যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশী সিটি কাউন্সিলম্যান গ্রেফতার
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশী সিটি কাউন্সিলম্যান গ্রেফতার
রাজনৈতিক ভবিষ্যত ধ্বংস করার ভয়াবহ চক্রান্ত?
নিউজ ওয়ার্ল্ড, মিশিগান থেকে: যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশী কমিউনিটির প্রথম কাউন্সিলম্যান শিহাব আহমদ সুমিনের গ্রেফতার এবং তৎপরবর্তী ঘটনা পরসপরা সুমিনের সম্ভাবনাময় রাজনৈতিক ভবিষ্যতকে ধ্বংস করার এক সুগভীর চক্রান্ত বলে মনে করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য যে, গত শনিবার সকাল ১১টার দিকে স্ত্রীর সাথে বাদানুবাদের কারণে শাহাব আহমদ সুমিনকে গ্রেফতার করে হ্যামট্রামক সিটি পুলিশ। ঘটনা সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদের পর কোন অভিযোগ গঠন (চার্জ) ছাড়াই মুক্তি দেয় পুলিশ। সুমিন এখন তার হ্যামট্রমাকের বাড়ীতে স্ত্রী লিসা ও দুই সন্তান সহ অবস্থান করছেন।
সুমিনের স্ত্রী লিসা আহমেদ বলেন, একটি কার সীট নিয়ে আমাদের মধ্যকার বাদানুবাদকে কেন্দ্র করে একটি অস্বাভাবিক অবস্থা সৃষ্টির চক্রান্ত হয়েছে।
তিনি বলেন, আমার স্বামী দীর্ঘদিন থেকেই জনগনের তরে নিজের মেধা, শ্রম ও মননকে ব্যায়িত করছেন। এধরনের একজন মানুষকে নিয়ে যা করা হয়েছে তা সত্যিই দুঃখজনক।
লিসা বলেন, যে কারো পরিবারেই স্বামী স্ত্রীর মধ্যে মতান্তর মতভেদ হতে পারে। এটাই স্বাভাবিক। আমাদের মধ্যেও এধরনের একটি ঘঠনাই ঘটেছিল। কিন্তু এটাকে কেন্দ্র করে ফলাও খবর এবং ঘটনার বিকৃতি দেখে মনে হচ্ছে মহল বিশেষ সুমিনের রাজনৈতিক ক্যারিয়ার ধ্বংসের চক্রান্ত হিসেবে এধরনের গর্হিত কাজ করছে। আমাদের পরিবারের জন্য এটা সত্যিই মর্মান্তিক।
তিনি বলেন, শাহাব আহমদ একজন রাজনৈতিক ব্যক্তি হতে পারেন। তবে একই সাথে তিনি একজন মানুষ এটাও সকলকে বিবেচনায় রাখতে হবে। অন্য দশজন মানুষের ন্যায় আমাদের মধ্যেই যে কোন বিষয় নিয়ে বাদানুবাদের অর্থ এটা নয় যে, আমি ভায়োলেন্সের শিকার। এছাড়া আরো মুখরোচক বিভিন্ন গল্প বাজারে ছাড়া হচ্ছে এসবই ষড়যন্ত্রের অংশ।
তিনি বলেন, আমাদের কমিউনিটির কিছু লোককে এজন্য তারা অস্ত্র হিসেবে ব্যাবহারের কৌশল নিয়েছে।
আমি সপষ্ট বলছি সুমিনের বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ পায়নি পুলিশ। এবং বিষয়টি একান্তই স্বাভাবিক পারিবারিক বিষয়। আমাদের দুটি শিশু সন্তানের ভবিষ্যত চিন্তা করে এব্যপারে সবাই দায়িত্বশীল আচরন করবেন এটাই আমাদের প্রত্যাশা।
এবিষয়ে শিহাব আহমদ সুমিনের সাথে আলাপকালে তিনি বলেন, আমার স্ত্রীর সাথে সামান্য একটি বিষয় নিয়ে কথাকাটাকাটি হয়েছিল। এটাকে বিভিন্ন মিডিয়াতে যেভাবে ফলাও করা হয়েছে তাতে মনে হচ্ছে এর পেছনে অন্য মতলব আছে। চক্রান্ত করে আমাকে গন্তব্যচ্যুত করতে পারবে না কেউ।
তিনি বলেন, আমি আমার স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে বাসাতেই অবস্থান করছি। পুলিশ এসেছিল এটা সত্যি। তারা আমাকে থানায় নিয়ে গিয়ে তাদের দায়িত্ব পালন করেছে। আবার শনিবার রাতেই বাসায় চলে এসেছি আমি। কোন অভিযোগ নেই বিধায় এমনিতেই ছাড়া পেয়েছি আমি। কিন্তু বিষয়টি নিয়ে যা করা হয়েছে তা সত্যি বিস্ময়কর।
তিনি বলেন, আমি তিন তিনবার সিটি কাউন্সিলের নির্বাচিত কাউন্সিলম্যান। ২০০৪ সালে আমি যখন মসজিদে আজান প্রসঙ্গ নিয়ে সিটি কাউন্সিলে বিল আনলাম। তখন কেউ চিন্তাও করে নাই এটা পাশ হবে। কিন্তু সকলের সহযোগীতা ও আল-াহর অশেষ রহমতে সেটা পাশ হয়েছে। যা যুক্তরাষ্ট্রের কোন সিটি কাউন্সিলের ইতিহাসের প্রথম ঘটনা।
এরপর কমিউনিটির উন্নয়নে আমি যা করেছি তাতে বাংলাদেশী হিসেবে পুরো কমিউনিটির মুখ উজ্জল হয়েছে। এটা আমার অহংকার।
এরপর গতমাসে মানবাধিকার বিল নামে একটি বিল পাশ হয়েছে। যেখানে আমি নিজেও ভোট দিয়েছি। কিন্তু কতিপয় ব্যক্তি সমকামী বিল বলে অপপ্রচার ছড়াচ্ছে। অথচ তাদের জানা উচিৎ যে বিলটি এর আগে মিশিগান স্টেট পাশ করেছে। স্টেট যখন কোন বিল পাশ করে সেখানে সিটির তেমন কিছু করার নেই।
সুমিন বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে এধরনের অনেক ঘঠনাই ঘটছে। কিন্তু কোন ধরনের অভিযোগ আমাকে নিয়ে যেভাবে হুলস্থুল করা হয়েছে তাতে মনে হয়েছে স্বার্থান্বেষীরা রাজনৈতিক ভবিষ্যত ধ্বংশ করতে এটাকে একটি ইস্যু হিসেবে নিয়েছে।
তবে আমি তাদের অপপ্রচারে মোটেই ভীত নই। কমিউনিটির লোকজনকে নিয়েই এসব এপ্রচারের জবাব দেয়া হবে।
সুমিন বলেন, আমার বিরুদ্ধে কোন ধরনের চার্জ হলে পুলিশ এমনিতেই ছেড়ে দিতো না। অবশ্যই জামিনে বের হতো হতো।
সুমিন বলেন, আগামী স্টেট রিপ্রেজেনটেটিভ নির্বাচনে একজন প্রার্থী হিসেবে আমি প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছি। আমাকে চক্ষুশুল করার এটাও অন্যতম কারণ।
জানা গেছে, শিহাব আহমদ সুমিনের বিরুদ্ধে এই অপপ্রচারের বিরুদ্ধে বাংলাদেশী কমিউনিটি ছাড়াও প্রতিবেশী ও আমেরিকানরাও বিক্ষুব্ধ বলে জানা গেছে।
Evergreen Bangla Community


Post Your Comments