বাংলাদেশের সাবেক দুই প্রধানমন্ত্রীর মুক্তি দাবি - কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে বিএনপির স্মারকলিপি পেশ
বাংলাদেশের সাবেক দুই প্রধানমন্ত্রীর মুক্তির দাবিতে গত ২৬ মার্চ কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে স্মারকলিপি দিয়েছে কানাডা বিএনপি। একই দাবিতে তারা আগামী মঙ্গলবার কানাডার জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে অবস্থান ধর্মঘট ডেকেছে। অবস্থান ধর্মঘটের শেষে ওই দিনই কানাডার প্রধানমন্ত্রী ষ্টিফেন হারফারকে স্মারকলিপি দেবে বলে জানা গেছে।
দুই নেত্রীর মুক্তির দাবিতে পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে স্মারকলিপি প্রদানকালে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদা সম্পন্ন কাউন্সিলর এন্ড্রু বার্নেড বলেন, বাংলাদেশের সাবেক দুই প্রধানমন্ত্রীকে বিশেষ উদ্দেশ্যে আটকে রাখা হয়েছে। আটক করার পর ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও দূর্নীতির কোনো অভিযোগ প্রমান করতে পারেনি ক্ষমতাসীন সরকার। দুই নেত্রীর মুক্তির দাবিতে বাংলাদেশের সরকারকে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ জানাতে কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে স্মারকলিপি প্রদানের পর সংক্ষিপ্ত আলোচনায় তিনি এ কথা বলেন। বাংলাদেশের প্রধান রাজনৈতিকদল আওয়ামীলীগ ও বিএনপির দুই প্রধান নেত্রীকে রাজনীতি থেকে ‘মাইনাস’ করার বিষয়ে ঢাকা সফরকারী মানবাধিকার আইনজীবি উইলিয়াম লোনের রিপোর্টটি ‘সঠিক’ বলে তিনি মন্তব্য করেন।
স্বাধীনতার ঘোষকের স্ত্রী ও বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং স্বাধীনতার স্থপতির কন্যা দ্বিতীয় নারী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে স্মারকলিপি দিয়েছে কানাডা বিএনপি। স্থানীয় সময় ২৬ মার্চ দুপুর ২টায় কানাডার রাজধানী অটোয়াতে পররাষ্ট্র দপ্তরে স্মারকলিপি দেয়া হয়। পররাষ্ট্র মন্ত্রী ম্যাক্সিম বার্নিয়ের প্রতিনিধি হিসেবে স্মারকলিপি গ্রহন করেন প্রতিমন্ত্রী এন্ড্রু বার্নেড। এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন অভিবাসন মন্ত্রীর বিশেষ সহকারী জন পাবলো, দক্ষিন পূর্ব এশিয়া বিষয়ক কর্মকর্তা সাঈদ বুশরা প্রমুখ।
স্মরাকলিপিতে অবিলম্বে দুই নেত্রীর মুক্তি, বেগম খালেদা জিয়াকে সম্মানসূচক নাগরিকতা প্রদানের জন্য সংসদে মার্শেল লুইস এমপির বিল পাশ, বাংলাদেশের দূতাবাসের মাধ্যমে বেগম জিয়া, তারেক রহমানসহ রাজবন্দিদের বিষয়ে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ, বাংলাদেশের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে কানাডায় সংসদীয় কমিটি গঠন, বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা, নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতো বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতির ওপর কানাডার রিপোর্ট প্রকাশ এবং স্বাধীনতার ঘোষকের কনিষ্ঠ পুত্র আরাফাত রহমান কোকোকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কানাডায় নেয়ার দাবি জানানো হয়। এ সময় দক্ষিন পূর্ব এশিয়া বিষয়ক কর্মকর্তা সাঈদ বুশরা বলেন, কানাডা কোনোমতেই বাংলাদেশের দুই প্রধানমন্ত্রীকে বেনজির ভুট্টোর ভাগ্য বরণ করতে দেবেনা। স্মারকলিপির সাথে বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে মার্কিন সরকারের প্রতিবেদন, বাংলাদেশ সফরকারী উইলিয়াম ্লোনের রিপোর্ট এবং বাংলাদেশের কারাগারে বন্দি রাজনৈতিকদের ওপর বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত রিপোর্টের কপি কানাডার পররাষ্ট্র মন্ত্রণায়কে দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন কানাডা বিএনপি সভাপতি সত্তর দশকের সিলেট অঞ্চলের ছাত্রনেতা ফয়সল আহমেদ চৌধুরী । এ সময় তিনি উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, নির্দোষ দুই নেত্রীকে অন্যায়ভাবে আটকে রাখা হয়েছে। আমরা এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়ে যাবো এবং তাদের মুক্ত করে আনবো। স্মারক লিপি প্রদানকালে আরো উপস্থিত ছিলেন সাবেক সভাপতি দেওয়ান এবিএম আব্দুর রাজ্জাক রাজু, কানাডা বিএনপির সাধারন সম্পাদক আরমান মাষ্টার, কুইবেক প্রাদেশিক বিএনপির সাধারন সম্পাদক বাকৃবি’র ছাত্রনেতা জাহিদুজ্জামান খান জাহিদ প্রমুখ।
৯ এপ্রিল অবস্থান ধর্মঘট ও প্রধানমন্ত্রীকে স্মারকলিপিঃ
বাংলাদেশের সাবেক দুই জনপ্রিয় প্রধানমন্ত্রীর মুক্তি দাবিতে অবস্থান ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে কানাডা বিএনপি। জাতীয় সংসদের অধিবেশন চলাকালে আগামী ৯ মে মঙ্গলবার কানাডার রাজধানী অটোয়াতে সংসদ ভবনের প্রধান ফটকের সামনে সমবেত হবে কানাডা বিএনপি, দলের অঙ্গ সংগঠন এবং কানাডার বিভিন্ন রাজ্য ও শহর বিএনপির নেতাকর্মীরা। সকাল ১১টা থেকে বিকাল ৪টা (বাংলাদেশ সময় রাত ৯টা থেকে ২টা) পর্যন্ত বাংলাদেশের তিনবারের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া এবং আওয়ামীলীগ সভানেত্রী ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে পোষ্টার, ব্যানার, ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড বুকে নিয়ে কানাডার সংসদ ভবনের সামনে অবস্থান ধর্মঘট পালন করবে। কর্মসূচি শেষে বাংলাদেশের নন্দিত এই দুই নেত্রীর নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে প্রধানমন্ত্রী ষ্টিফেন হারফার এর নিকট স্মারকলিপি দেয়া হবে। ইতোমধ্যে কানাডার সংসদ সচিবালয়সহ অন্যান্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কাছ থেকে এ ব্যাপারে অনুমতি নেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
কানাডা বিএনপি সভাপতি ফয়সল আহমেদ চৌধুরী বলেন, আমাদের কর্মসূচির প্রতি সমর্থন জানাতে কানাডার এমপি-মন্ত্রী, সুশীল সমাজ, মানবাধিকার সংগঠন ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামকে জানানো হয়েছে। আশাকরছি তাদের অনেকেই আমাদের কর্মসূচিতে যোগ দেবেন।
কানাডা বিএনপির সহ সভাপতি দেওয়ান এ বি এম আব্দুর রাজ্জাক রাজু বলেন, উক্ত কর্মসূচি সফল করতে বিএনপির সহযোগী সংগঠন শ্রমিকদল, যুবদল, মহিলা দল, জাসাস, জিয়া পরিষদকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এছাড়া মন্ট্রিল, কুইবেক, টরেন্টো, হ্যামিলটন, ভ্যানকুভার, ক্যালগিরি, এডমিন্টন, অন্টেরিও, এবং ব্রিটিশ কলম্বিয়া রাজ্য বিএনপি নেতাকর্মীরাও উক্ত কর্মসূচিতে যোগ দেবেন।
কুইবেক রাজ্য বিএনপির সাধারন সম্পাদক জাহিদুজ্জামান খান জাহিদ বলেন, দুই নেত্রীর মুক্তির অভিন্ন দাবিতে অবস্থান ধর্মঘট কর্মসূচি সফল করতে অন্যান্য রাজ্যের মতো কুইবেক রাজ্যেও ব্যাপক প্রচারণা চালানো হচ্ছে। দলমত নির্বিশেষে দুই নেত্রীর মুক্তির দাবিতে কমিউনিটিতে ব্যাপক সাড়া পাওয়া গেছে।
সূত্রঃ এনওয়াই বাংলা, নিউইয়র্ক।
Bangla Community News Tags: কানাডা, খালেদা জিয়া, তারেক রহমান, বিএনপি, শেখ হাসিনা
Evergreen Bangla Community



Post Your Comments