মালয়েশিয়ায় পররাষ্ট্র উপদেষ্টার সাথে প্রবাসীদের মতবিনিময় ও শ্রমিকদের হোষ্টেল পরিদর্শন
পররাষ্ট্র ও প্রবাসী কল্যান মন্ত্রনালয়ের উপদেষ্টা ড. ইফতেখার আহামদ চৌধুরী গত ৫ জুলাই শনিবার বিকালে কুয়ালা লামপুরে একটি হোটেলে বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশন ও মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের ব্যাবসায়ী প্রতিনিধিদের সাথে মতবিনিময় সভায় মিলিত হন। হাইকমিশনার এম. খায়রুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত সভায় ব্যবসায়ীদের পক্ষে ড. এম কে রহমান আরিফ ও মোঃ রাশেদ বাদল বক্তব্য রাখেন। ব্যবসায়ীবৃন্দ জিয়া আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে ইমিগ্রেশন ও কাষ্টমস কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রবাসীদের হয়রানী বন্ধের দাবী জনান।
মালয়েশিয়াতেও আইন শৃংখলা সংস্থা কর্তৃক ব্যবসায়ী ও বাংলাদেশীদের অহেতুক হয়রানী ও গ্রেফতার বন্ধের জন্য দ্বি-পক্ষিক আলোচনার অনুরোধ জানান। বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশনের সদস্য সচিব ডাঃ শংকর চন্দ্র পোদ্দার সুষ্ঠু নীতিমালার ভিত্তিতে মালয়েশিয়া শ্রমিক রপ্তানীর উপর গুরুত্ব দিয়ে বলেন- অবশ্যই কম খরচে শ্রমিক পাঠাতে হবে। এজন্য শ্রমিকদের সরকারী লোন প্রদান,শ্রমিকদের জন্য ১০ পৃষ্ঠার বিশেষ পাসপোর্ট, দেশের ৭টি জেলায় শ্রমিকদের কারিগরি প্রশিক্ষন, অসাধু এজেন্সীর বিরুদ্ধে ব্যাবস্থা গ্রহন ও হাইকমিশনে লোকবল বৃদ্ধির জন্য অনুরোধ করেন। আরো বক্তব্য রাখেন মাহাবুব আলম শাহ্, মোঃ আকরাম খান, মিজানুর রহমান, মান্নান চৌধুরী প্রমুখ। উপদেষ্টা ড. ইফতেখার আহামদ চৌধুরী প্রবাসীদের আশ্বাস দেন উত্থাপিত সব বিষয়ে তিনি উভয় দেশেই প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহন করবেন। তিনি শ্রমিক সমস্যা সমাধানে বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশনের কর্মকান্ডে সন্তোষ প্রকাশ করেন ও সংগঠনকে আরো গতিশীল করার পরামর্শ দেন।
এদিকে ভাগ্য বিড়ম্বিত শ্রমিকরা উপদেষ্টাকে প্রানখুলে তাদের দুঃখ কষ্ট লাঞ্চনার কথা জানালেন। পদে পদে তারা কিভাবে দু‘দেশের এজেন্সী মালিক দ্বারা প্রতারিত হয়েছেন অকপটে তা তুলে ধরলেন। পররাষ্ট্র ও প্রবাসী কল্যান মন্ত্রনালয়ের উপদেষ্টা ড. ইফতেখার আহামদ চৌধুরী সন্ধ্যায় কুয়ালা লামপুর থেকে ৬০ কিলোমিটার দূরে কাজাং এলাকায় বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশনের হোষ্টেল পরিদর্শনে গেলে শ্রমিকরা তাদের অভাব অভিযোগ তুলে ধরেন। এসময় হাইকমিশনার এম.খায়রুজ্জামান, লেবার উইং কর্মকর্তাবৃন্দ ও বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশনের সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। আর্ডেন ইন্টারন্যাশনালের শ্রমিকরা জানান এক বছর আগে তাদের দু‘লাখ থেকে আড়াই লাখ টাকায় মালয়েশিয়া পাঠানো হয়েছে। কিন্তু আজ পর্যন্ত তাদের স্থায়ী কোন কাজের ব্যাবস্থা করা হয়নি। উপরন্ত ওয়ার্ক পারমিট লাগানোর নাম করে ঐ এজেন্সীর মালিক রাজা তাদের কাছ থেকে আরো আঠারো‘শ রিঙ্গিত (প্রায় ৩৭ হাজার টাকা ) করে নিয়েছে। কিন্তু আজ পর্যন্ত ওদের পারমিট লাগায়নি। এমনকি পাসপোর্টও নেই তাদের কাছে। অভিযোগ ফোরসাইড ইন্টারন্যাশনাল, রাজধানী ওভারসীজ, মার্ক ওভারসীজসহ বহু রিক্রুটিং এজেন্সীর শ্রমিকদেরও। তাদের অভিযোগ ভালো বেতনে চাকুরী দেবার নাম করে বার বার তাদের বিক্রি করা হয়েছে দেশের বিভিন্ন স্থানে। তাদের দিয়ে অমানুষিক কাজ করানো হয়েছে, কিন্তু বেতন দেয়া হয়নি। অনেকে মেডিকেল আনফিট হয়ে মাসের পর মাস পড়ে আছে। কিন্তু দেশে পাঠানো হচ্ছে না। উপদেষ্টা ধৈর্য্য সহকারে শ্রমিকদের অভিযোগ শুনে বাংলাদেশ গিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা গ্রহন ও মালয়েশিয়া সরকারের সাথে আলোচনা করে দ্রুত সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেন। কাউন্সিলর (লেবার উইং) তালাত মাহমুদ খান ও দ্বিতীয় সচিব (লেবার উইং) মোঃ মাসুদুল হাসান এসব প্রতারিত শ্রমিকদের ব্যাপারে হাইকমিশনের ভূমিকা বর্ননা করেন। কাউন্সিলর (লেবার উইং) তালাত মাহমুদ খান বলেন, অনেকের অভিযোগের প্রেক্ষিতে লেবার কোর্টে মামলা হয়েছে। আবার অনেক মালিক পলাতকও রয়েছেন।
উল্লেখ্য,ডি-৮ শীর্ষ সমেমলনে যোগদান উপলক্ষে গত শনিবার সকালে পররাষ্ট্র ও প্রবাসী কল্যান মন্ত্রনালয়ের উপদেষ্টা ড. ইফতেখার আহামদ চৌধুরী মালয়েশিয়া আসেন।
Bangla Community News Tags: ইমিগ্রেশন, প্রবাসী, মালয়েশিয়া
Evergreen Bangla Community
Post Your Comments