অটোয়াস্থ বাংলাদেশ হাই কমিশনের উদ্যোগে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপিত

অটোয়াস্থ বাংলাদেশ হাই কমিশনের উদ্যোগে যথাযোগ্য মর্যাদা ও ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস ২০০৮ উদযাপিত হয়েছে। ২৬ মার্চ সকালে বাংলাদেশ হাই কমিশন কার্যালয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে দিবসের কর্মসূচীর সূচনা করা হয়। জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন নবনিযুক্ত হাইকমিশনার মান্যবর ইয়াকুব আলী।

দিবসটি পালনের অংশ হিসাবে সকালে বাংলাদেশ হাইকমিশন কার্যালয়ে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। সমবেত কন্ঠে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে সভার সূচনা করা হয়। সভায় মহামান্য রাষ্ট্রপতি, প্রধান উপদেষ্টা এবং পররাষ্ট্র উপদেষ্টার বাণী পাঠ করে শোনানো হয়। শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়। মান্যবর হাইকমিশনার তাঁর বক্তব্যে স্বাধীনতা আন্দোলনে আত্মবলীদানকারী শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে বলেন যে, একটি আত্মনির্ভরশীল ও সমৃদ্ধশালী গণতান্ত্রিক দেশগড়ার লক্ষ্যে আজ থেকে ৩৬ বছর আগে বাংলাদেশের মানুষ মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। ত্রিশ লক্ষ প্রাণ আর অসংখ্য নারী-পুরুণের ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে এই স্বাধীনতা। স্বাধীনতাত্তোর সময়ে বাংলাদেশ আর্থ-সামাজিক ক্ষেত্রে বিপুল কৃতিত্ব অর্জন করেছে। প্রাথমিক শিক্ষার প্রসার, নারীর ক্ষমতায়ন, মাইক্রো ক্রেডিট কার্যক্রম, প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরিচর্যা ও সেনিটেশন সহ বিস্তৃত সামাজিক সেক্টরে আমাদের প্রভূত সাফল্য অর্জিত হয়েছে। তবে প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও বিশ্বব্যাপী খাদ্যমূল্যের উর্ধ্বগতিসহ কতিপয় আর্থ-সামাজিক ক্ষেত্রে আমরা বড় ধরণের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। তিনি তাঁর বক্তব্যে দেশে ও দেশের বাইরে অবস্থানকারী সকল বাংলাদেশী নাগরিকের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে এই বিশাল বাঁধাকে অপসারণ করার আহ্বান জানান।

সভার বক্তাগণ তাঁদের বক্তব্যে ’৭১ এর শহীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং স্বাধীনতা আন্দোলনের বিভিন্ন পর্যায়ে যারা অবদান রেখেছেন এবং পুঙ্গত্ববরণ করেছেন তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। বক্তাগণ বলেন যে, স্বদেশ প্রেম এবং স্বদেশ গড়ার সংগ্রামে শহীদ ও মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মত্যাগের মহিমায় ভাস্বর বাংলাদেশের ইতিহাস। দেশ ও জাতির মুক্তির জন্য আত্মত্যাগের জন্য আমরা বিশ্বব্যাপী মানুষের যুগপৎ বিষ্ময় ও শ্রদ্ধা অর্জন করেছি। স্বাধীনতার পর দেশ অনেক দূর অগ্রসর হলেও এখনো মুক্তিযোদ্ধাদের অনেক স্বপ্ন অবাস্তাবয়িত রয়ে গেছে। মুক্তিযোদ্ধাদের প্রধান স্বপ্ন একটি ক্ষুধা ও দারিদ্র্য মুক্ত আত্মনির্ভরশীল, গণতান্তিক বাংলাদেশ গড়তে পারলেই কেবল শহীদদের প্রতি যথার্থ শ্রদ্ধা নিবেদন করা যাবে বলে তাঁরা মত ব্যক্ত করেন। সভায় অন্যান্যে মধ্যে আলোচনা করেন সৈয়দ মাসুদ মাহমুদ খোন্দকার, নওরিন আহসান, ইরফান শরীফ, এমদাদ উল্যাহ মিয়া প্রমুখ। সভায় হাইকমিশনের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী উপস্থিত ছিলেন।

সভায় বাহান্নের ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে স্বাধীনতা সংগ্রামের বিভিন্ন পর্যায়ে শহীদদের আত্মার শান্তি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। এতে দেশের শান্তি ও উত্তোরোত্তর সমৃদ্ধি কামনা করা হয়।

এ উপলক্ষে বাংলাদেশ হাউজে (হাইকমিশনারের বাসভবন) সন্ধ্যায় এক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং নৈশভোজের আয়োজন করা হয়। বিশিষ্ট সঙ্গীত শিল্পী এম. এ. আসগর, রোমানা ইয়াসমিন, মমতা দত্ত, কায়সার আহমেদ প্রমূখ সঙ্গীত পরিবেশন করেন। আবৃত্তি করেন মোস্তফা চৌধূরী এবং কবি আব্দুর রহিম। এতে স্থানীয় বাংলাদেশ কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ এবং হাইকমিশনের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও তাঁদের পরিবারবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ হাই কমিশনের আয়োজনে গত ২৮ মার্চ ২০০৮ তারিখে অটোয়াস্থ হেলেনিক ব্যাঙ্কোয়েট সেন্টারে এক কূটনৈতিক সংবর্ধণার আয়োজন করা হয়। এতে কানাডা সরকারের উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তাগণ, কানাডায় নিযুক্ত বিভিন্ন দূতাবাসের রাষ্ট্রদূত ও কূটনীতিক এবং স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ছাড়াও স্থানীয় বাংলাদেশী বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

সূত্রঃ এনওয়াই বাংলা, নিউইয়র্ক।

Bangla Community News Tags: , ,

Related Bangla Community News:

Post Your Comments

All comments are subject to editorial review and decision.

*
To prove you're a person (not a spam script), type the security text shown in the picture. Click here to regenerate some new text.
Click to hear an audio file of the anti-spam word

Free Membership. Join Now!