যুদ্ধাপরাধীদের বিচার, দুর্নীতি ও স্বৈরাচার মুক্ত গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে আমেরিকায় স্বাধীনতা দিবস উদযাপিত
যুদ্ধাপরাধীদের বিচার, দুর্নীতি ও স্বৈরাচার মুক্ত গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করার মাধ্যমে আমেরিকায় বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনায় বাংলাদেশের ৩৮তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপিত হচ্ছে। ২৬ মার্চ বুধবার কর্মদিবস হওয়ায় কম্যুনিটিভিত্তিক সংগঠনগুলোর অনুষ্ঠান হবে সাপ্তাহিক ছুটির দিন শনি ও রোববার। তবে জাতিসংঘে বাংলাদেশ মিশন এবং ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাসে স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠান যথারীতি ২৬ মার্চই হয়েছে। এ দুটি অনুষ্ঠানে শতাধিক দেশের রাষ্ট্রদূত, স্থায়ী প্রতিনিধি, উর্দ্ধতন কর্মকর্তা এবং আন্তর্জাতিক দাতাসংস্থাগুলোর প্রতিনিধিরাও অংশ নেন। তবে প্রবাসী মুক্তিযোদ্ধাদেরকে এ দুটি অনুষ্ঠানের একটিতেও আমন্ত্রণ জানানো হয়নি বলে অভিযোগ করা হয়েছে। যদিও ওয়াশিংটনে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এম হুমায়ূন কবির নিজেই একজন মুক্তিযোদ্ধা। স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠান হচ্ছে কিন্তু মুক্তিযোদ্ধাদের আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে না-এ কেমন উৎসব, এমন প্রশ্ন মুক্তিযোদ্ধাদের। এ প্রসঙ্গে বার্তা সংস্থা এনাকে রাষ্ট্রদূত হুমায়ূন কবির বলেছেন, ব্যক্তিগতভাবে আমি মুক্তিযোদ্ধা হলেও রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণ জানানোর মধ্যে কিছু সীমাবদ্ধতা থাকলেও আমি চেষ্টা করেছি সকলকে আমন্ত্রণ জানাতে। দূতাবাসের অনুষ্ঠানে ঢাকায় নবনিযুক্ত রাষ্ট্রদূত জেমস এফ মরিয়ার্টি, স্টেট ডিপার্টমেন্টে দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক কর্মকর্তা সন্দ্বীপ কুমার পাল, সাবেক রাষ্ট্রদূত তারিক করিম, আর্সেনিক ফিল্টারের উদ্ভাবক হিসেবে এওয়ার্ডপ্রাপ্ত বিজ্ঞানী ডঃ আবুল হুসামসহ কম্যুনিটির বিভিন্ন স্তরেরর প্রতিনিধিত্বকারী ব্যক্তিবর্গও উপস্থিত ছিলেন।
জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশন আয়োজিত অনুষ্ঠানের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হন ‘টোকাই’ পরিচয়ের জনক কার্টুনিস্ট চিত্রশিল্পী রফিকুন নবী রনবী, শিল্পী কালিদাস কর্মকার, ডঃ ফরিদা জামান, খুরশিদ আলম সেলিম, রোকেয়া সুলতানা এবং সুবির চৌধুরী। বাংলাদেশের খ্যাতনামা এই শিল্পীদের সাথে বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকরাও শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। কেননা অনুষ্ঠানস্থলের নীচের তলাতেই চলছে এই শিল্পীগণের চিত্র প্রদর্শনী। জাতিসংঘে শান্তিরক্ষা বিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারী জেনারেল জিন ম্যারী গোয়েহেনো, সাবেক আন্ডার সেক্রেটারী রাষ্ট্রদূত আনোয়ার-উল করিম চৌধুরীসহ উর্দ্ধতন কর্মকর্তা, বাংলাদেশের কন্সাল জেনারেল মোঃ শামসুল হক, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব, কম্যুনিটির নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ অংশ নেন এ অনুষ্ঠানে।
অপরদিকে সিটির এস্টোরিয়ায় বনফুল রেস্টুরেন্টে শেখ হাসিনা মুক্তি সংগ্রাম পরিষদের উদ্যোগে স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানের বক্তারা অবিলম্বে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনাকে চিকিৎসার্থে মুক্তির দাবি জানান। এ সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগ্রাম পরিষদের আহবায়ক মুক্তিযোদ্ধা বাদল আকন্দ এবং প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের এডভোকেট আতাউর রহমান শামীম। স্বাধীনতা দিবসের আলোকে আরো বক্তব্য রাখেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক হাকিকুল ইসলাম খোকন, মুক্তিযোদ্ধা জালাল উদ্দিন জালাল, মুক্তিযোদ্ধা শওকত আকবর রীচি, গোলাম কিবরিয়া বাচ্চু, নূরল হক খান, শামসুল আলম, সেলিম শরিফ এবং নাসিম হাওলাদার। বক্তারা অবিলম্বে একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্যে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠনের দাবি জানান, নইলে স্বাধীনতার স্বপ্ন কখনোই পূরণ হবে না।
সূত্রঃ এনা, নিউইয়র্ক।
Bangla Community News Tags: আওয়ামী লীগ, জাতিসংঘ, প্রবাসী, বঙ্গবন্ধু, মুক্তিযোদ্ধা, যুদ্ধাপরাধী, শেখ হাসিনা, স্বাধীনতা দিবস
Evergreen Bangla Community



Post Your Comments