কুয়েত সরকারের আশ্বাসে বাংলাদেশী শ্রমিকদের ধর্মঘট প্রত্যাহার

বেতনসহ সব সমস্যা সমাধানের ব্যাপারে কুয়েত সরকারের আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে গত মঙ্গলবার ধর্মঘট প্রত্যাহার করে নিয়েছেন সেদেশে অভিবাসী বাংলাদেশী শ্রমিকরা। শুধু বাংলাদেশী শ্রমিকরাই নন, আন্দোলনে অংশ নেওয়া দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের শ্রমিকরাও কাজে যোগ দিয়েছেন। তবে সেদেশের কর্তৃপক্ষ শ্রমিক ছাঁটাই এবং কুয়েতি পুলিশ শ্রমিকদের ধরপাকড় অব্যাহত রেখেছে। কুয়েতের বার্তা সংস্থা কুনা সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।

কুনার তথ্য অনুযায়ি, বেতনসহ বিভিন্ন সমস্যার ব্যাপারে সরকারের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছেছেন বাংলাদেশী শ্রমিকরা। কুয়েত সরকার ধর্মঘট তুলে নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে শ্রমিকদের দাবি-দাওয়া মেনে নেওয়ার আশ্বাস দেয়। এই সমঝোতার পরপরই শ্রমিকরা যার যার কাজে ফিরে যান। তবে সেদেশের সরকার শ্রমিকদের হুঁশিয়ার করে দিয়ে জানায়, কেউ যদি বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে তবে তাকে ছাঁটাই করা হবে। বার্তা সংস্থা কুনা আরো জানায়, কুয়েতের শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী আহমেদ বাকের বলেছেন, তার সরকার বাংলাদেশীসহ সকল শ্রমিকের অভিযোগ এবং প্রকৃত অবস্থা তদনত্ম করে দেখবে। সংশি-ষ্ট বিষয়ে কুয়েতি মন্ত্রী পরিষদের বৈঠকের পর আহমেদ বাকের কুনাকে জানান, শ্রমিকরা যাতে নিয়মিত বেতন-ভাতা পান এ বিষয়টি নিশ্চিত করবে
সরকার। তারপরও যদি তারা মনে করেন তারা ন্যায়বিচার পাচ্ছেন না, তাহলে শ্রমিকদের উচিত হবে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় ও লেবার কোর্টে যাওয়া।

কুনা আরো জানায়, ৩০০ আন্দোলনকারীকে তাদের পাওনা বুঝিয়ে দেয়ার পর কাজ থেকে ছাঁটাই করা হয়েছে। আর এই ঘটনা শ্রমিকদের মধ্যে নতুন করে অসনেত্মাষের জন্ম দিয়েছে।

উলে-খ্য, বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম তেল উত্তোলক দেশ কুয়েতে বেতন-ভাতা বাড়ানো ও কাজের পরিবেশ উন্নত করার দাবিতে গত কয়েকদিন আগে দক্ষিণ এশীয় শ্রমিকরা ধর্মঘট শুর“ করেন। আর এই ধর্মঘটকারি শ্রমিকদের মধ্যে অভিবাসী বাংলাদেশিদের সংখ্যাই বেশি। এই ধর্মঘটের ইন্ধনদাতা হিসেবে চিহ্নিত করে কুয়েত সরকার বিশেষভাবে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে বাংলাদেশী কর্মীদের ওপর। সেদেশের সরকার ইতিমধ্যে বাংলাদেশী শ্রমিকদের দেশে ফেরত পাঠানোর হুমকিও দিয়েছে। আর কুয়েতে কর্মরত বাংলাদেশী কর্মীদের আন্দোলন ও অবস্থানের এই জটিল পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ সরকার কূটনৈতিক তৎপরতার পাশাপাশি সেদেশে কর্মরত শ্রমিকদের সতর্ক করে দেয় এবং কাজে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানায়। তার একদিন পরই এই সমঝোতা প্রতিষ্ঠিত হয়। তবে সমঝোতা হলেও তা যে কার্যকার হয়নি শ্রমিক ছাঁটাই ও ধরপাকড়ই তার প্রমাণ।
কুয়েতে বর্তমানে দেড় লাখ বাংলাদেশী শ্রমিক কাজ করছেন। এই পরিস্থিতি দ্র“ত সামাল দেওয়া না গেলে বৈদেশিক কর্মসংস্থান খাতে বড় ধরণের বিপর্যয়ের আশংকা করছে সরকার।

Bangla Community News Tags:

Related Bangla Community News:

Post Your Comments

All comments are subject to editorial review and decision.

*
To prove you're a person (not a spam script), type the security text shown in the picture. Click here to regenerate some new text.
Click to hear an audio file of the anti-spam word

Free Membership. Join Now!