অষ্ট্রেলিয়ার রেডক্রস জানে রক্তদানে বাঙ্গালি অগ্রগামী
সিডনিঃ অষ্ট্রেলিয়ার রেডক্রস জানে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে অষ্ট্রেলিয়ার বাঙ্গালিরা রক্ত দেয়। এরসঙ্গে তারা বাঙ্গালির রক্তের ইতিহাসও জানে। মায়ের ভাষার জন্যে রক্ত দিয়েছে বাঙ্গালিরা। দেশ স্বাধীন করার জন্যে রক্ত দিয়েছে। কারনে অকারনে বাংলাদেশের বাঙ্গালিরা এখনও রক্ত দিয়েই চলেছে। কিন্তু অষ্ট্রেলিয়ার বাঙ্গালিরা এদেশের রেডক্রসকে রক্ত দেয় মানবিক কারনে। এরজন্যে তারা বাঙ্গালির আত্মত্যাগের মহান দিন একুশে ফেব্রুয়ারি তথা আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসকে বেছে নিয়েছে। স্বেচ্ছায় রক্তদানে বাঙ্গালির অগ্রগামী ভূমিকাকে বিশেষ প্রশংসার চোখে দেখে অষ্ট্রেলিযার রেডক্রস। রক্তদানের মতো মানবিক কর্মসূচিকে আরও বেগবান করে প্রবাসী বাঙ্গালিদের অষ্ট্রেলিয়ার মূল স্রোতধারার কাছে আরও ঘনিষ্ঠ করে নেবার আহবান জানিয়েছেন সিডনির একুশে একাডেমির নেতৃত্ব।
রবিবার সিডনিতে একুশে একাডেমির পূনর্মিলনী অনুষ্ঠানে কথাগুলো বলা হয়েছে। একুশে একাডেমির সভাপতি নেহাল নেয়ামুল বারীর সভাপতিত্বে পূনর্মিলনীর আলোচনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ড. আব্দুর রাজ্জাক, কামরুল আহসান খান, অজয় দাশগুপ্ত, ড. শামস রহমান, মিজানুর রহমান তরুন, হারুনুর রশীদ আজাদ, ডা. আব্দুল ওয়াহাব, রহমত উল্লাহ, শাফিন রাশেদ, আব্দুল আজিজ, অমিয়া মতিন, অভিজিৎ বড়ুয়া, ফজলুল বারী, আল নোমান শামীম, রঞ্জিত দাশ, শাহীন মোহাম্মদ আমান উল্লাহ প্রধান প্রমুখ।
আল নোমান শামীমের পরিচালনায় আলোচনা অনুষ্ঠান শেষে সাংস্কৃতিক আয়োজনে সিডনির বিশিষ্ট শিল্পীরা অংশ নেন। বারউডের একটি মিলনায়তনে আলোচনায় সিডনির সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডের নানা দিক উঠে এসেছে। এক মিশুক প্রকাশনীর বইমেলার হাত ধরে এখন প্রতি বছর একুশে একাডেমির ব্যানারে একুশের বইমেলা অনুষ্ঠিত হয় এ্যাশফিল্ডের হ্যারিটেজ পার্কে। হ্যারিটেজ পার্কে গড়ে উঠেছে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা স্মৃতিস্তম্ভ। এটিই পৃথিবীতে বাঙ্গালির গড়া প্রথম আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা স্মৃতিস্তম্ভ। প্রতি বছর এর পাদদেশেই অনুষ্ঠিত হয় একুশের বইমেলা। এবারের এক দিনের মেলায় ছ’হাজার ডলারের বেশি মূল্যের বই বিক্রি হয়েছে। কিন্তু এখন আর এ্যাশফিল্ডের ছোট পার্কটিতে কুলোচ্ছে না। আশেপাশে গাড়ি পার্কিংএর জায়গা কম থাকাতে অনেকে ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও এ্যাশফিল্ডের মেলায় যেতে পারেন না। এরজন্যে বাংলা একাডেমির বইমেলার মতো সিডনির এই বইমেলারও স্থান পরিবর্তনের দাবি উঠেছে। কিন্তু রবিবারের আলোচনা অনুষ্ঠানে কলামিস্ট, ছড়াকার অজয় দাশগুপ্ত এর বিরোধিতা করে বলেছেন, বাংলা একাডেমির জায়গাটি যত ছোট হোক কেন সেখান থেকে যেমন বইমেলা সরানো যাবে না তেমনি সিডনির মেলাও এ্যাশফিল্ডের হ্যারিটেজ পার্ক থেকে সরাবার সুযোগ নেই। কারন এরসঙ্গে বিশেষ একটি ইতিহাস জড়িত হয়ে গেছে। কারন কারও ব্যক্তিগত সুবিধা অসুবিধার কথা মনে করে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার বা বাংলা একাডেমির বইমেলার মতো সিডনির আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা স্মৃতিসৌধও এ্যাশফিল্ডের হ্যারিটেজ পার্ক থেকে সরিয়ে নেবার সুযোগ নেই।
আলোচনা অনুষ্ঠানের বক্তারা প্রবাসী বাঙ্গালি পরিবারগুলোর নতুন প্রজন্মের ছেলেমেয়েদের বাংলা শেখানো, বাঙ্গালির সংস্কৃতি চর্চা বাড়ানোর তাগিদ দিয়ে বলেন, নতুবা নতুন প্রজন্ম শিকড় বিচ্চুত হবে।
ড. আব্দুর রাজ্জাক, কামরুল আহসান খান, ড. শামস রহমান, অজয় দাশগুপ্ত, মিজানুর রহমান তরুন, হারুনুর রশীদ আজাদ, শাফিন রাশেদ প্রমুখ একুশে বইমেলা আর একুশে একাডেমিকে আরও কার্যকর করার নানা পরামর্শ দিয়েছেন। সিডনির আর নানা অনুষ্ঠানের মতো বারউডের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেরও মধ্যমণি ছিলেন শিল্পী অমিয়া মতিন। তার গানে গানে শ্রোতারা হয়েছেন মন্ত্রমুগ্ধ। অনেকদিন পর সিডনির মঞ্চে শ্রোতাদের প্রাণ ছুঁয়েছে মুক্তিযোদ্ধা শিল্পী মিজানুর রহমান তরুনের গান। আরও গান গেয়েছেন পিয়াসা বড়ুয়া, পাপিয়া, ছায়া বিশ্বাস, রাজন নন্দী, পাভেল চৌধুরী, শাহীন মোহাম্মদ আমান উল্লাহ প্রধান, আব্দুস সাত্তার প্রমুখ। তবলায় ছিলেন অভিজিৎ বড়ুয়া।
Bangla Community News Tags: অষ্ট্রেলিয়া, প্রবাসী, মুক্তিযোদ্ধা
Evergreen Bangla Community


Post Your Comments