যুদ্ধাপরাধী আশরাফুজ্জামান খানকে সামাজিকভাবে বয়কটের সিদ্ধান্ত
বর্ণমালা নিউজ (নিউইয়র্ক): আমেরিকায় বসবাসকারী একাত্তরের যুদ্ধাপরাধী আশরাফুজ্জামান খানকে সমাজিকভাবে বয়কটের সিদ্ধান্ত নেবার মধ্যে দিয়ে বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডার ফোরাম আহুত কর্মসূচী একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের সামাজিকভাবে বয়কটের কর্মসূচীর সাথে একাত্মতা প্রকাশ করলো ফেডারেশন অব অর্গানাইজেশন এগেনস্ট বাংলাদেশ ওয়ার ক্রিমিনাল ইউএসএ। গত ৩ মে শনিবার সাংবাদিক কলামিস্ট ও একুশের গান রচয়িতা আব্দুল গাফফার চৌধুরীর সম্মানে আয়োজিত সংগঠনের সভায় নিউইয়র্কে বসবাসরত একাত্তরের যুদ্ধাপরাধী এবং ইসলামী সার্কেল অব নর্থ আমেরিকা (ইকনা)’র সাবেক সভাপতি আশরাফুজ্জামান খানকে সমাজিকভাবে বয়কটের সিদ্ধান্ত নেবার পাশাপাশি সকল বাংলা সংবাদ মাধ্যমকে যুদ্ধাপরাধী ইস্যুতে নৈতিক অবস্থানে থেকে এদের বিজ্ঞাপন বয়কট ও সংবাদ প্রচারে অনিহা প্রকাশের আহ্বান জানানো হয়।
জ্যাকসন হাইটসের বাংরাদেশ প্লাজার সভাকক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি আব্দুল গাফফার চৌধুরী জানান লন্ডনে চিহ্নিত সাতজন যুদ্ধাপরাধী রয়েছেন যারা একাত্তরের যুদ্ধাপরাধে সংশ্লিষ্ঠ ছিলেন। এদের মধ্যে অন্যতম হচেছন চৌধুরী মইনউদ্দিন। সৌদি আর্থিক পৃষ্ঠপোষকতায় তিনি বিশাল বৃত্তের অধিকারী হয়ে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে কাজ করে যাচ্ছেন। আরেক যুদ্ধাপরাধী আব্দুল সালিক সাংবাদিক আ ন ম মোস্তফা ও আলিম চৌধুরী হত্যাকান্ডে সরাসরি জড়িত ছিলেন- এদেরকে সামাজিকভাবে বয়কটের পাশাপাশি ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দেয়া হয়েছে। যুদ্ধাপরাধীদের বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডারদের কর্মসূচী নিয়ে দ্বিধা দ্বন্ধে রয়েছেন গাফফার চৌধুরী। তার বক্তব্যেও তাই প্রকাশ পেয়েছে। তিনি বলেন, ভয় হয় সেক্টর কমান্ডারদের বর্তমান আন্দোলনের পেছনে হয়তো সরকারের ইন্ধন থাকতেও পারে। আর এই সুযোগে সরকার বিচারের নামে দু’য়েকজনকে অভিযুক্ত করে বাকীদের প্রমাণের অভাবে নির্দোষ সাব্যস্ত করে তাদেরকে পুনর্বাসিত করার নীল নকশা বাস্তবায়ন করবে। আর আমাদের বিচারকরা যখন বঙ্গবন্ধু হত্যামামলায় যেভাবে বিব্রত হন, ঠিক তার উল্টো ঘটনার জন্ম দিয়ে তখন হয়তো আদালতের কাঠগড়ায় দাড়ানো গোলাম আযমকে পীর মেনে নিয়ে নিরাপধীর সার্টিফিকেট দিয়ে দিবেন। তার পরও সেক্টর কমামান্ডারদের ধন্যবাদ জানিয়ে প্রশ্ন রাখতে চাই বিএনপি যেদিন যুদ্ধাপরাধীর দল জামাতকে নিয়ে সরকার গঠন করলো ২০০১ সালে, ৯৬ সালে আন্দোলনে আওয়ামী লীগ যখন তাদের সহযোগিতা নিলো তখন কোথায় ছিলেন আপনারা? ভাবতে অবাক লাগে যে মীর শওকত আলী এক সময়ে এদের সাথে মন্ত্রীত্ব ভাগাভাগি করেছেন এবং লন্ডনে রাষ্ট্রদূতের দায়িত্বে থাকার সময়ে বলেছিলেন যে, জয় বাংলা শ্লোগান হারাম, আর এখন তিনিই ’জয় বাংলা’ শ্লোগান দেন। তাছাড়া আমার প্রশ্ন যে আটজন সেক্টর কমান্ডার যুদ্ধাপরাধী ইস্যুতে আন্দোলন করছেন তাদের মধ্যে ক’জন এ বিষয়টিতে বিশ্বাস করেন?
গাফফার চৌধুরী আরও বলেন, লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কেন্দ্রে যুদ্ধাপরাধী বিষয়ে অনুষ্ঠান না করে এ আন্দোলন রাস্তায় ছড়িয়ে দিতে হবে, তীব্র গণ আন্দোলনের মুখে বিচারকরাও যেন সঠিক রায় দিয়ে এদেরকে যুদ্ধাপরাধী হিসাবে চিহ্নিত করেন এবং গোলাম আযমের নাগরিকত্ব পাবার মত তারা যেন আইনের সাহায্য না পান।
সভাপতির বক্তব্যে ফেডারেশন অব অর্গানাইজেশন এগেনস্ট বাংলাদেশ ওয়ার ক্রিমিনাল ইউএসএ‘র যুগ্ম আহ্বায়ক প্রবীণ সাংবাদিক ও বিলুপ্ত সাপ্তাহিক প্রবাসীর সম্পাদক মোহাম্মদউল্ল্যাহ বলেন, একাত্তরের যুদ্ধাপরাধী আশরাফুজ্জানকে চিহ্নিত করে তার পরিচয় প্রকাশ করেছিলো সাপ্তাহিক প্রবাসী। তিনি আশরাফুজ্জামানসহ প্রবাসের অন্যন্য যুদ্ধাপরাধী ও রাজাকার-জামাতী শক্তিকে প্রতিহত করতে সকলকে আহ্বান জানান। নিউইয়র্কের সংবাদ মাধ্যমকে এদের বিজ্ঞাপন ও সংবাদ বয়কটের অনুরোধ করেন। সভার বিশেষ অতিথি বস্টন ইউনিভার্সিটির প্রফেসর আব্দুল মোমেন বলেন, স্বাধীনতার অব্যবহিত সময়ে দেশ গঠন ও অন্যন্য কাজে ব্যস্ততা এবং কিছুটা হলেও অবহেলার কারনে সে সময়ের সরকার যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দায়িত্ব পালন করেনি। আর তখন সিভিক সোসাইটির নেতারা আজকের মত বিষয়টিকে গুরুত্ব দেননি। তবে এখন যখন সুযোগ এসেছে তখন বিষয়টির নিষ্পত্তি হওয়া উচিৎ। আরেক বিশেষ অতিথি কলামিস্ট বেলাল বেগ বলেন, পচাত্তরের ১৫ আগস্ট মুক্তিযুদ্ধে পরাজিত শক্তিরা বাংলাদেশকে পুনর্দখল করে নেয়। এটা সম্ভব হয়েছিলো সেনাবাহিনীর ভেতরে থাকা স্বাধীনতা বিরোধী চক্রের শক্তি অর্জন এবং আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের কারনে।
সভার সঞ্চালক ফেডারেশন অব অর্গানাইজেশন এগেনস্ট বাংলাদেশ ওয়ার ক্রিমিনাল ইউএসএ‘র যুগ্ম আহ্বায়ক মুক্তিযোদ্ধা ড. নুরুন্নবী তার স্বাগত বক্তব্যে বলেন যুদ্ধাপরাধীদের বিচার না হওয়া পর্যন্ত আমাদের সার্ভভৌমত্ব সংহত হবে না, স্বাধীনতা সংগ্রামে জীবন উৎসর্গকারী লক্ষ লক্ষ শহীদের আত্মাও শান্তি পাবে না।
প্রশ্নোত্তর পর্বে তাদের ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ নেতা আবুল কাশেম ও নাট্যাভিনেত্রী লুৎফুন্নাহার লতা বলেন সম্প্রতি নিউইয়র্ক সিটি হলে একজন কাউন্সিলম্যান ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস উদযাপন অনুষ্ঠানে তিনজন রাজাকারকে প্রক্লেমেশন দেয়া হয়েছে, অথচ সেই অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সোসাইটির উর্ধ্বতন কর্মকার্তারা উপস্থিত ছিলেন এবং অনুষ্ঠান আয়োজনেও তারা সহযোগিতা করেছেন।
Bangla Community News Tags: আওয়ামী লীগ, জ্যাকসন হাইটস, নিউইয়র্ক, প্রবাসী, বঙ্গবন্ধু, বাংলাদেশ সোসাইটি, বিএনপি, মুক্তিযোদ্ধা, যুদ্ধাপরাধী, লন্ডন, স্বাধীনতা দিবস
Evergreen Bangla Community
Post Your Comments