শেখ হাসিনা লন্ডন ফিরেছেন
পাঁচ দিন ফিনল্যান্ডে পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে অবস্থানের পর আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা সোমবার লন্ডনে ফিরে এসেছেন। বোন শেখ রেহানার ছেলে রেজওয়ান সিদ্দিকী ববির বিয়ের বিষয়টি চূড়ান্ত করার জন্য ৯ জুলাই পরিবারের অন্য সদস্যদের নিয়ে তিনি ফিনল্যান্ডের রাজধানী হেলসিংকি যান। সেখানে একটি হোটেলে তারা অবস্থান করেন। ফিনল্যান্ডের যে পরিবারের সঙ্গে নতুন আত্মীয়তা হচ্ছে তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন, তাদের খোঁজখবর নেন। সোমবার শেখ হাসিনাকে হিথরো বিমানবন্দরে স্বাগত জানান সামছুদ্দিন খান ও জালালউদ্দিন।
শেখ হাসিনা রেজওয়ান সিদ্দিকী ববির আপন খালা, পারিবারিক অভিভাবক। বিয়ের প্রস্তাব আনুষ্ঠানিকভাবে দেয়ার জন্য তিনি ছেলের মা শেখ রেহানা, বোন টিউলিপ সিদ্দিকী, রুপন্তি সিদ্দিকী ও রেজওয়ান সিদ্দিকী ববিকে নিয়ে ফিনল্যান্ড যান। শেখ হাসিনার পুত্র জয় ও কন্যা পুতুলও আমেরিকা থেকে ফিনল্যান্ড যান। যাওয়ার প্রাক্কালে একটি আংটি সঙ্গে নিয়েছিলেন, যা বিয়ের চূড়ান্ত কথাবার্তার পর পুত্রবধূর হাতে পরিয়ে দিয়েছেন। সফলভাবে বিয়ের আলাপ সম্পন্ন হয়েছে। আগামী সেপ্টেম্বরের কোন এক সুবিধাজনক সময়ে লন্ডনে বিয়ের পার্টি অনুষ্ঠিত হবে। তখন মুসলিম প্রথা অনুসারে ইসলামী শরিয়াহ অনুযায়ী বিয়ের অন্যান্য কাজ করা হবে।
শেখ রেহানার একমাত্র পুত্র রেজওয়ান সিদ্দিকী ববির পছন্দ অনুসারে এ বিয়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। মেয়ের নাম পেপে। সে লন্ডনে ববির সঙ্গে লেখাপড়া করত। সেখান থেকেই তাদের পরিচয় এবং ভালোলাগা। ববির পরিচয়ের সূত্র ধরেই তার পরিবারের সঙ্গে মেয়েটির ঘনিষ্ঠতা বাড়ে। একে-অপরকে ভালোবাসে এবং ভীষণ ভালোবাসে জেনেই পরিবারের অন্যদের সঙ্গে পেপের ওঠা-বসা নিজেদের মতো করেই অনেকটা হয়ে গিয়েছিল। মাঝে মাঝে ববির সঙ্গে মেয়েটি তাদের বাসায় বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছে।
এমনকি পারিবারিক ঘনিষ্ঠতার কারণে লন্ডনে বেশ কয়েকটি অনুষ্ঠানেও তাকে ববির সঙ্গে দেখা গেছে। শেখ হাসিনার মুক্তি আন্দোলনের জন্য আহূত সংবাদ সমেমলন এবং সাংবাদিকদের সৌজন্যে নৈশভোজের অনুষ্ঠানেও পেপে অংশ নিয়েছিল।
রেজওয়ান সিদ্দিকী ববির মাধ্যমে সে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সম্পর্কে প্রচুর জ্ঞান অর্জন করেছে। এসব জেনে সে এ পরিবারের প্রতি আরু সহানুভূতিশীল ও দুর্বল হয়ে পড়ে। ববির প্রতি তার দুর্বলতা বৃদ্ধি পায়। বিভিন্ন কাজে ববিকে সে উৎসাহ-উদ্দীপনা প্রদান করে। সহৃদয়তা তখন অন্তরঙ্গ পর্যায়ে চলে যায়। তার আগ্রহ এমনটি হবে দেখে ববি তাকে বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত যোগান দিতে থাকে।
লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিকের ছাত্র থাকা অবস্থায় ববির সঙ্গে পেপের মন দেয়া-নেয়া শুরু হয়। ঘনিষ্ঠতা বাড়ার একপর্যায়ে ধর্ম বাদ সাধে তাদের পরিণয়ের ক্ষেত্রে। কিন্তু মেয়েটি কিছুতেই ববিকে হারাতে চায় না। ববিও পেপে ছাড়া অন্য কোথাও বিয়ে করবে না- এমন বদ্ধমূল অঙ্গীকারের কারণে এক সময় মেয়েটি তার পিতা-মাতার ধর্ম ত্যাগ করতে সমমত হয়। সে আস্তে আস্তে ইসলাম ধর্মের বই-পুস্তক পড়তে শুরু করে এবং ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত হয়। ববির পরিবার থেকে তার নাম দেয়া হয় খাদিজা। ধর্ম ত্যাগের আগে পেপে তার পরিবারকে এ সিদ্ধান্তের কথা জানালে তারা জোর আপত্তি করলেও প্রেমের কাছে তাদের হার মানতে হয়েছে অবশেষে। পেপে এখন নিয়মিত নামাজ-রোজা ও ইসলাম বিষয়ে বই-পুস্তক পড়ে। সঙ্গে সঙ্গে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, বাংলাদেশ ও শেখ হাসিনা নিয়েও পড়াশোনা করছে। আর এসবের যোগান দিচ্ছে ববি।
সেপ্টেম্বরে বিয়ে
শেখ রেহানার পুত্র রেজওয়ান সিদ্দিকী ববির বিয়ে সেপ্টেম্বরে লন্ডনে অনুষ্ঠিত হবে। বছরের লম্বা ছুটি থাকে এ সময়। পেপের হলিডে থাকবে তখন। পিতা শফিক সিদ্দিকী ববির এ বিয়েতে যোগ দিতে বাংলাদেশ থেকে ছুটি নিয়ে সেপ্টেম্বরে আসতে পারবেন বলে জানিয়েছেন। তিনি একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করেন। একমাত্র পুত্রের বিয়ে উপলক্ষে তার উপস্থিতি পরিবারের জন্য আনন্দদায়ক হবে- এ ভেবেই তিনি সেপ্টেম্বরে ছুটি নিয়ে রেখেছেন।
তার আগে ইসলামী শরিয়াহ অনুযায়ী সেন্ট্রাল লন্ডনের একটি মসজিদে ববি-পেপের ‘আকদ’ সম্পন্ন হবে। লন্ডনেই বিয়ে রেজিস্ট্রি হবে।
পেপে এখন তার মা-বাবার সঙ্গে ফিনল্যান্ডে অবস্থান করছে। সে একাই লন্ডনে থাকে। তার পরিবারের অন্য সদস্যরা ফিনল্যান্ডে বসবাস করে। লেখাপড়া শেখার সুবাদে পেপে লন্ডনে আসে। বিয়ে উপলক্ষে মেয়ে, মা-বাবা, ভাই-বোন সেপ্টেম্বরে লন্ডন আসবেন। মেয়ের বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে তারা আবার ফিনল্যান্ডে চলে যাবেন। ববি লেখাপড়া শেষ করে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করছে। পেপে অর্থনৈতিক বিষয়ক পত্রিকায় চাকরি করে। ববি যেমন ইংরেজিতে পারদর্শী, তেমনি পেপেও। তাছাড়া ববি সারাজীবনই ইংরেজি মাধ্যমে বিদেশে লেখাপড়া করেছে। ফিনল্যান্ডের জাতীয় ভাষা ফিনিস। ৯৫ ভাগ লোক ওই ভাষায়ই কথা বলেন। বাকি ৫ ভাগ সুইডিশ ভাষায় কথা বলেন। ফিনিস ভাষা ইউরোপের অন্যান্য ভাষার চেয়ে অনেক কঠিন। তাদের ইংরেজি উচ্চারণ অন্যান্য ভাষাভাষির চেয়ে একটু ভিন্ন। নরুয়ে এবং সুইডেনের পার্শ্ববর্তী দেশ ফিনল্যান্ড। ইউরোপের উত্তর সীমানায় ফিনল্যান্ডের অবস্থান।
পেপের পরিবার
ফিনল্যান্ডের সাবেক কূটনীতিক পেপের বাবা এখন অবসর জীবনযাপন করছেন। বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পরিবারের সঙ্গে পারিবারিক সম্পর্ক স্থাপন করতে পেরে তিনি খুবই আনন্দিত। ফিনল্যান্ডে বিয়ের চূড়ান্ত আলাপ-আলোচনা শেষে হেলসিংকিতে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
পেপের বড় বোনের স্বামী কাজ করেন পুলিশ বিভাগে। ফিনল্যান্ডের এন্টি টেরোরিস্ট ব্রাঞ্চের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তিনি। ফিনল্যান্ডের প্রথা অনুযায়ী সেখানে বিয়ের কিছু আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়েছে। সেপ্টেম্বরে ইসলামী শরিয়াহ অনুযায়ী লন্ডনে বিয়ে এবং ডিসেম্বরে টুঙ্গিপাড়ায় আরেকটি অনুষ্ঠানের আয়োজন থাকবে বলে ববির পারিবারিক সূত্রে জানা যায়।
পেপের মা ও আরু বড় দুই বোন আছে। সে লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিকে আইন এবং রাজনীতি বিষয়ে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করেছে। বর্তমানে একটি ফাইন্যান্সিয়াল পত্রিকায় সাংবাদিকতা করছে। বাংলাসহ চারটি ভাষা জানে সে। চিত্র আঁকা, গান গাওয়া, বরফের মধ্যে দৌড়ানো এবং ভ্রমণ করা তার প্রধান শখ। ববির সঙ্গে সে বেশ কয়েকটি দেশে একত্রে ভ্রমণে গেছে।
সোমবার শেখ হাসিনা ও ববির পরিবারের সঙ্গে পেপেও লন্ডনে ফিরে আসে। পেপে তার অভিপ্রায় ব্যক্ত করে বলেছে, তাদের বিয়ের অনুষ্ঠানে প্রাপ্ত সমুদয় উপহার বা অর্থ বাংলাদেশের একটি এতিমখানার জন্য দান করবে।
শেখ হাসিনা লন্ডনে ফিরে এসে বোনের বাসায় অবস্থান করছেন। তিনি অচিরেই দলীয় নেতাকর্ুীদের সঙ্গে এক বৈঠকে মিলিত হবেন বলে জানিয়েছেন।
Bangla Community News Tags: আওয়ামী লীগ, বঙ্গবন্ধু, লন্ডন, শেখ হাসিনা
Evergreen Bangla Community


Post Your Comments