হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বাংলাদেশের যুদ্ধাপরাধীদের ওপর রিপোর্ট প্রকাশ করবে
নিউইয়র্ক থেকে এনাঃ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার নিয়ে কর্মরত বিশ্বব্যাপী সুপরিচিত ‘হিউম্যান রাইটস ওয়াচ’র পক্ষ থেকে একাত্তরে বাংলাদেশের যুদ্ধাপরাধীদের উপর একটি রিপোর্ট প্রকাশ করবে। এটি প্রকাশিত হলে যুদ্ধাপরাধীদের জঘন্য অপকর্মের ব্যাপারে এ প্রজন্মের মানুষ নতুন করে অবহিত হতে সক্ষম হবেন এবং একইসাথে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে আন্তর্জাতিক জনমত গঠনের প্রক্রিয়াটিও ত্বরান্বিত হবে। ১১ জুন নিউইয়র্কে হিউম্যান রাইটস ওয়াচের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সাথে সেক্টর কমান্ডার্স ফোরামের শীর্ষ নেতৃবৃন্দের বৈঠকের পর বার্তা সংস্থা এনাকে এসব তথ্য জানিয়েছেন ‘ফেডারেশন অব অর্গানাইজেশন্স এগেইনস্ট বাংলাদেশ ওয়ার ক্রিমিনাল্্স’র আহবায়ক ডঃ নূরন্নবী। উল্লেখ্য যে, ডঃ নবীও ঐ বৈঠকে অংশ নেন। বৈঠকে সেক্টর কমান্ডার্স ফোরামের আহবায়ক অবসরপ্রাপ্ত এয়ার ভাইস মার্শাল এ কে খন্দকার, সাবেক সেনাপ্রধান ও সেক্টর কমান্ডার্স ফোরামের প্রধান সমন্বয়কারী লেঃ জেনারেল হারুন আর রশীদ, ফোরামের সমন্বয়কারী মেজর জেনারেল (অবঃ) জামিল ডি আহসান, যুক্তরাষ্ট্র মুক্তিযোদ্ধা সংসদের উপদেষ্টা ডঃ মহসিন আলী, যুক্তরাষ্ট্র ঐক্য পরিষদের অন্যতম সভাপতি রতন বড়ুয়াও বৈঠকে অংশ নেন। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এশিয়া বিষয়ক উপপরিচালক ইলেইন পিয়ারসন এবং লিগেল ও পলিসি বিষয়ক পরিচালক জেমস রস সরাসরি বৈঠকে অংশ নেন। অপরদিকে হিউম্যান রাইটস ওয়াচের পরিচালক হেনরিক আলফ্রেম ওয়াশিংটন ডিসির অফিস থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বৈঠকে অংশ নেন। বৈঠকে এ কে খন্দকার একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের মানবতা বিরোধী অপরাধের সংক্ষিপ্ত বিবরণ উপস্থাপন করেন এবং বলেন, হিউম্যান রাইটস ওয়াচের সনদকে সমুন্নত রাখার স্বার্থেই বাংলাদেশের যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে তাদের সহায়তা প্রত্যাশা করা হচ্ছে। আর এ বিচার হতে হবে বাংলাদেশের আদালত ও আন্তর্জাতিক আদালতে। এ কে খন্দকার বলেছেন, চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধীদের অন্যতম আশরাফুজ্জামান খান যুক্তরাষ্ট্রে এবং মইনউদ্দিন লন্ডনে বসবাস করছে। তাদের বিচারের জন্যেই প্রয়োজন জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহায়তা। একাত্তরের বর্বররাচিত আচরণের বিবরণ জেনে হিউম্যান রাইটস ওয়াচের কর্মকর্তারা গভীর সহানুভূতি প্রকাশ করেন বিচারের দাবির প্রতি। এ সময় সেক্টর কমান্ডার্স ফোরামের পক্ষ থেকে আহবান জানানো হয় যুদ্ধাপরাধীদের উপর একটি বিবৃতি প্রকাশের জন্য। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের পরিচালক বলেছেন যে, শীঘ্রই তিনি এ ব্যাপারে তার সহকর্মীদের সাথে বৈঠকে মিলিত হবেন এবং বিষয়টি ত্বরান্বিত করার চেষ্টা করবেন। নীতিগতভাবে তিনি সম্মত হয়েছেন বলেও ডঃ নবী এনাকে জানিয়েছেন। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, গত মাসের ২৩ তারিখে যুক্তরাষ্ট্রে এসেছিলেন সেক্টর কমান্ডার্স ফোরামের উপরোক্ত ৩ কর্মকর্তা। তারা এ সময়ে নিউইয়র্ক, ওয়াশিংটন ডিসি, নর্থ ক্যারলিনা, লসএঞ্জেলেস এবং আটলান্টায় কয়েকটি সমাবেশে বক্তব্য প্রদান ছাড়াও জাতিসংঘ, স্টেট ডিপার্টমেন্ট, ক্যাপিটল হিল এবং আন্তর্জাতিকভাবে প্রভাবশালী কয়েকটি গ্রম্নপের সাথে পৃথক পৃথক বৈঠকে মিলিত হন এবং যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে কেয়ারটেকার সরকারের উপর চাপ প্রয়োগের জন্যে সংশি্নষ্ট কর্মকর্তাদের আহবান জানিয়েছেন। ১১ জুন ঢাকার উদ্দেশ্যে নিউইয়র্ক ত্যাগের প্রাক্কালে নিউইয়র্কের প্রবাসীদের প্রতি উদাত্ত আহবান জানিয়েছেন, একাত্তরের চেতনায় যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে পুনরায় একযোগে কাজ করার জন্যে। যুক্তরাষ্ট্র মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কর্মকর্তারা তাদেরকে নিউইয়র্ক এয়ারপোর্টে বিদায় অভিবাদন জানান।
Bangla Community News Tags: ওয়াশিংটন, জাতিসংঘ, নিউইয়র্ক, প্রবাসী, মুক্তিযোদ্ধা, যুদ্ধাপরাধী, লন্ডন
Evergreen Bangla Community
Post Your Comments