বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে প্রখ্যাত সূকাভিনেতা পার্থ প্রতিম মজুমদার এর সংবর্ধনা
গত রবিবার ১৩ জুলাই বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, টরন্টোর পক্ষ থেকে প্রখ্যাত মূকাভিনেতা পার্থ প্রতিম মজুমদারকে একটি সংবর্ধনা দেয়া হয়। এটি ছিলো কেন্দ্রের ১১ তম গুনিজন সংবর্ধনা। বিশিষ্ট লেখক ও নাট্য পরিচালক আকতার হোসেন বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের পক্ষ থেকে এই অনুষ্ঠানের সমন্বয় করেন। অনুষ্ঠানের শুরুতেই কবি ও আবৃত্তি শিল্পী অনন্ত আহমেদ সবাইকে স্বাগত জানান এবং আকতার হোসেন সংক্ষেপে বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের কর্মকান্ড বর্ননা করেন। তিনি বলেন ‘ কেন্দ্র’ প্রবাসে সুস্থ সংস্কৃতির ধারাকে বহমান রাখতে কাজ করে যাচ্ছে এবং সেই সাথে বাংলা সংস্কৃতির বিভিন্ন ক্ষেত্রে যারা অবদান রাখছেন তাঁদেরকে সংবর্ধনা দিয়ে একটি দ্বায়িত্ব পালন করছে। এর মাধ্যমে বিশিষ্ট জনদেরকে কাছ থেকে শোনা, দেখা এবং তাঁদের সাথে কথা বলার একটা সুযোগ তৈরী হচ্ছ্ে সেই সাথে অনেক কিছু শেখাও যাচ্ছে। বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের পক্ষ থেকে অন্তমা ফুল দিয়ে শিল্পীকে বরন করে নেয়। প্রবাসের বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক কর্মী শেখর-ই- গোমেজ সংক্ষেপে মূকাভিনেতা পার্থ প্রতিম মজুমদারের পরিচিতি ও সাফল্য বর্ননা করেন। তিনি বলেন পার্থ প্রতিম মুজমদার একটি বিশাল ব্যক্তিত্ব। তাঁর সম্পর্কে সংক্ষেপে বলা কঠিন। পার্থ প্রতিম মজুমদার বিশ্ব মাইম জগতে একটি আলোক বর্তিকা এবং মাইম লেজেন্ড মার্সেল মার্সিও এর যোগ্য উত্তরসুরি। ১৯৮২ সনে ‘ পার্থ’ প্রথম এবং একমাত্র এশিয় যিনি মাইমের উপর বৃত্তি নিয়ে ফ্রান্সে যান মাইমের উপর পড়াশুনা করতে। ইন্টারন্যাশনাল মাইম ড্রামা স্কুলে তিনি শিক্ষা গ্রহন করেন এবং মার্সেল মার্সিও এর সংসপের্েশ আসেন। ১৯৮৬ সনে ইউনেস্কোর সদর দপ্তরে তিনি ‘ পদ্মা নদীর মাঝি’ ( একক মাইম) পরিবেশন করে প্রশংসিত হন। এরপর তিনি একে একে দেশে এবং পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে মাইম প্রদর্শন করে ব্যাপকভাবে খ্যাতি লাভ করেন এবং দেশের মুখ উজ্জ্বল করেন। তিনি পৃথিবীব্যাপী সমমান ও পুরুস্কার অর্জন করেছেন তার মধ্যে আছে মাষ্টার অব মাইম ( ইন্ডিয়া ১৯৮৭), মাষ্টার অব ওয়ার্লড ( মালেশিয়া ১৯৮৭), দি মেয়র্স এওয়ার্ড ( ইউ কে), ফোবানা এওয়ার্ড ( নিউইয়র্ক ২০০০), প্রতিক্ষা মিলিনিয়াম এওয়ার্ড ( ইউ কে ২০০০), প্রজন্ম একাত্তর ( সুইডেন ২০০৫), ইমপিরিয়াল অব মাইম ( বাংলাদেশ ২০০৮) ইত্যাদি।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যাক্তিত্ব সানজিদা রুমি, বিশিষ্ট লেখিকা ফরিদা রহমান, নাট্যাভিনেতা কাজী ওয়ালিউল ইসলাম (হেলাল), পার্থ প্রতিম মজুমদারের ছোটভাই রাজকুমার ও বিশিষ্ট চিত্রশিল্পী সৈয়দ ইকবাল।
এখানে উল্লেখ্য পুরো অনুষ্ঠানটি অনন্ত আহমেদ এর পরিকল্পনায় বিশ্বব্যাপী সরাসরি অডিও ও ভিডিও অনলাইনে সম্প্রচারিত হয়েছে। অনলাইনের শ্রোতা ও দর্শকদের পক্ষ থেকে শিল্পীর পূর্ব পরিচিত ‘কলি’ ইউ. এস. এ থেকে শিল্পীর সাথে কথোকথন করেন ও শুভেচ্ছা জানান। বাংলাদেশসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে লগইন করা অগুনিত দর্শক- শ্রোতারা টেক্সট্ এ তাঁদের শুভেচ্ছা, মন্তব্য ও প্রশ্ন দিতে থাকেন। শিল্পী সেগুলির উত্তর দেন। পরে অনলাইন কমিউনিটির পক্ষ থেকে জনাব ইফতেখার শিল্পীকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।
তারপর শুরু হয় শিল্পীর সাথে শেখর-ই-গোমেজের কথোপকথন পর্ব। শেখর চমৎকার ভাবে কিছু প্রশ্ন করেন শিল্পীকে এবং শিল্পী সেগুলির সাবলিল উত্তর দেন। প্রশ্নের উত্তরে শিল্পী বলেন যে, শিল্পীদের বাইরের চাকচিক্যটাই আমরা দেখি কিন্তু পেছনে একজন শিল্পীকে প্রতিমূহুর্তে বাঁধা ও প্রতিরকূলতার সন্মুখীন হতে হয়। একজন শিল্পীকে হতে হয় ধৈর্য্যশীল এবং নিরলস। তাইলেই তিনি বাঁধা অতিক্রম করে শিল্পকে সকলের কাছাকাছি নিয়ে যেতে পারেন। আমরা যা দেখি টিভিতে, সিনেমায় এবং মঞ্চে তা হচ্ছে একটা সম্পূর্ন এবং পরিপূর্ন উপস্থাপনা কিন্তু এর পেছনে থাকে অসংখ্য মানুষের বিরামহীন পরিশ্রম, নিষ্ঠা এবং অনুশিলন। শিল্পচর্চা খুব কঠিন একটা কাজ। সেই সাথে শিল্পচর্চার সাথে থাকতে হয় মানুষের প্রতি, দেশের প্রতি ভালোবাসা। শিল্পী বঙ্গঁসন্মেলনে তাঁর অনুষ্ঠানের অভিজ্ঞতা বর্ননা করেন এবং সহযোগিতার জন্যে সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, আমি যেখানেই থাকি বাংলাদেশকে ভালোবাসি।
কথপোকথনের শেষে প্রবাসের বিশিষ্ট কবি রোকসানা লেইস শিল্পীকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছ জানান।
অনুষ্ঠানটির চমৎকার মঞ্চসজ্জায় ছিলেন তাওহীদ বিশ্বাস শান্ত। আপ্যায়নের দ্বায়িত্বে ছিলেন সাইদা বারী, মাহফুজা আখতার, রওনাক লুনা ও রওশন অনন্ত।
আপ্যায়নের পরে ছোট একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়। এতে অংশগ্রহন করেন সানজানা ফারিন, তাওহীদ বিশ্বাস শান্ত, শেখর-ই-গোমেজ, আহমেদ হোসেন, রওনাক লুনা, অনন্ত আহমেদ প্রমূখ।
Evergreen Bangla Community
Post Your Comments