আমেরিকা প্রবাসীদের অভিমতঃ অষ্ট্রেলিয়ার মত বাংলাদেশেও ‘সিটিজেন এডভাইজারী গ্রুপ’ গঠন করা উচিত

নিউইয়র্ক থেকে এনাঃ ভবিষ্যত চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় অষ্ট্রেলিয়াকে একুশ শতকের নেতৃত্ব প্রদানে সক্ষম একটি আধুনিক-গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে পরিণত করার লক্ষ্যে অষ্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী কেভিন রুডের মত বাংলাদেশের কেয়ারটেকার সরকারেরও উচিত দেশের বিভিন্ন সেক্টরে মেধা সম্পন্ন নাগরিকের সমন্বয়ে ‘সিটিজেন এডভাইজারী গ্রুপ’ গঠন করা। বাংলাদেশের নাগরিক কিন্তু বর্তমানে বিভিন্ন দেশে সাফ্যল্যের সাথে দায়িত্ব পালন করে পেশাগত খ্যাতি অর্জন করেছেন এমন অভিজ্ঞতাসম্পন্ন প্রবাসীদেরকেও ঐ ‘সিটিজেন এডভাইজারী গ্রুপ’এ অন্তর্ভুক্ত করা হলে বাংলাদেশের উন্নয়ন সম্ভাবনাকে বাস্তবায়িত করা সহজ হবে বলে মনে করছেন জাতিসংঘে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে অধিষ্ঠিত কয়েকজন প্রবাসী বাংলাদেশী। এদের একজন অষ্ট্রেলিয়ান সিটিজেনশিপ পেয়েছেন এবং তাঁর মেধাকে অষ্ট্রেলিয়ার সার্বিক উন্নয়নে ব্যবহারের জন্যে এক হাজার নাগরিকের সমন্বয়ে গঠিত ‘সিটিজেন এডভাইজারী গ্রুপ’র অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঐ বাংলাদেশী বার্তা সংস্থা এনাকে বলেন, ‘অষ্ট্রেলিয়া ২০২০ সামিট’ শিরোনামে দুদিনের একটি সম্মেলন হচ্ছে ১৯ ও ২০ এপ্রিল। এটি অনুষ্ঠিত হবে অষ্ট্রেলিয়া পার্লামেন্ট ভবনে। সেখানে এই গ্রুপের অন্তর্ভুক্ত বিভিন্ন সেক্টরে বিশেষ অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ব্যক্তিরা ১০টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মতামত ব্যক্ত করবেন। সম্মেলনে অষ্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রীসহ শীর্ষস্থানীয় আমলা, রাজনীতিকরাও উপস্থিত থাকবেন এবং উপস্থাপিত পরামর্শ/সুপারিশসমূহের নোট নেবেন। সম্মেলনে সভাপতিত্ব করবেন যৌথভাবে প্রধানমন্ত্রী এবং মেলবর্ন ইউনিভাসিটির ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক গিস্নন ডেভিস। অংশগ্রহণকারীদের মধ্য থেকে প্রতি বিষয়ের জন্যে ১০০ জন করে এক্সপার্টকে বাছাই করা হবে। এ বাছাই প্রক্রিয়া সম্পাদনের জন্যে ১০ সদস্যের একটি নন-গভর্ণমেন্ট স্টিয়ারিং কমিটি গঠন করা হয়েছে।

২০২০ সালের মধ্যে অষ্ট্রেলিয়ার চেহারা পাল্টে দেয়ার লক্ষ্যে যে ১০টি বিষয়কে চিহ্নিত করা হয়েছে সেগুলো হচ্ছে, ১· শিক্ষা, দক্ষ-অদক্ষ শ্রমিকের প্রশিক্ষণ, বিজ্ঞান, আবিষ্কার/উদ্‌ভাবন বৃদ্ধি করা, ২· অর্থনৈতিক সেক্টরকে চাঙ্গা করা, ৩· অষ্ট্রেলিয়ার সিটিগুলোর জনসংখ্যা, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, জলবায়ু পরিবর্তনের আশংকা রোধ এবং বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা, ৪· উপশহরের কলকারখানা এবং জনজীবনকে গড়ে উঠার সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা গ্রহণ, ৫· দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় স্বাস্থ্যনীতি তৈরী করা জনসংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সঙ্গতি রেখে, ৬· কম্যুনিটিভিত্তি্‌ক সম্প্রীতিকে দৃঢ়করণ এবং স্বল্প আয়ের লোকজনের ব্যাপারে বিশেষ দৃষ্টি দেয়ার মাধ্যমে সামাজিক উন্নয়নের গতিকে ত্বরান্বিত করা, ৭· আদিবাসিদের ভবিষ্যত সংহত করা, ৮· চিত্রকলা, চলচ্চিত্র এবং ডিজাইনের উৎকর্ষসাধনের মাধ্যমে অষ্ট্রেলিয়ার সৃষ্টিশীলতাকে সমুন্নত রাখা, ৯· গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে যুগোপযোগী করার লক্ষে ব্যাপক সংস্কার, নাগরিকের দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি এবং মিডিয়ার ভূমিকা জোরদারের মাধ্যমে সরকারের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার মাধমে সুশাসনের পথকে সুগম করা, ১০· অষ্ট্রেলিয়ার ভবিষ্যত নিরাপত্তা সংহত করা এবং অষ্ট্রেলিয়ার উন্নয়ন ত্বরান্বিত করার মাধ্যমে আঞ্চলিক তথা গোটাবিশ্বের উন্নয়নের আকাং্‌খাকে সাফল্যমন্ডিত করা।

স্টিয়ারিং কমিটি কর্তৃক বাছাইকৃত বিশেষজ্ঞদেরকে স্বেচ্ছায় সময় দিতে হবে জাতীয় উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করতে। এই এক হাজার জনের মধ্যে রয়েছেন ব্যবসায়ী, শিক্ষাবিদ, কম্যুনিটি এবং শিল্প সম্পর্কিত সংগঠনের প্রতিনিধি, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব এবং অষ্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন সেক্টরের বিশিষ্ট ব্যক্তি। তবে এই সম্মেলনে অংশগ্রহণকারীরা তার কর্মস্থলের প্রতিনিধিত্ব করতে পারবেন না, পরামর্শ এবং উপদেশ যা দেবেন তা পুরোটাই দিতে হবে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার আলোকে। স্টিয়ারিং কমিটির মাধ্যমে প্রতিটি বিষয়ে ১০০ জন করে যে সাব কমিটি হবে তার কো-চেয়ার হবেন ফেডারেল সরকারের একজন করে মন্ত্রী এবং স্টিয়ারিং কমিটির মেম্বার। উলেস্নখ্য যে, স্টিয়ারিং কমিটির মেম্বার হচ্ছেন ১০ জন।

বাংলাদেশের বর্তমান কেয়ারটেকারও চাচ্ছেন অতীতের তিক্ত অভিজ্ঞতার আলোকে নবউদ্যমে বাংলাদেশকে সম্মুখে নেয়ার সুদূর প্রসারী পরিকল্পনা গ্রহণ করতে। সে আলোকে অষ্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রীর এ উদ্যোগ থেকেও কেয়ারটেকার সরকার পদক্ষেপ নিতে পারে বলে প্রবাসীদের ধারণা। আমেরিকা, কানাডা, যুক্তরাজ্য, অষ্ট্রেলিয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অসংখ্য বাংলাদেশী রয়েছেন-যারা এসব দেশের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে অধিষ্ঠিত রয়েছেন এবং অত্যন্ত সুনামের সাথে কাজ করছেন। অনেক বিজ্ঞানী রয়েছেন যারা বিশ্বের সেরা বিজ্ঞানীর এওয়ার্ড পাচ্ছেন। তারাও সুযোগ পেলে বাংলাদেশের জন্যে মেধার বিনিয়োগ ঘটাবেন বলে অনেকে মনে করছেন। এছাড়া বাংলাদেশেও অসংখ্য ভালো মানুষ রয়েছেন যারা সুযোগ পাচ্ছেন না সত্যিকার অর্থে দেশের স্বার্থে মেধার বিনিয়োগ ঘটতে-তারাও হয়তো এগিয়ে যাবেন।

এ মাসের প্রথম সপ্তাহে নিউইয়র্কে প্রবাসীদের একটি সেমিনার থেকেও কেয়ারটেকার সরকারকে অনুরোধ জানানো হয়েছে অষ্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগের অনুকরণে পদক্ষেপ গ্রহনের জন্য। রাজনীতিকরা দেশ চালাবেন এটা যেমন সত্য, তেমনিভাবে বিভিন্ন সেক্টরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন নাগরিকদেরকে দেশের কল্যানে শ্রম দেয়ার সুযোগ সৃষ্টির দায়িত্ব হচ্ছে বর্তমানের অরাজনৈতিক সরকারের-এ মন্তব্য ওয়াশিংটন ডিসিতে বসবাসরত আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন অর্থনীতিবিদ ডঃ ফাইজুল ইসলামের। ওয়াল স্ট্রীট জার্ণালে আন্তর্জাতিক ব্যবসা বিশেস্নষক ডঃ ইসলাম বলেন, রাজনৈতিক সরকারগুলো অধিকাংশ সময়ই দলীয় গন্ডির বাইরে যেতে পারেন না বলে সত্যিকারের মেধাসম্পন্নরা দেশের স্বার্থে কিছু করতে পারেননি বিগত কয়েক দশকে। বর্তমান সরকার যদি নতুন একটি ধারার সূচনা করে যান এবং তা যদি দেশবাসী আন্তরিক অর্থে গ্রহণ করেন তাহলে রাজনৈতিক সরকারের পক্ষে সেটিকে বিলুপ্ত করা সম্ভব হবে না। একই মতামত ব্যক্ত করেন ফ্লোরিডাস্থ চেম্বার অব কমার্সের প্রেসিডেন্ট আতিকুর রহমান আতিক। জনাব আতিক বলেছেন, বাংলাদেশকে এগিয়ে নেয়ার স্বার্থে সকল পর্যায়ে বিশেষ পারদর্শী লোকজনের সমন্বয়ে পৃথক একটি কমিটি গঠন করা খুবই জরুরী।

Bangla Community News Tags: , , , , ,

Related Bangla Community News:

Post Your Comments

All comments are subject to editorial review and decision.

*
To prove you're a person (not a spam script), type the security text shown in the picture. Click here to regenerate some new text.
Click to hear an audio file of the anti-spam word

Free Membership. Join Now!