রাস্তার ভিক্ষুকও ব্যাংকিং সেবা পাবার অধিকার রাখে - ড. ইউনূস
বর্ণমালা নিউজ (নিউইয়র্ক): বাঙ্গালীর প্রাণকেন্দ্র জ্যাকসন হাইটস্থেসে এক অভূতপূর্ব দৃশ্য- নোবেল জয়ী ড. মোহাম্মদ ইউনূস এসেছেন তাঁরই আবিষ্কৃত ক্ষুদ্র ঋণ ব্যবস্থার আমেরিকান রূপ ’গ্রামীণ আমেরিকা’র প্রথম শাখার উদ্বোধন করতে। মূলধারার নামী-দামী প্রায় সব প্রিন্ট ও ইলেক্টনিক মিডিয়ার সংবাদকর্মীদের মধ্যে প্রতিযোগিতা, কার আগে কে ড. ইউনূসের ছবি তুলবেন। গর্বে বুক ভরে গেছে প্রতিটি বাংলাদেশীর গত ২৫এপ্রিল শুক্রবার এই দৃশ্য দেখে।
পূঁজিবাদের সূতিকাগার আমেরিকার শক্তিশালী ব্যাংকিং ব্যবস্থার বিরুদ্ধে তার আবিষ্কৃত ক্ষুদ্র ঋণ বিতড়ন ব্যবস্থার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের শুভ লগ্নে তার স্বাগত ভাষনে ড. ইউনূস বললেন, তৃতীয় বিশ্বের মত আমেরিকাতেও যারা প্রথাগত ব্যাংকিং ব্যবস্থার সেবা পান না তাদেরকে সেবা দিতে গ্রামীণ আমেরিকার গোড়াপত্তন করা হয়েছে। তিনি সবাইকে স্মরণ করিয়ে দেন যে, বাংলাদেশের গ্রামীণ ব্যাংকের সাথে গ্রামীণ আমেরিকার কোন সম্পৃক্ততা নেই, এটি সম্পূর্ণ ভিন্ন আঙ্গিকের প্রতিষ্ঠান। তবে এরও মূলমন্ত্র হচ্ছে ক্ষুদ্র ঋণ বিতড়নের মাধ্যমে ব্যক্তি ও সমষ্ঠিগত ঋণ সহায়তা প্রদান। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত গ্রামীণ আমেরিকার বাংলাদেশী সহ বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর ঋণ গ্রহীতাদের উদ্দেশ্য করে ড. ইউনূস বলেন, আপনারা এই উদ্যোগের সাথে সম্পৃক্ত হয়ে ইতিহাসের অংশিদার হয়ে থাকলেন, এ যেন চাঁদে মানুষের প্রথম পা ফেলার মতই। আপনাদের অনুসরণ করে এদেশের লক্ষ লক্ষ মানুষ এই নতুন ব্যাংকিং ব্যবস্থার সেবা নিবে, যারা এদেশের প্রচলিত ব্যাংকিং সুবিধা থেকে বঞ্চিত।
জ্যাকসন হাইটসকে আমেরিকার অভিবাসী গোষ্ঠীর প্রবেশদ্বার অ্যাখ্যায়িত করে এখানে গ্রামীণ আমেরিকার প্রথম শাখা উদ্বোধনের প্রেক্ষাপট বর্ণনা করে ড. ইউনূস বলেন, জ্যাকসন হাইটসকে অনুসরণ করে শীঘ্রই সারা আমেরিকায় ছড়িয়ে পরবে এর কার্যক্রম। বাল্টিমোর, ওয়াশিংটন থেকে অনুরোধ আসছে গ্রামীণ আমেরিকার শাখা খোলার, এ তথ্য জানিয়ে ড. ইউনূস আরও বলেন, ক্যাটরিনা ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত নর্থ ক্যারোলিনায় গ্রামীণ আমেরিকার মাধ্যমে ক্ষুদ্র ঋণ বিতরনের জন্য বিশেষভাবে তাকে অনুরোধ করা হয়েছে।
তাঁর উদ্বোধনী বক্তব্যে ড. মোহাম্মদ ইউনূস আরও বলেন, বিশ্বের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক রাজধানী নিউইয়র্কে গ্রামীণ আমেরিকার যাত্রা একটি বিশেষ ঘটনা হিসাবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। বিশ্বের সেরা ব্যাংকিং ব্যবস্থার গর্বের অধিকারী এই নিউইয়র্কে অনেক মানুষই সেই ব্যাংকিং ব্যবস্থার সেবা লাভের যোগ্যতা রাখেন না। অথচ ব্যাংকিং ব্যবস্থা হওয়া উচিৎ সবার জন্য, এমন কি রাস্তার ভিক্ষুকও এর সেবা পাবার অধিকার রাখে। সেই সব বঞ্চিত নিউইয়র্কবাসীকে গ্রামীণ আমেরিকা সেবা দিবে।
ড. ইউনূসের বক্তব্যের সমাপনীর মধ্যে দিয়ে ’ব্যাংকিং ফর দ্য আনব্যাংকড’ শ্লোগান নিয়ে গ্রামীণ আমেরিকার যাত্রা শুরু হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যন্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন নিউইয়র্ক বাংলাদেশ কসন্যুলেটের কনসাল জেনারেল মোহাম্মদ সামশুল হক ও গ্রামীণ আমেরিকার সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ও জেনারেল ম্যানেজার শাহ নেওয়াজ।
এদিকে জ্যাকসন হাইটসেই এসেছিলেন প্রথম বাংলাদেশী নোবেল বিজয়ী ড. মোহাম্মদ ইউনূস কিন্তু তাকে বরণ করে নিতে বা সামান্য সৌজন্য অভ্যর্থনা জানাতে আসেননি জ্যাকসন হাইটস বাংলাদেশী বিজনেস এসোসিয়েশনের (জেবিবিএ) কোন উর্ধ্বতন কর্মকর্তা। বিষয়টি অনেকের কাছেই দৃষ্টিকটূ লেগেছে। অথচ ড. মোহাম্মদ ইউনূসকে ফুলের মালা দিয়ে বরণ করে নিয়ে সামান্য একটু আনুষ্ঠানিকতা করলে জেবিবিএ’র ই সম্মান বাড়তো। আর তা করে বাংলাদেশী ব্যবসায়ীরাও এই বিশ্বজয়ী বাঙ্গালীর সানিধ্য পাবার গর্বের অংশিদার হতে পারতেন।
Bangla Community News Tags: ওয়াশিংটন, জ্যাকসন হাইটস, ডঃ ইউনূস, নিউইয়র্ক
Evergreen Bangla Community
Post Your Comments