নিউজার্সীতে কর্মরত অবস্থায় দুর্বৃত্তের গুলিতে বাংলাদেশী খুন
নিউজার্সী থেকে এনাঃ কর্মরত অবস্থায় দুর্বৃত্তের গুলিতে প্রাণ হারালেন আব্দুর রহমান (৫০) নামক এক বাংলাদেশী। নিউইয়র্কের পার্শ্ববর্তি নিউজার্সীর ওয়েস্টহ্যামটন টাউনশীপে রুট নম্বর ৫৪১ এ অবস্থিত ভারতীয় মালিকানাধীন ‘ইউএস গ্যাস স্টেশন’-এ রাতের শিফ্টে কাজের সময় মঙ্গলবার ভোর রাতে ব্রাশ ফায়ারে আব্দুর রহমানের প্রাণ বায়ু উড়ে গেছে বলে হাসপাতালের উদ্ধৃতি দিয়ে তদন্ত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। ১৯৯০ সালে স্বপ্নের আমেরিকায় সুন্দর জীবনের প্রত্যাশায় আগমনকারী আব্দুর রহমানের স্ত্রী ও ৮টি সন্তান রয়েছেন বাংলাদেশে এবং তাদের জন্যে প্রতি মাসে অধিক টাকা প্রেরণের জন্যে তিনি দৈনিক প্রায় ২০ ঘন্টা করে কাজ করতেন দুটি গ্যাস স্টেশনে। এসব প্রাণ স্পর্শী তথ্য স্থান পেয়েছে সিএনএন, সিবিএস, এনবিসি টিভিসহ আমেরিকান মিডিয়াগুলোতে। ফিলাডেলফিয়ার সন্নিকটে বার্লিংটন সিটিতে ইস্ট ফোর্থ স্ট্রীটে বাস করতেন আব্দুর রহমান। এই সিটির হাই স্ট্রীটে অবস্থিত একটি গ্যাস স্টেশন এবং একই মালিকের অপর একটি (একটু দূর) ঐ গ্যাস স্টেশনে কাজ করতেন ১৮ বছর ধরেই। ফলে এলাকাতে তার পরিচিতি রয়েছে ‘রহমান’ হিসেবে। মৃদুভাষী রহমান কয়েক সপ্তাহ ধরেই আতংকে ছিলেন। কেননা ৫৪১ রুটে অবস্থিত আরো কয়েকটি গ্যাস স্টেশনে সাম্প্রতিক সময়ে সশস্ত্র ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এজন্যে তিনি রাতের শিফ্টে গ্যাস স্টেশনে একা কাজ করবেন না বলে সিদ্ধান্ত নেন। আব্দুর রহমানের ঘনিষ্ঠ বন্ধু আব্দুল আজীজ বলেছেন, সোমবার রাতই ছিল তার রাতের শিফ্টে কাজের শেষ রাত। দিনের শিফ্টে কাজের জন্যে তিনি আশপাশে বেশ কয়েকটি স্টোর/গ্যাস স্টেশনে অনুরোধ জানিয়েছিলেন। কিন্তু সে প্রত্যাশা তার পূরণ হলো না।
বার্লিংটন কাউন্টি প্রসিকিউটর রবার্ট বারনার্ডি বলেছেন, ডাকাতির উদ্দেশ্যেই তাকে হত্যা করা হয়েছে বলেই প্রাথমিক তদন্তে মনে হচ্ছে। তবে গ্যাস স্টেশনে যে সময় এহেন হত্যাযজ্ঞ সংঘটিত হয়েছে সে সময় গোপন ভিডিও ক্যামেরাটি বন্ধ ছিল-এজন্যে তাৎক্ষণিকভাবে কিছু বুঝা যাচ্ছে না। তবে বেশ কয়েক রাউন্ড গুলিতে আব্দুর রহমানকে হত্যার পর স্টোরে লুটের ঘটনা ঘটেছে। সিগারেট লুট করা হয়েছে। নগদ অর্থও নেয়া হয়েছে। ওয়েস্টহ্যামটনের পুলিশ জানিয়েছে, ব্রাশ ফায়ারে নিহত হওয়ার পর আব্দুর রহমানের লাশ পড়েছিল স্টোরের মেঝের উপর। একজন গ্রাহক গাড়িতে গ্যাস নেয়ার পর বিল প্রদানের জন্যে স্টোরের জানালায় এসে দেখেন যে ক্যাশিয়ার/সেল্্সম্যান আব্দুর রহমানের নিথর দেহ মেঝেতে পড়ে রয়েছে। সাথে সাথে তিনি পুলিশকে ফোন করেন। পুলিশ এসে লাশটি উদ্ধার করে নিকটস্থ হাসপাতালে নেয়।
মালকিৎ সিং নামক একজন ভারতীয়-আমেরিকান হচ্ছেন ঐ গ্যাস স্টেশনের মালিক। তার আরো ৪টি গ্যাস স্টেশন রয়েছে। তিনি মিডিয়াকে জানিয়েছেন, রাতের শিফ্টে একটি স্টোরে একাধিক কর্মচারি রাখার মত ব্যবসা হয় না বলে একজনকেই রাখা হচ্ছে বেশ কয়েক বছর যাবত। তিনি বলেন, আব্দুর রহমান ছিলেন আমার বিশ্বস্ত কর্মচারিদের অন্যতম। টানা ১৮ বছর যাবত তিনি আমার দুটি গ্যাস স্টেশনে কাজ করছিলেন। তার এহেন পরিণতি আমাকে ব্যথিত করেছে।
আব্দুর রহমানের আরেকজন ঘনিষ্ঠ বন্ধু জানিয়েছেন, আব্দুর রহমানের ৮ জন সন্তান রয়েছে দেশে স্ত্রীর সাথে। নিয়মিতভাবে তাদের জন্যে অর্থ পাঠাতে হয় বলে দুটি কাজ করতেন প্রতিদিন। ফলে বিশ্রাম বা পরিচিতজনদের সাথে মেলামেশার সুযোগ হতো কেবলমাত্র কর্মস্থলেই।
নিউ্জার্সীর পুলিশ ঘটনার তদন্ত করছে এবং ৪৮ ঘন্টার মধ্যে কাউকে গ্রেফতারে সড়্গম হয়নি।
শিশু সন্তানদের জীবিকার একমাত্র অবলম্বন আব্দুর রহমানের এহেন মৃত্যুর সংবাদটি শীর্ষ স্থানীয় টিভি এবং দৈনিকে ফলাও করে প্রচারিত হওয়ায় কম্যুনিটিতেও শোক এবং আতংকের বিস্তার ঘটেছে। গত দু’বছরে আমেরিকার বিভিন্ন সিটিতে গ্যাস স্টেশন, গ্রোসারী স্টোরে কর্মরত অবস্থায় ৮ বাংলাদেশী খুন হয়েছেন।
Bangla Community News Tags: নিউজার্সী
Evergreen Bangla Community



Post Your Comments