মালয়েশিয়ায় একজন সফল প্রবাসী ও খ্যাতির বিড়ম্বনা

যে সময় মালয়েশিয়ায় বহু বাংলাদেশী শ্রমিক চরম মানবেতর জীবনযাপন করছেন, ঠিক তখনই তার পাশাপাশি দেখা যাচ্ছে কয়েকজন প্রবাসী বাংলাদেশীও সবকিছু ছাপিয়ে ঈর্ষনীয় অবস্থানে রয়েছেন। এমন একজন আলোকিত মুখ ড. মাসুম বিল্লাহ্‌। এদেশে যার ভূমিকা রীতিমত বাংলাদেশীদের মুখোজ্জ্বল করছে। মালয়েশিয়াসহ মুসলিম বিশ্বের অথনৈতিক কর্মকান্ডে রয়েছে তার বিষ্ময়কর পদচারনা ।

প্রফেসার ড. মাসুম বিল্লাহ্‌ ১৯৮৭ সালে ফুলব্রাইট স্কলারশীপ নিয়ে মালয়েশিয়া আসেন এবং আমেরিকা থেকে এম,বি,এ. ও ডাবল পি,এইচ,ডি লাভ করেন। খুব অল্প বয়সেই তিনি ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব মালয়েশিয়া, সৌদি আরব, আমেরিকা ও সিঙ্গাপুরসহ অনেক নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করেছেন। ব্যাংক নেগারার (মালয়েশিয়ার জাতীয় ব্যাংক) সাবেক উপদেষ্টা ও বর্তমানে মালয়েশিয়ার শীর্ষস্থানীয় ব্যাংক আর এস বি ব্যাংকসহ বিশ্বের বহু ব্যাংক ও ব্যাবসা প্রতিষ্ঠানের তিনি বোর্ড অব ডিরেক্টর ও উপদেষ্টা। বিশ্বের প্রথম ১০ জন ইসলামিক ফাইন্যান্স স্কলারের মধ্যে তিনি অন্যতম। ইসলামিক অর্থনীতি বিষয়ক বহু গ্রন্থেরও প্রণেতা তিনি। দেশের এই কৃতি সন্তানের জন্ম বাগেরহাটের শরনখোলা উপজেলার ধানসাগর ইউনিয়নে। মরহুম মাওলানা নূর মোহামমদ সাহেবের কনিষ্ট পুত্র অধ্যাপক ড. মাসুম বিল্লাহ্‌ দীর্ঘদিন প্রবাসে থেকেও দেশের মানুষের কল্যানে তিনি উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছেন। এলাকায় তিনি স্কুল-কলেজ, মসজিদ, মাদ্রাসা, দাতব্য চিকিৎসালয় গড়ে তুলেছেন। শরনখোলায় নিজ অর্থায়নে বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে স্থাপন করেছেন একটি টেকনিক্যাল কলেজ। এসমস্ত জনহিতকর প্রতিষ্ঠান পরিচালনার জন্য একটি ট্রাষ্টিবোর্ডও গঠন করেছেন। অনুর্ধ ৪০ বছরেই তিনি এখন ইসলামী অর্থনীতি ও বিনিয়োগ বিষয়ে মুসলিম বিশ্বে ব্যাপক পরিচিত ও গুরুত্বপূর্ন ব্যাক্তি হয়ে উঠেছেন। কিন্তু গেঁয়ো যোগী ভিখ পায় না। মাসুম বিল্লাহ্‌র অভিযোগ, আমার এসব জনকল্যানমুখী কর্মকান্ডে ঈর্ষান্বিত হয়ে আমারই এলাকায় একটি কুচক্রীমহল ক্ষতির অপচেষ্টা চালাচ্ছে। তিনি মানসমমানের ভয়ে এখনো পর্যন্ত কারো বিরুদ্ধে কোন মামলা মোকাদ্দমায় জড়িত হতে চাননি বলে জানান। তিনি বলেন, আমার কোন রাজনৈতিক উচ্চাভিলাসিতা নেই। তাহলে কেন এসব হচ্ছে? তিনি আরো বলেন, নির্ভরযোগ্যসূত্রে জানতে পেরেছি, ২০০৫ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর বাগেরহাটের দক্ষিনাঞ্চলে এক গোপন বৈঠকে কতিপয় লোক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, যেকোন বিনিময়ে মাসুম বিল্লাহ্‌কে বাগেরহাটে ঢুকতে দেয়া হবে না। আমি এলাকার উন্নয়ন করলে তাদের প্রভাব ক্ষুন্ন হতে পারে বা তাদের বিভিন্ন অপকর্মের বিরুদ্ধে মানুষ ক্ষিপ্ত হয়ে উঠতে পারে এমন অজানা আশংকাও তাদের মাঝে কাজ করতে পারে। তিনি বলেন, যারা সুন্দরবন অঞ্চলে সন্ত্রাসী কার্যকলাপের সাথে জড়িত, পিলার চুরি, ভারতীয় পন্য চোরাচালান ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বিভিন্ন হয়রানী-নির্যাতনের সাথে জড়িত তাদের লেলিয়ে দেয়া হচ্ছে আমার ও আমার প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। তার কলেজে অসদোপায় অবলম্বনের কারনে কলেজ থেকে বহিস্কৃত ব্যাক্তিবর্গও এর নেপথ্যে জড়িত আছেন বলে তিনি জানান। মালয়েশিয়ায় বিবাহিত ড. মাসুম বিল্লাহ্‌ বলেন আমি মোড়লগঞ্জ-শরনখোলা এলাকাকে বাংলাদেশের দুবাই বানাতে চাই। বাংলাদেশের কোনপ্রকার অর্থায়ন ছাড়াই আমি বহিঃবিশ্বের সহযোগিতায় যেসব উন্নয়ন পরিকল্পনা দেশের কল্যানে নিয়েছি এর মধ্যে প্রতিটি উপজেলায় হাসপাতাল নির্মান, স্বল্পমূল্যে হাউজিং ব্যাবস্থা, হাইওয়ে সম্প্রসারন, বড় বড় শহরে মনোরেল চালু, আধুনিক বিদ্যুৎ ও পানি ব্যাবস্থার উন্নয়ন ইত্যাদি প্রধান লক্ষ্য। সুন্দরবনসহ দেশের বিভিন্ন পর্যটন শিল্পে ব্যাপক বিনিয়োগ পরিকল্পনাও তার রয়েছে বলেও আশাবাদ ব্যাক্ত করেন। এছাড়া মোড়লগঞ্জের নদীতে সেতু নির্মানের পরিকল্পনাও রয়েছে। তিনি বলেন, সবকিছু নির্ভর করছে সরকারী সহযোগীতা, দেশবাসীর সমর্থন ও সন্ত্রাসমুক্ত স্থিতিশীল পরিবেশ। যে লক্ষ্যে বর্তমান সরকার চেষ্টা চালাচ্ছে। এ ধারা অব্যাহত থাকলে অবশ্যই বাংলাদেশ বিশ্বে মাথা তুলে দাঁড়াবে। অধ্যাপক ড. মাসুম বিল্লাহ্‌ সকল ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ থেকে দেশ গড়ার কাজে সবাইকে অংশগ্রহনের আহ্বান জানান।

আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন অর্থনীতিবিদ ও বিনিয়োগ বিশেষজ্ঞ মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ বংশোদ্ভুত প্রফেসার ড.মাসুম বিল্লাহ্‌র প্রায় হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ পরিকল্পনাই এখন হুমকীর মুখে স্থানীয় কুচক্রীমহলের কারনে। তিনি বলেন, স্থানীয় ঐ মহলটি ছিঁচকে সন্ত্রাসীদের যোগসাজসে তাকে টেলিফোনে হুমকী দিচ্ছে কয়েক লাখ টাকা চাঁদা দেবার জন্য। এছাড়া বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলায় তার অনুদানে প্রতিষ্ঠিত ড.মাসুম বিল্লাহ্‌ টেকনিক্যাল কলেজটিও বহুমুখী ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে বন্ধ হবার উপক্রম হয়েছে। এলাকার সকল শ্রেনীর মানুষ তার উন্নয়ণমূলক কাজে আন্তরিক সহযোগীতা করলেও একটি ক্ষুদ্র মহল তার নিকটাত্মীয়দের বিভিন্ন ভয় ভীতি ও হুমকী দিচ্ছে। এমনকি তার আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার লক্ষ্যে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপপ্রচার ও সাজানো মামলা দিয়ে এলাকাবাসীকে ঐ মহলটি বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, আমি বিশ্বের যেখানে যে অবস্থায়ই থাকি না কেন, আমার শিকর কিন্তু বাংলাদেশে। আমি আমার মাতৃভূমির জন্য কাজ করতে চাই। বিশ্বের বৃহৎ রাষ্ট্রগুলোর বিনিয়োগের মাধ্যমে মালয়েশিয়ার অর্থনৈতিক উন্নয়নে যেমন ভূমিকা রেখেছি তেমনি আমি আমার জন্মভূমির কল্যানেও ভুমিকা রাখতে চাই। মধ্যপ্রচ্য, চীন, জাপান, জার্মান, ইতালী, বৃটেন, কানাডা ও ফ্রান্সসহ বিভিন্ন দেশের বিনিয়োগ আমি বাংলাদেশে নিয়ে আসতে পারি। দেশের বিভিন্ন খাতে কমপক্ষে কয়েক হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগের পরিকল্পনা আমার রয়েছে। বাংলাদেশেও বর্তমানে বিনিয়োগের সেরকম পরিবেশ তৈরী হয়েছে। দেশের সর্বিক উন্নয়নে তিনি প্রথমেই সন্ত্রাসমুক্ত সমাজ গঠনের আহ্বান জানান।

Bangla Community News Tags: , , , ,

Related Bangla Community News:

Post Your Comments

All comments are subject to editorial review and decision.

*
To prove you're a person (not a spam script), type the security text shown in the picture. Click here to regenerate some new text.
Click to hear an audio file of the anti-spam word

Free Membership. Join Now!