প্রগ্রেসিভ ফোরামের বিশ্ব নারী দিবস পালন
বিগত ৩০শে মার্চ রবিবার সন্ধ্যায় প্রগ্রেসিভ ফোরাম ইউএসএ’র উদ্যোগে জ্যাকসন হাইটস জুইস সেন্টারে বিশ্বা নারী দিবস উদ্যাপিত হয়। প্রধান অতিথি ড. পূরবী বসুর বিশ্বব্যাপী সংগ্রামী নারীদের এক ফটো প্রদর্শনী উদ্বোধনীর মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সাহিত্যিক পূরবী বসু। আলোচনায় অংশ গ্রহন করেন কবি শহীদ কাদরী, ড. দেলোয়ার হোসেন, বেগম নূরজাহান কাদের, অধ্যাপিকা হুসনে আরা বেগম, শামস্ আল মমীন, এটর্নি ইশরাত সামী, সুব্রত বিশ্বাস, শামসাদ হুসাম প্রমূখ। কবিতা আবৃতি করেন মুমু আনসরী, শ্রাবনী, নাসরীন চৌধুরী, জেসমিন দাউদী ও অন্যান্যরা। অনুষ্ঠানে প্রখ্যাত শিল্পী ও নৃত্যের শিক্ষক শহীদ উদ্দিন ও তার দুই কন্যা শ্যামা ও নন্দা নৃত্য পরিবেশন করে সকলকে মুগ্ধ করে। অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশন করেন ওস্তাদ মুত্তালিব বিশ্বাস ও তাহমিনা শহীদ। ফোরামের আহ্বায়ক খোরশেদুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভা পরিচালনা করেন কমিউনিটির বিশিষ্ট নাট্য ব্যক্তিত্ব সউদ চৌধুরী। সভায় উদ্বোধনী বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সদস্য সচিব আলীম উদ্দিন ও প্রস্তাব পাঠ করেন সুমন বুসনিয়া।
বক্তারা সম্প্রতি বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক ঘোষিত জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতিমালাকে আইনে পরিণত করার দাবী জানান। এবং একাত্তরের স্বাধীনতা বিরোধী কিছু ধর্ম -সাম্প্রদায়িক দলের নারী নীতিকে ইসলাম বিরোধী বলে যে হট্টগোল সৃষ্টির পায়তারা করছে তা ইসলামের সাম্য ও নারীর অধিকারের প্রতি স্বীকৃতির বরখেলাপ বলে উল্লেখ করেন। এবং সংসদে তিন ভাগের এক ভাগ আসন নারীদের জন্য সংরক্ষনের ও সংরক্ষিত আসনে প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচন অনুষ্ঠানের, নারীদের দারিদ্র দূরীকরনের তাদের জন্য চিকিৎসা, শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও বিকল্প অর্থনৈতিক ও সামাজিক সুযোগ সৃষ্টি করে দরিদ্র নারীদের অর্থনৈতিক মূল ধারায় সম্পৃক্ত করার ও মাতৃত্বকালীন ছুটি চার মাসের স্থলে পাঁচ মাস করার নারীর নীতির প্রস্তাবকে সমর্থন জানান। বক্তরা বলেন, নারীদের উপর এসিড সন্ত্রাস, যৌতুকের জন্য নির্যাতন ও পারিবারিক সহিংসতার বিরুদ্ধে ধর্মীয় মৌলবাদী দলগুলি কখনই সোচ্চার নয়। অথচ ইসলামের প্রিয় নবী মায়েদের মর্যাদা বিশ্বের সর্বত্র স্থানে নির্ধারণ করেছিলেন।
সভায় বক্তারা বলেন, সারা বিশ্বের গণতান্ত্রিক দেশগুলোর সাথে তাল মিলিয়ে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠার বিভিন্ন দলিলে বাংলাদেশ রাষ্ট্র ও সরকার অনুস্বাক্ষর করে ও দেশে তা বাস্তবায়িত করে সমগ্র বিশ্বে বিশেষত দক্ষিণ এশিয়ায় নারী অগ্রগতির জন্য প্রশংশিত হয়েছে তখন কিছু পশ্চাদপদ কুসংস্কার আচ্ছন্ন মানুষের হুমকিতে সরকার নারীর অগ্রযাত্রায় সহায়তার পথ থেকে সরে আসতে পারে না। বক্তারা নারীকে কোন ধর্মীয় পরিচয়ে নয় বরঞ্চ একজন মানুষ ও নাগরিক হিসাবে প্রাপ্য সমান সুযোগ ও অধিকার ও মর্যাদা প্রদানের দাবী জানান।
প্রধান অতিথি সাহিত্যিক পূরবী বসু পুরুষতান্ত্রিক রাষ্ট্র ও নারীতান্ত্রিক রাষ্ট্রের কথা উল্লেখ করে বলেন, আমেরিকা, ইটালি জপান সহ কিছু পুরুষতান্ত্রিক দেশ ব্যতীত সুইডেন, নরওয়ে, ফিনল্যান্ডসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশ ও সমাজে নারীর অবদানের স্বীকৃতি দিয়ে নারী ও শিশুদের বৃদ্ধ ও বেকারদের জন্য কল্যানকর মৌলিক শিক্ষা চিকিৎসা খাদ্য, বাসস্থানের ব্যবস্থা সহ সমাজে বৈষম্য, বঞ্চনা ও দারিদ্রের বিরুদ্ধে ন্যায় বিচার ও সাম্যের বিভিন্ন কার্যক্রম প্রতিষ্ঠিত করেছে। কিছু মানুষকে ধনী ও শোষক করে কোটি কোটি মানুষকে ক্ষুধার্ত ও অন্নহীন, বস্ত্রহীন, গৃহহীন, শিক্ষা ও কর্মহীন দরিদ্র রাখার জন্য বাংলার কোটি কোটি মানুষ দেশ স্বাধীন করে নাই। নারী শিশু সহ সাধারণ জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার নিয়েই বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে। সংবিধান মতে জনগণই দেশের মালিক। নারীরা জনগণের অর্ধেক তাদের মালিকানা ও অংশ থেকে বঞ্চিত রেখে সমাজ প্রগতি অসম্ভব। এটর্নি ইশরাত সামী তার আলোচনায় বলেন, পারিবারিক সহিংসতার জন্য দিনে দিনে কষ্ট বা মৃত্যুর দিকে এগিয়ে না গিয়ে এদেশে আইনের আশ্রয় নিয়ে অসহায় গৃহবধুরাও রাষ্ট্রের কাছ থেকে বাসস্থান, শিক্ষা চিকিৎসা, খাদ্য ও নিরাপত্তার নিশ্চয়তা পেতে পারে। এবং স্বামীর বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্বেও যদি স্ত্রীকে বৈধ কাগজপত্র করতে না চায় সেক্ষেত্রে স্বামী থেকে হয়ে গেলেও পারিবারিক সহিংসতা প্রমাণিত হলে আইনত বৈধ কাগজপত্র পাওয়ার অধিকারী হয়। সভায় নারীদের সহ সমাজের মৌলিক মানবাধিকার গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষে অবিলম্বে জরুরী আইন প্রত্যাহার করে বাংলাদেশে নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার জোর দাবী জানানো হয়। সভায় যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য কমিশন গঠন ও নির্বাচনে অংশ গ্রহন রাজনৈতিক কার্যকলাপের অধিকার রহিত করার দাবী জানানো হয়।
সূত্রঃ এনওয়াই বাংলা, নিউইয়র্ক।
Bangla Community News Tags: জাতিসংঘ, যুদ্ধাপরাধী
Evergreen Bangla Community


Post Your Comments