‘যতদিন বাংলাদেশ থাকবে ততদিন যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চাইবো, চাইতেই থাকবো’
বর্ণমালা নিউজ, নিউইয়র্ক থেকে: ’যতদিন বাংলাদেশ থাকবে, জাতীয় সঙ্গীত বাজবে এবং জাতীয় পতাকা উড়বে ততদিন যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চাইবো, চাইতেই থাকবো’- এভাবেই যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবীতে নিজের অবস্থান ঘোষণা করলেন কথাশিল্পী ও দৈনিক ইত্তেফাকের সম্পাদক রাহাত খান। নিউইয়র্ক প্রবাসী মিথুন আহমেদের ৭১’র যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবী নিয়ে নির্মিতব্য প্রামাণ্য চিত্র ’ট্রাইব্যুনাল ফর ওয়ার ক্রিমিনাল’র রাশ প্রিন্ট শো-তে প্রধান অতিথির বক্তব্যে কথাশিল্পী ও দৈনিক ইত্তেফাকের সম্পাদক রাহাত খান আরু বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব যুদ্ধাপরাধীদের ক্ষমা করেন নাই, তাই তার সময়ে নিজামী, মুজাহিদ সহ আরু অনেকেই কারাগারে ছিলেন বিচারের অপেক্ষায়। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর তারা জেল থেকে বেড়িয়ে আসেন। এর পর দালাল আইনসহ সংবিধানের ধর্ম নিরপেক্ষতাকে বাদ দিয়ে ধর্মভিত্তিক রাজনীতি প্রবর্তন করে কারা বাংলাদেশকে আরেকটি পাকিস্তান বানানোর কাজ শুরু করে তা সবাই জানেন। অনেকে ১৫ আগস্টকে পট পরিবর্তন বলেন- আর আমি বলবো এদিনের পর থেকে যে কারনে বাংলাদেশের অভ্যুদয় হয়েছিলো সেই মূল চেতনা থেকে সরে আসা হয়েছে। ধর্মের সাথে জাতীয়তাবাদের সংমিশ্রন কোথাও খুঁজে পাওয়া যায় না। তাইতো আমরা দেখি আরব দেশগুলোর কোথাও ইসলামী জাতীয়তাবাদের অস্তিত্ব নেই, তাদেও আছে আরব জাতীয়তাবাদ।
৭১’র ঘৃনিত যুদ্ধাপরাধীদের বিরুদ্ধে শহীদ জননী জাহানারা ইমামের সাহসী ভূমিকা ও তার নেতৃত্বে ঘাতক দালাল নির্মূল জাতীয় কমিটির যুদ্ধাপরাধী গোলাম আযমের বিচারের দাবী নিয়ে গড়ে ওঠা ইসপাত কঠিন আন্দোলন- এর পরিণতিতে ২৬ মার্চ, ১৯৯২ সালে ঐতিহাসিক গণ আদালতে গোলাম আযমের বিচার- সবই এখন ইতিহাসের পাতায়, যার কোন প্রমাণ্য চিত্র দলিল সংরক্ষিত নেই জাতীয় সংগ্রহশালায়। ষোল বছর আগের সেই ঐতিহাসিক ঘটনার অর্থাৎ গণ আদালতের বিচার কার্যক্রমের ধারনকৃত খন্ড খন্ড চিত্রের সাথে ৭১’র পাকিস্তানী বাহিনীর বর্বর গণহত্যার দৃশ্যকে সন্নিবেশিত করে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রমাণ্য চিত্র ’ট্রাইব্যুনাল ফর ওয়ার ক্রিমিনাল’ নির্মার্ণের পথে অগ্রসর হচ্ছেন সাংষকৃতিক র্কুী মিথুন আহমেদ। এদিন তার অগ্রযাত্রার কথা জানাতে এবং নির্মিতব্য প্রমাণ্য চিত্র সম্পর্কে জনমত সৃষ্টি ও বিদগ্ধজনদেও কাছে পরামর্শ চেয়েছেন মিথূন আহমেদ। গত ১৪ জুলাই সোমবার সন্ধ্যায় জ্যাকসন হাইটসের জুইশ সেন্টাওে বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্র নিউইয়র্ক শাখার উদ্যোগে ’ট্রাইব্যুনাল ফর ওয়ার ক্রিমিনাল’র রাশ প্রিন্ট শোতে আরু উপস্থিত ছিলেন নিউইয়র্কে অবস্থারতঃ প্রবীণ বাম রাজনৈতিক হায়দার আকবর খান রনো, চলচ্চিত্রকার সাইদুল আনাম টুটুল, সাপ্তাহিক ঠিকানা সম্পাদক মুহমমদ ফজলুর রহমান প্রমূখ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাহাত খান আরু বলেন, দ্বিতীয় মহাযুদ্ধ কবে শেষ হয়েছে, আজও ইহুদীরা ফ্যাসিস্টদের বিচার চেয়ে আসছে এবং করছে- আর ৩৮ বছর পরে আমরা কেন ৭১’র যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চাইতে পারবো না? এই সপৃহা বন্ধ করার শক্তি কারু নেই। যুদ্ধাপরাধী গোলাম আযমের বিচারের দাবীতে শহীদ জননী জাহানারা ইমামের নেতৃত্বে গড়ে উঠা ঘাতক দালাল নির্মূল জাতীয় কমিটির আন্দোলন থেমে যাবার পিছনে তৎকালীন সরকারের আন্তর্জাতিক মহলকে তুষ্ঠ করার প্রয়াসকে দায়ী করে ইত্তেফাক সম্পাদক বলেন, বিশেষ দু’টি রাষ্ট্রের চাপের কারনেই মূলতঃ এই আন্দোলনকে থামিয়ে দেয় তখনকার সরকার।
প্রামাণ্য চিত্র ’ট্রাইব্যুনাল ফর ওয়ার ক্রিমিনাল’ সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে রাহাত খান এর নির্মাতা মিথুন আহমেদকে তার অসম বয়সী বন্ধু অ্যাখ্যায়িত করে বলেন, যে আগুন আছে মিথুনের বুকে তাকে শ্রদ্ধা না করে পারা যায় না। রাহাত খান আরু বলেন, দেশে সামনেই নির্বাচন। ক্ষমতায় যাওয়া নিয়ে নোংরা খেলা চলছে, কিন্তু যারাই ক্ষমতায় আসুক না কেন তাদেরকে ভাবতে হবে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের বিষয়টি নিয়ে।
Evergreen Bangla Community
Post Your Comments