অবিলম্বে জরুরী অবস্থা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে নিউইয়র্ক বাংলাদেশ প্রেস ক্লাব

বর্ণমালা নিউজ (নিউইয়র্ক): অবিলম্বে জরুরী অবস্থা প্রত্যাহার করে বাংলাদেশের জনগণকে তাদের মৌলিক অধিকার ফিরিয়ে দেয়ার আহ্বান জানিয়েছে নিউইয়র্ক বাংলাদেশ প্রেস ক্লাব। গত বুধবার ‘বাংলাদেশের সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষা ও সংবাদ পত্র শিল্পে বিরাজমান পরিস্থিতি’ নিয়ে নিউইয়র্ক বাংলাদেশ প্রেস ক্লাব আয়োজিত প্রতিবাদ সভায় গৃহিত প্রস্তাবনায় জাতীয় নির্বাচনের সুনির্দিষ্ঠ তারিখ ঘোষণা এবং নির্বাচনের আগেই জরুরী অবস্থা তুলে নেয়া, সংবাদ মাধ্যমের বিকাশের ধারা অব্যহত রাখতে জরুরী আইনের সংবাদপত্র সংক্রান্ত বিধিমালা চিরতরে সংশোধনের দাবী করা হয়। প্রতিবাদ সভায় প্রধান বক্তা নিউইয়র্ক প্রেস ক্লাবের উপদেষ্ঠা ও বাংলাদেশ জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি ফাজলে রশিদ সাম্প্রতিক তার বাংলাদেশ সফরের অভিজ্ঞতার আলোকে দেশে সংবাদ মাধ্যমে বিরাজমান সংকট ও সেনা সমর্থিত তত্বাধবায়ক সরকারের সংবাদ মাধ্যমের উপর অদৃশ্য কঠোর নিয়ন্ত্রণের বিষয় তুলে ধরেন। নিউইয়র্ক সফররতঃ কবি ও সাংবাদিক রফিক আজাদ সভায় আমিন্ত্রত বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত থেকে প্রবাসের সাংবাদিকদের কণ্ঠে কণ্ঠ মিলিয়ে দেশের সংবাদ মাধ্যমের শৃঙ্খল মুক্তি ও সুদিনের কামনা করেন।
জ্যাকসন হাইটসের বাংলাদেশ প্লাজার সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রেস ক্লাবের সভাপতি মাহবুবুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন প্রেস ক্লাবের উপদেষ্ঠা সাপ্তাহিক দেশ বাংলা ও বাংলা টাইমস’র সম্পাদক ডাঃ চৌধুরী সারওয়ারুল হাসান। সভার সঞ্চালক প্রেস ক্লাবের সমন্বয়কারী ও বার্তা সংস্থা বর্ণমালা নিউজের সম্পাদক মাহফুজুর রহমান সভার শুরুতে বাংলাদেশের সংবাদ মাধ্যমে বিরাজমান সংকট, সাংবাদিকদের অনিশ্চিত জীবন এবং একদিকে সরকারের রোষানল এবং অন্যদিকে দীর্ঘদিন বেতন ভাতা না পেয়ে তাদের দুর্বিষহ জীবন যাপনের বিষয়টি তুলে ধরেন। প্রস্তাবনা পেশ করেন প্রেস ক্লাবের উপদেষ্ঠা ও বিএফইউজের সাবেক সহ সভাপতি মন্জুর আহমদ।
ফাজলে রশিদ বলেন, দেশে এখন বর্তমান সরকারের পছন্দের বাইরে সত্য বলা অসম্ভব, অদৃশ্য ধমকে থেমে গেছেন সাবেক উপদেষ্ঠা আকবর আলী। তার কণ্ঠে আর শোনা যায় না দেশের মানুষের দুঃখ দুর্দশার কথা। পত্রিকাগুলোর সম্পাদকরা যে সত্য বলা দরকার তা বলতে পারছেন না, আর তাদের অনেকে এবং অনেক সিনিয়র সাংবাদিক নিরব থেকে সরকারকে সুবিধা করে দিচ্ছেন। ব্যতিক্রম শুধু নিউ এজ সম্পাদক নুরুল কবির। নির্ভিক এই সাংবাদিককে নিয়ে ভয় হয়, কখন তার কি হয়?
মন্জুর আহমদ বলেন, বাংলাদেশের সংবাদ পত্রের অবস্থা নিয়ে আমি বিভ্রান্তিতে রয়েছি। যখন এই সরকার দায়িত্ব নেয় তখনই আমার মনে হয়েছে বাংলাদেশের রাজনীতি ও গণতন্ত্রের বিরাট ক্ষতি হয়ে গেছে। গণতন্ত্রের স্বপ্ন আমাদের দেখিয়েছেন রাজনীতিবিদরাই। সত্তরের নির্বাচন গণতন্ত্রের পথে বিরাট অগ্রযাত্রা ছিলো, কিন্তু তা আমরা পেলাম না, এজন্য আমাদের মুক্তিযুদ্ধ করতে হলো। কিন্তু গণতন্ত্রের স্বাদ পেরাম না আমরা। এরপর ৯১’এ আবার গণতন্ত্র ফিরে পেলাম, কিন্তু অল্প দিনেই মুখ থুবড়ে পরলো সেই গণতন্ত্র। গণতন্ত্রের জন্য লড়লেন যারা সেই রাজনৈতিকরা বিত্ত বৈভবে ভেসে গিয়ে গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে পারলেন না। আবার আঘাত এলো গণতন্ত্রের উপর। কিন্তু যারা ক্ষমতায় এলো তারা কারা? তাদের কোন দায়বদ্ধতা নেই, নেই কোন অভিজ্ঞতা। আমার ভয় হয় এ মুহূর্তে যদি কোন বহির্শক্তি বাংলাদেশে আক্রমণ করে তাহলে কি হবে?
ডাঃ চৌধুরী সারওয়ারুল হাসান বলেন, নিউইয়র্কে সফল ব্যবসায়ী মেয়র হয়েছেন, আর বাংলাদেশে মেয়র হবার পর কেউ কেউ সফল ব্যবসায়ী হন, আবার ব্যবসায়ী হচ্ছেন সংবাদপত্রের মালিক ও সংসদ সদস্য। সমাজের সর্বস্তরে যে অবক্ষয় ও ধ্বস নেমেছে তা থেকে সংবাদপত্রও বাইরে নেই। সংবাদপত্রের সমস্যা নিয়ে আমরা আলোচনা করতে পারি কিন্তু সমাধান কি তা আমারও জানা নেই।
কবি রফিক আজাদ বলেন, আমরা বাংলাদেশের মানুষ সত্যিকারের গণতন্ত্র কখনও ভোগ করতে পারিনি। সাংবাদিকরা জনগনের হয়ে দেশ পাহারা দেয়। এতো রক্ত, এতো ত্যাগ স্বীকার করে আমাদের যেখানে যাবার কথা ছিলো আমরা সেখানে পৌঁছাতে পারিনি। আমরা যারা দেশে থাকি তাদের চেয়ে যারা বাইরে থাকেন তারাই দেশকে বেশী করে অনুভব করেন।
সভাপতির বক্তব্যে সাপ্তাহিক বাংলা পত্রিকার সম্পাদক মাহবুবুর রহমান বাংলাদেশের সংবাদপত্রের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, নিউইয়র্কের সাপ্তাহিকগুলো বাংলাদেশের দৈনিক পত্রিকাগুলোর কাছে ঋণী হয়ে আছে এবং থাকবে। তাদের প্রকাশিত সিংহভাগ সংবাদ নিয়ে আমরা এখানে পত্রিকা প্রকাশ করি। তিনি আর বলেন, দেশের সংবাদপত্র জগতে যে অবস্থা বিরাজ করছে তা নিরসনে সরকারের সহযোগিতার হাত প্রসারের আহ্বান জানচ্ছি। আর পরিস্তিতির উন্নতি না হলে নিউইয়র্কে আগামীতে আমরা বিভিন্ন কর্মসূচী গ্রহণের মধ্যে দেশের সংবাদপত্র শিল্প ও সাংবাদিকদের অধিকার রক্ষায় আরও কার্যকর পদক্ষেপ নিবো।
সভায় আরও বক্তব্য রাখেন প্রেস ক্লাবের সহকারী সাধারন সম্পাদক সালাহউদ্দিন আহমেদ, উপদেষ্ঠা হাসানুর রহমান, কোষাধ্যক্ষ শেখ সিরাজুল ইসলাম, সদস্য মিসবাহ উদ্দিন। আমন্ত্রিত অতিথিদের মধ্যে শাহ ফাজলে রাব্বী, কবি হাসান আল আল আব্দুল্লাহ, সাপ্তাহিক জয়বাংলা’র নির্বাহী সম্পাদক মুস্তাক দাউদী। আরও উপস্থিত ছিলেন , সাপ্তাহিক জয়বাংলা’র সম্পাদক শরীফ শাহাবুদ্দিন।
এদিকে আগামী ২৪ জুন মঙ্গলবার নিউইয়র্ক বাংলাদেশ প্রেস ক্লাবের কার্যনির্বাহী কমিটির নিয়মিত সভা জ্যাকসন হাইটসের দেশ বাংলা ও বাংরা টাইমের সভাকক্ষে সন্ধ্যা সাতটায় শুরু হবে। সভায় কার্যকরী কমিটির সকল সদস্যকে যথা সময়ে উপস্থিত থাকতে অনুরোধ করা হয়েছে।
Bangla Community News Tags: জ্যাকসন হাইটস, নিউইয়র্ক, বাংলা টাইমস
Evergreen Bangla Community
Post Your Comments