ক্যানেটিকাটে ম্যানচেস্টার-এর স্কুলে বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস উদ্‌যাপিত

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যানেটিকাট-এর ম্যানচেস্টার ওয়াডেল এলেমেন্টারি স্কুলের বাঙালি ছাত্র-ছাত্রীদের সাথে উক্ত স্কুলের ছাত্র-ছাত্রী, অবিভাবক ও শিক্ষকবৃন্দও অত্যন্ত ভাবগম্ভীর ও আনন্দঘন পরিবেশে বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস উদ্‌যাপন করে। অনুষ্ঠানের শুরুতে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের স্মরণে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়। এরপর ওয়াডেল স্কুলের ৬ষ্ঠ গ্রেডের ছাত্রী মালিহা আহসান শর্মি কবি শামসুর রাহমানের ‘স্বাধীনতা তুমি’ কবিতাটি ইংরেজিতে আবৃতি করে সবাইকে মুগ্ধ করে। ওয়াডেল এলেমেন্টারি স্কুলের প্রিন্সিপাল রোলেন্ড জি. এক্সেলসন কবিতাটির কবির পরিচয় জানতে চান। তাঁকে কবির পরিচয় এবং কবিতাটি বাংলাদেশের স্কুলে পাঠ্য সেটাও জানানো হয়। এতে মি. এক্সেলসন-এর ্‌উৎসাহ আরো বেড়ে যায় এবং তিনি কবিতাটি হাতে নিয়ে নিজেই কবিতার ছন্দে পুনরায় আবৃতি করে সকলকে শোনান ­ এতে উপস্থিত সবাই করতালি দিয়ে প্রিন্সিপাল রোলেন্ড জি. এক্সেলসনকে অভিনন্দন জানান। স্কুলের প্রিন্সিপাল রোলেন্ড জি. এক্সেলসন তাঁর বক্তব্যে বলেন, যদিও আমেরিকার স্বাধীনতা দিবস ৪ জুলাই এবং বাংলাদেশের ২৬ মার্চ­ তবুও দুটি দেশের মধ্যে একটি অদ্ভুত মিল রয়েছে­ দুটি দেশই প্রথমে স্বাধীনতা ঘোষণা করে এবং যুদ্ধ করে বিজয় লাভ করে স্বাধীনতা অর্জন করে যা পৃথিবীতে বিরল ঘটনা। এই ঘোষণার সাথে সাথে একক্ষণ চুপ করে থাকা আমেরিকান ছাত্র-ছাত্রীরাও উল-াসে ফেটে পড়ে এবং বাঙালি ছাত্র-ছাত্রীরাও বাংলাদেশের পতাকা নাড়তে থাকে এবং বাংলা অক্ষরে ‘স্বা - ধী - ন - তা’ লেখা সম্বলিত ডিসপেপ্রদ র্শন করতে থাকে এবং এক আনন্দঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। এবং সেই মুহূর্তেই ‘মোরা একটি ফুলকে বাঁচাবো বলে যুদ্ধ করি’, ‘এক নদী রক্ত পেড়িয়ে’ ও ‘সালাম সালাম হাজার সালাম’ নৃত্য সম্বলিত গানগুলো ভিডিওতে পদর্শিত হতে থাকলে হলভর্তি ছাত্র-ছাত্রী, অবিভাবক, স্কুলের স্টাফ ও শিক্ষকবৃন্দও অত্যন্ত আগ্রহসহকারে অভিভূত হয়ে অনুষ্ঠানটি উপভোগ করতে থাকেন। নৃত্য সম্বলিত গানগুলোর ইংরেজিতে সাবটাইটেল না থাকাতে বুঝতে একটু অসুবিধা হওয়ায় গানের সাথে সাথে মি. এক্সেলসনকে অর্থ বুঝিয়ে দেওয়া হয় এবং তিনি আবার সবাইকে গানের অর্থ বুঝিয়ে দেন।

বিশিষ্ট শিল্পি কৌশলী ইমা ‘প্রতিদিন তোমায় দেখি সূর্য’ গানটি যখন পরিবেশন করেন তখন তার কণ্ঠ শুনে অনেকেই আবেগাপ-ুত হয়ে পড়েন এবং গান শেষে প্রিন্সিপাল রোলেন্ড জি. এক্সেলসন আসন থেকে উঠে এসে মেলোডি কণ্ঠী কৌশলী ইমা-কে আন্তরিক অভিনন্দন জানান। সকলের অনুরোধে এরপর কৗশলী ইমা সববেত কণ্ঠে আরেকটি দেশাত্মবোধক গান পরিবেশন করে সবাইকে মুগ্ধ করেন- কৗশলী ইমার সাথে অংশগ্রহণ করে ওয়াডেল স্কুলের ৫ম গ্রেডের ছাত্রী­ বীরবিক্রমের পৌত্রী এবং স্থানীয় জাহাঙ্গীর হোসাইনের কন্যা এশা হোসাইন, কৗশলী ইমা ও সাংবাদিক সাবেত সাথীর তনয়া ছোট্টমনি সুখ। বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস উদ্‌যাপনে ওয়াডেল এলেমেন্টারি স্কুল কর্তৃপক্ষ ও স্কুলের প্রিন্সিপাল রোলেন্ড জি. এক্সেলসনের সহযোগিতা ছাড়াও এর পূর্বে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ ও ‘বাংলাদেশ ডে’ উদ্‌যাপন এবং বাংলাদেশের ঘূর্ণিঝড় ‘সিডর’-এ ক্ষতিগ্রস্তদের প্রয়োজনে অর্থ সংগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়ে প্রবাসী মুক্তিযোদ্ধা ফারুক ওয়াহিদ প্রিন্সিপাল রোলেন্ড জি. এক্সেলসনকে বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা দিবসে সকলের পক্ষ থেকে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সম্বলিত সম্মাননা প্রদান করে সসম্মানিত করেন। সকলে করতালি দিয়ে প্রিন্সিপালকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অভিনন্দন জানান। মি. এক্সেলসন কৃতজ্ঞতাচিত্তে সম্মাননা গ্রহণ করে বলেন­ একটা দেশকে ভালবেশে মাতৃভাষা রক্ষার জন্য ও সেই দেশের স্বাধীনতার জন্য এত মানুষ প্রাণ দিতে পারে­ সেটার একমাত্র উদাহরণ বাংলাদেশ। সেই দেশেরই স্বাধীনতা দিবসে আমাকে যে অর্নার করা হল তার জন্য আমি কৃতজ্ঞ ও আনন্দিত। আমার অনুভূতি আমি ভাষায় প্রকাশ করতে পারবো না। অনুষ্ঠান শেষে মি. এক্সেলসন অনুষ্ঠানের নেপথ্যে যারা ছিলেন­ তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে অভিনন্দন জানান।

সূত্রঃ এনওয়াই বাংলা, নিউইয়র্ক।

Bangla Community News Tags: , ,

Related Bangla Community News:

Post Your Comments

All comments are subject to editorial review and decision.

*
To prove you're a person (not a spam script), type the security text shown in the picture. Click here to regenerate some new text.
Click to hear an audio file of the anti-spam word

Free Membership. Join Now!