সাংবাদিক নির্যাতনের প্রতিবাদে সকলের সহযোগিতা কামনা
সম্প্রতি বিভিন্ন প্রিন্ট মিডিয়া ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকদের মানুষিক, শারিরীক, হুমকী ও ষড়যন্ত্র মূলক মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে ভিতি প্রদর্শনের বিরুদ্ধে এক প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত সভায় সভাপতিত্ব করেন ভলান্টিয়ার্স অব আমেরিকান কমিউনিটি (বাংলাদেশী) ইউএসএ - এর প্রেসিডেন্ট আবুল হাসেম বুলবুল। সভা পরিচালনা করেন প্রধান সমন্বয়কারী বেলাল মাহমুদ। সভায় বক্তব্য রাখেন মাহবুবুর রহমান, মোবারক হোসেন অঞ্জন,মোমিনুল হক ও খালিদ মুস্তাক সহ অন্যান্য সবাই এবং তাদের বক্তব্যে তীব্র প্রতিবাদ জানান। উপস্থিত সংবাদিকরাও এর তীব্র প্রতিবাদ জানান এবং ভলান্টিয়ার্স অব আমেরিকান কমিউনিটি (বাংলাদেশী) ইউএসএ এই পদক্ষেপের জন্য প্রশংসা করেন।
সংগঠনের পেসিডেন্ট আবুল হাসেম বুলবুল বলেন সংবাদপত্র এবং বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা জাতির বিবেক। আপনাদের বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের গনতন্ত্র , মানুষের নায্য অধিকার; ন্যায় বিচার, অর্থনীতি, মানবাধিকার ও সমাজ সংস্কারের অবদানের কথা বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত।
সম্প্রতি বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার বিশিষ্ট সাংবাদিকদের সেনাসমর্থিত সরকারের গোয়েন্দা সংস্থা (ডি,জি,এফ,আই,) কর্তৃক মানসিক, শারিরীক এবং বিভিন্ন মিথ্যা ও ষড়ন্ত্রমূলক মামলা দিয়ে বিভিন্ন কৌশলে হয়রানি করা হচ্ছে। তারই প্রতিবাদে আজকের এই প্রতিবাদ সভা।
গত কয়েকদিন পূর্বে বাংলাদেশের বিভিন্ন সংবাদ পত্রের ৭০০ বিশিষ্ট সম্পাদক ও সাংবাদিক এক যৌথ বিবৃতির মাধ্যমে বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াসহ নিরপরাধ ও ষড়যন্ত্র মামলায় আটক সকল রাজবন্দীদের মুক্তির দাবী করে সরকারের নিকট একটি দাবী জানিয়েছেন। তারই কারনে সরকার বিক্ষুদ্ধ হয়ে বিভিন্ন কৌশলে সাংবাদিকদের দমনের আশ্রয় নিয়েছে।
প্রিন্টমিডিয়া ও ইলেক্ট্রনিক্স মিডিয়াগুলোতে বাংলাদেদেশের গনতন্ত্র , নাগরিক ও সাংবিধানিক অধিকার, জরুরী অবস্থা, দেশের অর্থনীতি ও দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি, জাতীয় নির্বাচন, মানবাধিকার লংঘন, আইনের শাসন ও ন্যায় বিচাার প্রতিষ্ঠায় এবং সাধারণ জনগনের দুঃখ দূদর্শা নিয়ে টক শোতে আলোচনা হতো। সারা বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় এ অনুষ্ঠানটি দমননীতির মাধ্যমে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। আরো উল্লেখ থাকে যে, গনতান্ত্রিক বিশ্ব কমিউনিটি এবং বাংলাদেশে অবস্থানরত তাদের কুটনৈতিক প্রতিনিধি ও দাতা সংস্থাগুলো যখনই দেশের মানুষের অধিকার, রোড ম্যাপ অনুযায়ী নির্বাচন, নির্বাচিত সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর ও দেশের অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের কথা বলা শুরু করেছেন তখনই অনির্বাচিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রতিবাদে মূখর হয়ে কুটনৈতিক ও প্রতিনিধিদের মন্তব্যকে দেশের আভ্যন্তরীন ব্যাপারে হস্তক্ষেপ বলে দায়ী করেন। উল্লেখ থাকে যে, এই তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতা গ্রহনের পরবর্তী সময়ে কুটনৈতিক মহল বিভিন্ন ইস্যু ভিত্তিক মন্তব্যকে জোরালোভাবে সমর্থন ও স্বাগত জানিয়েছেন।
দেশের বিভিন্ন মিডিয়ার বিশিষ্ট সম্পাদক, সাংবাদিকদের সম্প্রতি জিজ্ঞাসাবাদের নামে (ডি,জি,এফ,আই,) এর সদর দপ্তরে ঢেকে নিয়ে ১০/১২ ঘন্টা আটক রেখে এবং টেলিফোনে বিভিন্ন সংবাদ পত্রকে হুমকী প্রদর্শন ও যড়যন্ত্রমূলক মামলায় ফাসিয়ে জেলে পাঠানোর ভয় ভীতি দেখাচ্ছেন। আমরা সুনির্দিষ্ট কিছু নির্যাতিত বিশিষ্ট সম্পাদক ও সাংবাদিকের নাম বিশেষভাবে উল্লেখ করছি।
সূত্রঃ এনওয়াই বাংলা, নিউইয়র্ক।
আব্দুল বাতেন (সম্পাদক), নূরুল কবির (সম্পাদক), আমানউল্যা কবির (সম্পাদক), সৈয়দ আবদাল আহম্মেদ বিশিষ্ট সাংবাদিক, মারুফ কামাল খাঁন সোহেল বিশিষ্ট সাংবাদিক, আমিনুল ইসলাম কাগুজী, আমির খসরু (টিভি টকশো), আরিফুর রহমান (টিভি টকশো) সহ অনেকই নির্যাতনের এবং মিথ্যা ও বানোয়াট মামলায় শিকার।
সি,বি,এস, টিভিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যরয়ের ছাত্র বিক্ষুবের যথাযথ খবর পরিবেশনের কারনে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে, বিভিন্ন সংবাদপত্রের কতৃপক্ষকে হুমকি ও চাপদিয়ে নিষ্ঠবান ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের ফলে ঐ সকল সাংবাদিক ও রিপোর্টারদেরকে চাকুরী থেকে বরখাস্থ করতে বাধ্য করেছেন অন্যথায় সংবাদপত্র বন্ধ করেদেয়ার হুমকি দিয়েছে এই প্রক্রিয়া বর্তমানেও চালানো হচ্ছে। সাংবাদিকদের নির্যাতনের প্রতিবাদে ভলান্টিয়ার্স অব আমেরিকান কমিউনিটি (বাংলাদেশী) ইউএসএ বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিকস মিডিয়ার প্রতিনিধিদের উপর নির্যাতনের চিত্র এবং বাংলাদেশের সার্বিক পরিস্থিতি উল্লেখ করে একটি স্মারকলিপি প্রদানের কর্মসুচী গ্রহন করেছে। স্মারকলিপিটি জাতিসংঘ ও জাতিসংঘের বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা, দাতাদেশ, কমনওয়েলথ, ইউরোপিয়ান পার্লামেন্ট, ইউরোপিয়ান কমিশন, ও,আই,সি, এ্যামেনেষ্ঠী ইন্টারন্যাশনাল, হিউম্যান রাইটস, ইউ,এস, ষ্টেটডিপার্টমেন্ট, ডিফেনন্ডিং রাইটার্স রাইটস, রিপোর্টাস্ কমিটি ফর ফ্রিডম এন্ড প্রেস, কানাডিয়ান এসোসিয়েশন অব জার্নালিষ্ট, ওয়ার্ল্ড মিডিয়া এসোসিয়েশন, ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব জার্নালিষ্ট, কমনওয়েলথ জার্নালিষ্ট এসোসিয়েশন, কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিষ্ট, মধ্যপ্রাচ্য জার্নালিষ্ট এসোসিয়েশন, ইউ,এস,এ, জার্নালিষ্ট এসোসিয়েশন (ওয়াশিংটন প্রেসক্লাব), নিউইয়র্ক টাইমস, ওয়ালষ্ট্রীট জার্নালস্, সি,এন,এন, সহ বিশেষ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ন সংবাদ সংস্থা গুলোকে স্মারকলিপি প্রদান করার কর্মসূচী হাতে নিয়েছেন।
সাংবাদিক নির্যাতনের প্রতিবাদে এবং সকলের অধিকার প্রতিষ্ঠায় আপনাদের সকলের সহযোগীতায় আহবান জানাচ্ছি।
Bangla Community News Tags: ওয়াশিংটন, খালেদা জিয়া, জাতিসংঘ, নিউইয়র্ক
Evergreen Bangla Community


Post Your Comments