বস্টনে নেতা-কর্মীদের সাথে শেখ হাসিনা

“২০২০ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে মধ্যম শ্রেণীর উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করতে সকলকে একযোগে কাজ করতে হবে”

বস্টন থেকে এনাঃ সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনা ১৮ জুন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের সাথে বিভিন্ন বিষয়ে কথা প্রসঙ্গে বলেছেন, সর্বাগ্রে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে সংহত করতে আমাদের সকলকে একযোগে কাজ করতে হবে। তাহলেই ২০২০ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে মধ্যম শ্রেণীর উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করা সম্ভব হবে। শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদেরকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। তিনি বলেন, সকলের প্রত্যাশিত নির্বাচনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ যদি ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হতে পারে তাহলে দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান চালাবে আইন সম্মতভাবে। তিনি বলেন, দুর্নীতি হচ্ছে বাংলাদেশের উন্নয়নকে স্থবির করে রাখার অন্যতম প্রধান কারণ। শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগের সকল কাজে বাংলাদেশের স্বার্থকে প্রাধান্য দেয়া হয়। শেখ হাসিনা প্রবাসের নেতা-কর্মীদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করে বলেন, প্রবাসীদের কাজের পরিপ্রেক্ষিতেই মুক্ত মানুষ হিসেবে চিকিৎসা নিতে আসতে পেরেছি। শেখ হাসিনা বলেন, বিগত ১১ মাসে কে কী করেছেন তা আমি সবই জানি। তিনি বলেন, প্রবাসে এসে আপনাদের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে মেশার সুযোগ পেয়ে এবং আপনাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করতে পেয়ে নিজেকে খুবই হালকা মনে হচ্ছে। তিনি তাঁর দ্রুত আরোগ্যের জন্য এবং বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের ইমেজকে সমুন্নত রাখার স্বার্থে দলীয় নেতা-কর্মীদের একযোগে কাজ করে যাবার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি প্রবাসীদের স্মরণ করিয়ে দেন যে, ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সালে আওয়ামী লীগের শাসনামলে বাংলাদেশ অভূতপূর্ব উন্নয়ন সাধন করেছে এবং বহির্বিশ্বেও বাংলাদেশের সুনাম ছড়িয়ে পড়েছিল। কিন্তু সে সব কথা বাংলাদেশের ভোটারদের অনেকেই জানেন না, এবারের নির্বাচনের আগে তা প্রতিটি ভোটারকে অবহিত করতে হবে। অত্যন্ত হৃদ্যতাপূর্ণ পরিবেশে শেখ হাসিনাকে জানানো হয় যে, চলমান পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে নিউইয়র্ক স্টেট এবং নিউইয়র্ক সিটি আওয়ামী লীগের কমিটি গঠন করা হয়েছে। এটা জেনে শেখ হাসিনা বলেন, আমি আগেই বলেছিলাম এসব কমিটি গঠনের জন্যে। সেটি করা হয়েছে জেনে খুশী হলাম। এসব কমিটির কাজ হচ্ছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ইমেজকে বহির্বিশ্বে সমুন্নত রাখার জন্যে কাজ করা€ একইসাথে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন সোনার বাংলা বাস্তবায়নের পথকেও সুগম করতে হবে।

বস্টনের ক্যাম্ব্রিজে শেখ হাসিনার ছেলে সজিব ওয়াজেদ জয়ের বাসায় এসেছিলেন নেতা-কর্মীরা সৌজন্য সাক্ষাতের জন্যে। এসময় শেখ হাসিনার বিশেষ সহকারী ডঃ হাসান মাহমুদ, ছেলে সজিব ওয়াজেদ জয়, কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সম্পাদক আব্দুস সোবহান গোলাপ, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের অন্যতম সদস্য ডঃ সিদ্দিকুর রহমান, ডঃ এ কে এ মোমেন, যুক্তরাষ্ট্র আ-লীগের সহসভাতি সৈয়দ বসারত আলী, কোষাধ্যক্ষ আবুল মনসুর খান, সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদুর রহমান সাজ্জাদ, সাংগঠনিক সম্পাদক নিজাম চৌধুরী, নিউইয়র্ক স্টেট আওয়ামী লীগের সদস্য সচিব মুজিবুর রহমান মিয়া, নিউইয়র্ক সিটি কমিটির আহবায়ক আবুল কাশেম এবং সদস্য সচিব খশরুজ্জামান খশরু, যক্তরাষ্ট্র মহিলা আওয়ামী লীগের আহবায়ক মমতাজ শাহানা এবং সদস্য সচিব আমেনা পারভিন, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক শামসুদ্দিন আযাদ, আইন বিষয়ক সম্পাদক এডভোকেট বখতিয়ার আলী শাহ, নির্বাহী সদস্য আব্দুস সামাদ আযাদ, সেন্টু, শ্রমিক লীগের প্রাক্তন আহবায়ক ফারুক আহমেদ, সদস্য জাহাঙ্গির আলম প্রমুখ। কর্মীদের পাশে বসে শেখ হাসিনা উপরোক্ত কথা বলেন এবং প্রবাসী সংগঠকদের কথাও গভীর মনোযোগ দিয়ে শ্রবন করেন। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, চিকিৎসার জন্যে ৭ দিন আগে বস্টনে আসার পর এটাই প্রথম দলীয় নেতা-কর্মীদের সাথে শেখ হাসিনার আনুষ্ঠানিক সৌজন্য সাক্ষাৎ। এ সাক্ষাতের ফলে প্রবাসের নেতা-কর্মীদের মধ্যে সৃষ্ট অনেক প্রশ্নের মিমাংসা হয়েছে বলে ঐ বৈঠকে উপস্থিত কয়েকজন বার্তা সংস্থা এনাকে জানিয়েছেন। তারা বলেন, সভানেত্রীকে আগে কখনো এমনভাবে কাছে পাইনি। এবার তিনি গভীর মনোযোগের সাথে প্রবাসীদের কথা জানলেন এবং প্রবাসীদের আহবান জানালেন দেশের কল্যাণে একযোগে কাজ করতে।

শেখ হাসিনা বাংলাদেশ সময় শুক্রবার সকালে বস্টন ছেড়ে ওয়াশিংটন ডিসিতে যাচ্ছেন। ছেলে জয়ও সপরিবারে সেখানে যাবেন। বছর দেড়েক আগে জয় ওয়াশিংটন থেকে বস্টনে এসেছিলেন হার্ভার্ড থেকে লোক প্রশাসনে উচ্চতর ডিগ্রী নেয়ার জন্যে। সে ডিগ্রী সাফল্যের সাথে গ্রহণ করেছেন বিধায় এখন ফিরে যাচ্ছেন ওয়াশিংটন ডিসিতে। শেখ হাসিনা ওয়াশিংটনে চোখের চিকিৎসা করতে পারেন। এরপর চলে যাবেন ফ্লোরিডার ওরল্যান্ডোতে কানের চিকিৎসার ফলোআপের জন্য। উল্লেখ্য যে, ১৬ ও ১৭ জুন কানেকটিকাটে বিশ্ববিখ্যাত ইয়েল ইউনিভার্সিটি স্কুল অব মেডিসিনে স্বাস্থ্য পরীক্ষা হয়েছে শেখ হাসিনার। তার হার্টে সমস্যা এবং চোখের অসুখও গুরুতর আকার ধারণ করেছে। এজন্যে শেখ হাসিনার চিকিৎসা শেষ না হওয়া পর্যন্ত পূর্ণ বিশ্রামে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা। রক্ত শূণ্যতা রয়েছেন বিধায় তাকে প্রচুর পানীয় গ্রহনের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

Bangla Community News Tags: , , , , ,

Related Bangla Community News:

Post Your Comments

All comments are subject to editorial review and decision.

*
To prove you're a person (not a spam script), type the security text shown in the picture. Click here to regenerate some new text.
Click to hear an audio file of the anti-spam word

Free Membership. Join Now!