজম, নিজামী এদেরকে রাজনীতির বাইরে রাখার জন্যেও কখনোও নেয়া হয়নি কোন এ্যাকশন প্ল্যান। ক্ষমতায় গিয়ে শাসনতন্ত্রের ত্রয়োদশ সংশোধনী পর্যালোচনা করেনি আওয়ামী লীগ। বর্তমান তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতায় বসে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সম্পর্কেও নতুন এক পরিস্থিতির সৃষ্টি করে ফেলেছে। বিচারপতি সাহাবুুদ্দিন বা অন্য কারো আমলে এ অবস্থা হযনি। আওয়ামী লীগ ঘরানার রাজনীতিতে ঐক্যের আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, ঐক্য ছাড়া জামায়াত আর রাজনীতির বিরোধী শক্তিকে মোকাবেলার কোন সহজ পথ নেই।
আলোচনা পর্বের পর ছিলো জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনৈতিক জীবনের ওপর নির্মিত ‘‘ মৃত্যুঞ্জয়ী মুজিব’’ প্রদর্শিত হয়। এ স্বল্পদৈর্ঘ্য ডকুমেন্টারীটি তৈরি করেছেন কানাডার টরন্টো থেকে প্রচারিত বাংলা টেলিভিশন.নেট। অনুষ্ঠানে উপস্থিত সুধীজনকে নৈশভোজে আপ্যায়িত করা হয় সংগঠনের পক্ষ থেকে।
Bangla Community News Tags: অস্ট্রেলিয়া, আওয়ামী লীগ, কানাডা, বঙ্গবন্ধু, বিএনপি, শেখ হাসিনা
Evergreen Bangla Community
Post Your Comments