ন্যাশন্যাল বাংলাদেশী-কানাডিয়ান কাউন্সিলের উদ্যোগে নতুন প্রজন্মদের নিয়ে মন্ট্রিয়লে ১৪১ তম কানাডা ডে উদযাপন
গত ১ লা জুলাই পালিত হলো কানাডার ১৪১ তম জন্মদিন। এবারের কানাডা ডে উদযাপনটি মন্ট্রিয়ল বাংলাদেশী কমিউনিটি আয়োজনে পার্ক-এক্সটেনশনে বসবাসরত ভারত, শ্রীলংকা, পাকিস্তান, ইন্ডিয়া, গ্রীক, ইটালিয়ান, তুর্কি,মরক্কো, আলজেরিয়া সহ নতুন প্রজন্মদের কানাডা প্রেমীদের জন্য ছিল সত্যিই আনন্দঘন মুহুুর্ত এবং আমাদের নতুন প্রজন্মের জন্য ছিল সত্যিকার অর্থেই যেন নতুন কোন কিছুর আবিস্কার। বিশেষ করে বাংলাদেশী-ক্যানেডিয়ানরা স্ব্বপরিবারে অংশগহন করে সমগ্র অনুষ্ঠানটিকেই সার্থক করে তুলে এবং কানাডার মূল সংস্কৃতির সাথে নিজেদের ভবিষ্যত প্রজন্মদের নতুন দিগন্ত- রচনা করার আশ্বাস দিয়ে একটি সময়পোযোগী দায়িত্ব পালন করে সকল মহলেরই প্রশংসা কুড়িয়েছে। বিশেষ করে কানাডার প্রধান নিউজ সংস্থা সিটিভি টেলিভিশন ব্যাপক ভাবে উদযাপনটিকে সংবাদ মাধ্যমে তুলে ধরে আমাদের বাংলাদেশ কমিউনিটির এমন একটি উদ্যোগের জন্য বেশ প্রশংসা করেন এবং মাল্টি কমিউনিটির ছোট ছোট নতুন প্রজন্মের ব্যাপক অংশগ্রহন দেখে অভিভূত হন। সেই সঙ্গে এই দিনটি উদযাপনে আয়োজক সংগঠন এন.বি.সি.সি স্থানীয় বিভিন্ন সংগঠন এবং প্রশাসনের সাথে সমন্বয় রেখে ৬ষ্ঠ বারের মত মন্ট্রিয়লের বাঙালি এবং মাল্টি কমিউনিটি অধ্যুষিত এলাকা পার্ক-এ কানাডা ডে-২০০৮ অনুষ্ঠানটিকে সার্থক ভাবে উদযাপন করে বিভিন্ন মহলের ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।
গত ১লা জুলাই মন্ট্রিয়লের পার্ক এর লবলজের বিশাল প্রান্তে হাজার হাজার সকল বর্ণ এবং জাতির মিলন মেলার উৎসবে পরিণত হয়। পার্ক-এক্স সহ মন্ট্রিয়লের বিভিন্ন অঞ্চলের গন্যমান্য ব্যাক্তির পদচারণায় উৎসবটি যেন ভিন্ন মাত্রা পায় এবং হৈচৈ করে সারাদিন
ব্যাপি উদযাপন করা হয় ১৪১তম কানাডা ডে।
ন্যাশনাল বাংলাদেশী ক্যানাডিয়ান কাউন্সিল (এনবিসিসি) এবং স্থানীয় সংগঠন লোয়াজীর দ্যে পার্ক বিশেষ সহযোগিতা এবং ডিজে জন ববির পরিচালনায় কানাডিয়্যান সঙ্গীতের তালে উৎসবস্থল হয়ে উঠে প্রানবন্ত।
দুপুরে প্রায় শতাধিক ছোট মনি ও কিশোর কিশোরীদের নিয়ে যথাযোগ্য মর্যাদায় কানাডার জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে এই দিনের অনুষ্ঠানর শুরুুহয়। এরপর কাউন্সিলর মেরি ডেরস এবং উৎসব কো-অর্ডিনেটর মনির হোসেন এক জোরা ছোট মনিদের দিয়ে কানাডা ডে কেক কেটে উৎসবের সূচনা করেন। এবপর নতুন প্রজন্মের ছোট ছোট শিশুদের সাথে লরিয়ে -ডরিয়ন এমপি জেরী স্কালাভোনাস, পার্ক-এক্স সিটি কাউন্সিলর মেরী ডেরোস পাপিনো রাইডিং এর আসন্ন নির্বাচন প্রার্থী জাস্টিন ট্রুডোর উপস্থিতিতে কানাডার জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনটি উৎসবকে ভিন্ন মাত্রা এনে দেয়। জাতীয় সঙ্গীত ইংরেজীতে ইলমা খন্দকার এবং ফ্রেঞ্চ ভাষায় ঋক ভট্টাচার্য পরিবেশন করেন।
একদিকে গানের মূর্ছনা আন্যদিকে বিনামূল্যে হটডগের দীর্ঘ লাইন এবং ছোট ছেলেমেয়েদের চিত্রাঙ্কন ও কানাডা কুইজ পর্বের প্রতিযোগিতা আর চারিদিকে বিশাল আকারের কানাডা পতাকা এবং ছোট বড় সকলের হাতেই লাল ম্যাপেল পাতার পতাকা, ছোটদের হাতে লাল সাদা বেলুন আর গালে ম্য্পেল লিফের টাট্টু সত্যিকার অর্থেই পার্ক-একে করে তুলে কানাডার একটি প্রকৃত অংশিদার। সবকিছু মিলিয়ে অপুর্ব একটি পরিবেশ তৈরী হয়।
উপস্থিত অনেকই মন্তব্য করেন যে, এই ধরনের বৃহৎ আয়োজন তারা আর কখনো পার্ক -এক্সটেনশনে দেখেননি এবং তাৎক্ষনিক ভাবেই ব˚ অতিথি এই ধরনের একটি পরিকল্পনা বিগত বছরগুলোতে নেয়ার জন্য বাংলাদেশ কমিউনিটির সংগঠন এন.বি.সি.সির উদ্যোগকে বিশেষ ধন্যবাদ জানান এবং আগামী বছরের একই দিনে এই দিবসটিকে আরো বৃহৎ করে পালন করার জন্য সর্বাত্বক সহায়তা দেয়ার আশা ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে বিপুল সংখ্যক ছোট মনি ও কিশোর কিশোরীসহ বিভিন্ন কমিউনিটির কয়েক হাজার মানুষের উপস্থিতিতে এদিনের উৎসবে ছিলেন লরিয়ে -ডরিয়ন এমপি জেরী স্কালাভোনাস, পার্ক-এক্স ভিলারী সেন্ট মিশেল এলাকার বোরো মেয়র এ্যানি স্যামসন এবং সিটি কাউন্সিলর মেরী ডেরোস পাপিনো রাইডিং এর আসন্ন নির্বাচন প্রার্থী জাস্টিন ট্রুডো, কনজারভেটিব প্রার্থী সরকার মোশতাক এবং বাংলাদেশ কমিউনিটি সহ বিভিন্ন কমিউনিটির নেতৃবৃন্দ ।
এবারো ঊৎসবে গভঃ কানাডা পার্ক-এক্স কানাডা ডে উদযাপনকে অফিসিয়াল স্বীকৃতি প্রদান করেন। সহযোগিতায় লোয়াজির দ্যো পাক , সিটি অফ মন্ট্রিয়ল’র পার্ক এক্সটেনশন লোয়জির ডিপার্টমেন্ট,র্ চেইন ষ্টোর লবলজ, ফার্মেসি সিপরো কুটসুরি (লবলজ), ইন্ডিয়া কানাডা অর্গানাইজেশন, সাউথ এশিয়ান সিনিয়র এসোসিয়েশন পার্ক-এক্সটেনশন, সি,পি,ই, রিগালো গিফট সপ ও পুলিশ ষ্টেশন-৩৩ সহ স্থানীয় মিডিয়া ঢাকা পোস্ট, নোভল পার্ক এক্সটেনশন নিউজ, বাংলা নিউজ, বাংলা কাগজ, কালার ক্রাফট, আড়ৎ ফ্যাশন।
বর্ণাঢ্য এ দিনের অনুষ্ঠানে ছোটদের কানাডা ডে শীর্ষক চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগীতা ও কানাডার ইতিহাসের উপর কানাডা কুইজ অনুষ্ঠিত হয়। ছোটরা তাদের তুলিতে এবং কলমে কানাডাডে’র অভিব্যাক্তি ফুটিয়ে তুলে আকর্ষনীয় পুরস্কার অর্জন করে। বিভিন্ন প্রতিযোগিতার
এ দিনের অনুষ্ঠানে ছোটদের কানাডা ডে শীর্ষক চিত্রাংকন প্রতিযোগীতা ও কানাডার ইতিহাসের উপর কানাডা কুইজ দৌড় প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। বিভিন্ন প্রতিযোগিতার পুরস্কারপ্রাপ্তরা হলো, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা গ্রুপ - ক -সোনিয়া রহমান (১ম),মারিয়াম আহাদ (২য়) এবং এহসান আহমেদ(৩য়)। চিত্রঙ্কন প্রতিযোগিতা গ্রুপ - খ সানজিদা (১ম), নাইম আজম(২য়),কৃস্টি ইসলাম (৩য়)। কানাডার ইতিহাস এবং অন্যান্য বিষয়ের উপর ভিত্তিকরে ‘কানাডা ডে’ কুইজ প্রতিযোগিতায় প্রথম ঁজাহিদ রহমান, আলেকজেন্ডার সিলভেষ্টার(২য়) এবং শেরী রহমান(৩য়)। ছোট ছেলে-মেয়েদের দৌড় প্রতিযোগিতায় (বালক ) প্রথম হয়েছে ওয়াজিদ, জীওন (২য়) এবং নেহাল (৩য়)। (বালিকা ) প্রথম হয়েছে সোনিয়া, কৃাষ্ট (২য়), এলমা (৩য়) এবং সান্তনা পুরষকার রাধিকা। মহিলাদের রিং টস প্রতিযোগিতার প্রথম হন নার্গিস, ২য় সামসুন্নাহার, ৩য় সাহানা। পুরুষদের অকর্ষনীয় তরমুচ খাওয়া প্রতিযোগিতায় জয়ের মালা ছিনিয়ে নেন জনাব মোতাহার চৌধুরী। কানাডা ডে র্যাফেল ড্রর পুরস্কার জিতে নেন সকু আহমেদ (মাইক্রো ওভেন) , নাঈম আহমেদ ( রিমোট ফ্যান),আইরেন (ব্লেন্ডার)। আকর্ষনীয় কানাডা ডে প্যারেন্ট পুরস্কারটি জিতে নেন হুমায়ুন কবির পরিবার।
বিশিষ্ট করিওগ্রাফার কাত্যায়নী অধিকারীর পরিচালনায় শিশু শিল্পীরা চমৎকার নাচ পরিবেশন করে। বিভিন্ন দেশের দর্শক অত্যন্ত আগ্রহ সহকারে ছোটমনিদের নাচের অপূর্ব দৃশ্য দেখে হাততালি দিয়ে অভিনন্দন জানান। কানাডা ডে উৎসব-২০০৮ পার্ক-এক্স আয়োজক সংগঠনের পক্ষ থেকে বিগত বছরের কানাডা ডে উদযাপনে বিশেষ সহযোগিতা দেয়ার জন্য লবলজ ফার্মেসীর স্বতাধীকারী জনাব সপীরো কুটুসুরী কে বিশেষ সন্মান পত্র প্রদান করা হয়। মিডিয়া পার্টনার বিশেষ সহযোগিতায় অনুষ্ঠানটিকে সার্থক করে তুলতে সহযোগিতা করেছেন তারা হলেন পার্ক-এক্সটেনশন নভোল নিউজ, সিটিভি, বাংলা নিইজ (মন্ট্রিয়ল), বাংলা কাগজ (মন্ট্রিয়ল) ও জোর্নাল ঢাকা পোস্ট।
অনুষ্ঠানে সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন উৎসব কো-অর্ডিনেটর ও এনবিসিসি প্রেসিডেন্ট মনির হোসেন(বাবলু), নাজিয়া ইসলাম, মুসা মোহামমমদ, জেমি মোহামমদ, শামসাদ আরা রানা, মহিবুল আহসান এবং স্টিভ ও জন ববি। ভলান্টিয়ার সহায়তায় ছিলেন সামিহা হোসেন সহ একদল কিশোর এবং উদিয়মান ক্যানেডিয়্যান প্রজন্ম দল, তন্ময়,রাফায়েল সাকিব, মাসুম, ঋক ভট্টাচার্য,জুনায়েদ রিফাত, আহমেদ মালিক, জুরিমার্ড এভেলিয়া, আশরাফ আহমেদ সহ লায়লা কবির,জুবায়ের যাদের অক্লান্ত পরিশ্রম এবং আতিথেয়তা সকল আগতদের দৃষ্টি আকর্ষন করে। অনুষ্ঠান শেষে কানাডা ডে-২০০৮ উৎসব পার্ক-এক্স এর কো-অর্ডিনেটর সকলকে ধন্যবাদ জনিয়ে আগামীতেও এইদিনটি আরোও ব্যাপকভাবে পালনের আশা প্রকাশ করেন এবং সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।
Bangla Community News Tags: কানাডা
Evergreen Bangla Community
Post Your Comments