বস্টনে ফুলেল শুভেচ্ছায় অভিভূত শেখ হাসিনা
“বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের জন্ম হয়েছে মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার ও মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্যে’
বস্টন থেকে এনা (১২ জুন)ঃ নেতা-কর্মী-সমর্থক প্রবাসীদের ভালোবাসায় সিক্ত হলেন শেখ হাসিনা বস্টনে লগন ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টে। বাংলাদেশ সময় শুক্রবার সকাল ৬ টায় বৃটিশ এয়ারওয়েজ যোগে লন্ডন থেকে বস্টন এয়ারপোর্টে অবতরণের পরই কয়েক শত প্রবাসী শেখ সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফুলেল শুভেচ্ছা এবং শ্রদ্ধার্ঘ প্রদর্শনের জন্যে হুমড়ি খেয়ে পড়েন ভিআইপি লাউঞ্জের সামনে। এয়ারপোর্টের নিরাপত্তা রক্ষীরাও পরিস্থিতির সামাল দিতে হিমসিম খেয়েছেন। তবে কারোই আচরণে শালিনতা ছাড়িয়ে যায়নি। শেখ হাসিনার একমাত্র পুত্র সজিব ওয়াজেদ জয়ও সক্রিয় ছিলেন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে। এহেন পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে শেখ হাসিনার ইচ্ছা থাকা সত্বেও সমবেত প্রবাসীদের উদ্দেশ্যে কোন কথা বলতে পারেননি আনুষ্ঠানিকভাবে। তবে এয়ারপোর্টের সামনের অপেক্ষমান গাড়িতে উঠার আগে সাংবাদিকদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময়ের সময় শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশের মানুষ দ্রম্নত নির্বাচন চায় এবং সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক সরকার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিক এটা কামনা করছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের জন্ম হয়েছে মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার ও মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্যে। সে আন্দোলনে এখনও রয়েছে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা। এরপরই পুত্রবধূ ক্রিস্টিনা জয় এবং নাতনী সোফিয়া রেহানা ওয়াজেদকে নিয়ে গাড়িতে উঠেন এবং সমবেত নেতা-কর্মীরা হাত নেড়ে তাকে বিদায় অভিবাদন জানান। গাড়িটি চলে যায় জয়ের বাসায়। উল্লেখ্য যে, শেখ হাসিনার কানের ও চোখের চিকিৎসার ফলোআপের জন্যে যুক্তরাষ্ট্রে এলেন। ৩/৪ দিন জয়ের বাসায় অবস্থানের সময়েই যদি চিকিৎসকের এপয়েন্টমেন্ট কনফার্ম হয় তাহলে তিনি চলে যাবেন ফ্লোরিডার ওরল্যান্ডোতে। নচেৎ কন্যা সায়মা হোসেন পুতুলের সাথে কটা দিন কাটানোর জন্যে কানাডায় যেতে পারেন। শেখ হাসিনার সফরসঙ্গি হয়ে এসেছেন তার বিশেষ সহকারী ডঃ হাসান মাহমুদ, নিরাপত্তা কর্মকর্তা মেজর জেনারেল (অবঃ) তারেক আহমদ সিদ্দিকী।
স্থানীয় সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় বৃটিশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটটি বস্টনে অবতরণ করলেও শেখ হাসিনা বেরিয়ে আসেন ৮টার দিকে। নানা প্রক্রিয়া এবং লাগেজ প্রাপ্তিতে বিলম্ব ঘটে বলে জানা যায়। এয়ারপোর্টে এসেছিলেন নিউইয়র্ক, নিউজার্সী, কানেকটিকাট, ফিলাডেলফিয়া, ওয়াশিংটন ডিসি, মেরিল্যান্ড, ভার্জিনিয়া, দেলওয়ারে এবং কানাডা থেকে নেতা-কর্মীরা। নারী ও শিশুরাও এসেছিলেন ফুল হাতে। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা সাবেক মন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মোহিত, সাবেক উপমন্ত্রী ফখরুল ইসলাম মুন্সি, কেন্দ্রীয় নেতা আব্দুস সোবহান গোলাপ, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি খালেদ হাসান, সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদুর রহমান সাজ্জাদ, সাংগঠনিক সম্পাদক নিজাম চৌধুরী, মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা আইরিন পারভিন, নিউইয়র্ক স্টেট আওয়ামী লীগের আহবায়ক সিরাজউদ্দিন আহমেদ এবং সদস্য-সচিব মুজিবুর রহমান মিয়া, নিউইয়র্ক সিটি আওয়ামী লীগের আহবায়ক আবুল কাশেম এবং সদস্য সচিক-খশরুজ্জাসান খসরু, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের নেতা আব্দুস সামাদ আযাদ, ওয়াশিংটন মেট্র, বস্টন, পেনসিলভেনিয়া আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী, যুক্তরাষ্ট্র যুবলীগের সভাপতি মিসবাহ আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন, স্বেচ্ছাসেবক লীগের আহবায়ক মহিউদ্দিন দেওয়ান, যুগ্ম আহবায়ক ইকবাল কবীর, মহিলা আওয়ামী লীগ, শ্রমিক লীগ, বঙ্গবন্ধু পরিষদ, যুক্তরাষ্ট্র মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, শেখ হাসিনা মুক্তি সংগ্রাম পরিষদের নেতা-কর্মীরা। শত শত মাইল দূরে বস্টনে সমবেতরা আপ্নুত হয়েছেন তাদের নেত্রীকে হাসিখুশী মেজাজে দেখতে পেরে। শেখ হাসিনা এয়ারপোর্ট থেকে বেরিয়ে আসার পরই পুত্র সজিব ওয়াজেদ জয়কে বুকে নিয়ে আদর করেন অনেকক্ষণ। এরপর তার পুত্রবধূ ক্রিস্টিনা জয় ও দেড় বছরের সোফিয়াকে বুকে নিয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। এ দৃশ্য সকলকে আপ্নুত করে।
উল্লেখ্য যে, শেখ হাসিনাকে অভ্যর্থনা জ্ঞাপনের জন্য ওয়াশিংটন থেকে এসেছিলেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হুমায়ূন কবির।
উৎফুল্ল প্রবাসীদের অবস্থা প্রত্যক্ষ করে এয়ারপোর্টে সমবেত ভিনদেশীরাও কৌতুহলী হয়ে উঠেছিলেন। কেননা সাম্প্রতিক সময়ে বস্টন এয়ারপোর্টে এমন কাউকে এভাবে অভ্যর্থনা জানাতে কেউ দেখেননি।
Bangla Community News Tags: আওয়ামী লীগ, ওয়াশিংটন, কানাডা, নিউইয়র্ক, নিউজার্সী, প্রবাসী, বঙ্গবন্ধু, বঙ্গবন্ধু পরিষদ, মুক্তিযোদ্ধা, লন্ডন, শেখ হাসিনা
Evergreen Bangla Community
Post Your Comments