নোবেল বিজয়ী অমর্ত্য সেনের কন্ঠে আবার ঝলসে উঠলো বাংলাদেশ
বস্টনের বিশ্ববিখ্যাত হার্ভার্ডে আন্তর্জাতিক সমাবেশে নোবেল বিজয়ী অমর্ত্য সেনের কন্ঠে আবার ঝলসে উঠলো বাংলাদেশ
১লা এপ্রিল হার্ভাডের কেনেডি স্কুল বিশ্ববরেণ্য মানুষের মিলন মেলায় পরিণত হয়েছিল। অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্র্যাক এর প্রতিষ্ঠাতা ফজলে হাসান আবেদ। তাকে বিশ্বসভায় পরিচয় করে দিয়েছেন নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন। সহস্রাধিক স্রোতার মুহুমুহূ করতালির মধ্য দিয়ে দুপুর ১২টায় কেনেডি স্কুলের নির্বাহী ড. রিজভীর পরিচালনায় অনুষ্ঠিত হয় এ সমাবেশ।
শুরুতে ড. রিজভী ব্র্যাক প্রতিষ্ঠাতার কর্মময় জীবনের উপর বিশদ প্রতিবেদন তুলে ধরেন। এক পর্যায়ে তিনি যখন ফজলে হাসান আবেদকে মহাত্মা গান্ধী ও ড. ইউনুসের সাথে তুলনা করলেন-আরেকবারের জন্য সমগ্র হল করতালিতে মুখরিত হয়ে উঠলো। এসময় সবার প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে এলেন যাকে নিয়ে এই মহাযজ্ঞের আয়োজন সেই ফজলে হাসান আবেদ। ‘যাদের সাথে আমাকে তুলনা করা হয়েছে আমি কোন অংশে তাদের তুল্য নয়’ কথা দিয়ে সদা বিনয়ী আবেদ তার বক্তব্য শুরু করেন।
তার দীর্ঘ বক্তব্যে মুক্তিযুদ্ধে তার ভূমিকা, মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে ব্র্যাক গঠন, এবং এর কার্যক্রমের বর্ণনা করলেন। বক্তব্যের এক পর্যায়ে তিনি যখন মুহাম্মদ উইনূসের প্রশংসা করলেন-তখন দর্শক-শ্রোতারা আর বসে থাকতে পারলেন না-দাঁড়িয়ে করতালি দিযে এই উদার মানুষটির প্রতি তাদের শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন। অসুস্থ্য শরীর নিয়ে নোবেল বিজয়ী অমর্ত্য সেনও দাঁড়ালেন।
এ অনুষ্ঠানে যোগদানকারী নিউইয়র্কের প্রবাসী লেখক রাশীদুল বারী এনাকে উপরোক্ত বিবরণ দিয়ে আরো বলেন, ভ্রাতৃত্বের এই অণন্য নিদর্শণ দেখে অনেকেরই আনন্দাশ্রু চোখে পড়লো। আমার পাশে দাড়ানো মুক্তধারার বিশ্বজিত সাহা বললেন ‘‘এই প্রথম দেখলাম যে আমরাও অন্যের প্রশংসা করতে জানি।’ ঠিক এই সময় ড. সেন বরাক ওবামার উদ্ধৃতি দিয়ে বললেন, ওরা যদি পারে আমরাও পারবোনা কেন? পরের কারণে স্বার্থ দিয়ে বলি এই জীবন মন সকলই দাও’ কামিনী রায়ের এই কবিতাটিকে জীবনের প্রথম সত্য হতে দেখে আমি চমকিত হলাম। ঠিক সেই মুহূর্তে ড. অমর্ত্য সেন মঞ্চে উঠলেন-ফজলে হাসান আবেদ-এর ওপর ক্লোজিং রিমার্ক করার জন্য।
ড. সেন তার দশ মিনিটের বক্তব্যে ব্র্যাকের সাফল্য তুলে ধরে বললেন দারিদ্র বিমোচনে বিশাল অবদান রাখার জন্য সমগ্র বিশ্ব মুহাম্মদ ইউনূস ও আবেদের কাছে ঋনী হয়ে থাকবে। এরপর তিনি এই দুইজনের সাথে তার সম্পর্কের বিবরণ দিয়ে বললেন, মহাকালের এই দুই মহান পুরষের সান্নিধ্যে আসতে এবং একসাথে অনেক কাজ করার আমার সুযোগ হয়েছে-এটাই আমার জন্য গৌরবের। আমার আর কিছু পাওয়ার নেই।
অমর্ত্য সেনের বক্তব্যের পাঁচরমিনিট পরেও হাততালি থামলো না।
সূত্রঃ এনা, বস্টন।
Bangla Community News Tags: অমর্ত্য সেন, ড. ইউনুস, প্রবাসী, ফজলে হাসান আবেদ, হার্ভাড
Evergreen Bangla Community



Post Your Comments