আমেরিকায় বাংলাদেশীর সংখ্যা ৫ লাখ ১০ হাজার
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশীর সংখ্যা সম্পর্কে সঠিক কোন তথ্য এখন পর্যন্ত কারো কাছেই নেই। তবে ইমিগ্রেশনের হিসাব অনুযায়ী বৈধ ভিসায় প্রবেশকারীদের সর্বশেষ একটি হিসাব পাওয়া গেছে। সে সংখ্যাটি হচ্ছে ৫ লাখ ১০ হাজার। এয়ারপোর্ট বা সীমান্তে প্রবেশের রেকর্ড এবং অন্যান্য সূত্রে ইমিগ্রেশন বিভাগ তথা হোমল্যান্ড সিকিউরিটি এ পরিসংখ্যান রেকর্ড করেছে। যুক্তরাষ্ট্র সেনসাস ব্যুরোর মহাপরিচালক ডঃ খন্দকার মনসুর হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্টের উদ্ধৃতি দিয়ে ২৫ মার্চ এনাকে এ তথ্য জানিয়েছেন। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গ্রীণকার্ডধারী এবং নাগরিকত্বগ্রহণকারী বাংলাদেশীর সংখ্যা হচ্ছে ৪ লাখেরও বেশী। অস্থায়ী ওয়ার্কপারমিটে রয়েছেন ১৫ হাজার। এছাড়া অবৈধভাবে বসবাস করছেন কমপক্ষে ৯৫ হাজার জন। ট্যুরিস্ট কিংবা ইমিগ্র্যান্ট কিংবা অন্য কোন নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসায় আমেরিকায় আসা এবং এরপর ভিসার মেয়াদ লংঘন করে আমেরিকায় রয়ে যাওয়াদের উপর ভিত্তি করে এ সংখ্যা নির্ণয় করা হয়েছে। তবে যারা কোন ধরনের ভিসা ছাড়া মেক্সিকো অথবা কানাডা হয়ে প্রবেশ করেছেন সে সংখ্যা হোমল্যান্ড সিকিউরিটির কাছে নেই। আর এজন্যেই প্রকৃত সংখ্যা নির্ণয় করা কখনোই সম্ভব হয় না।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০০৭ সাল পর্যন্ত গত ১০ বছরে ৯১৭৯১ বাংলাদেশী ইমিগ্র্যান্ট হয়ে আমেরিকায় এসেছেন। এ সময়ে সিটিজেনশিপ গ্রহণ করেছেন ৪৭৪৮০। অস্থায়ী ওয়ার্ক পারমিটে রয়েছেন প্রায় ১১ হাজার বাংলাদেশী। এ দশকে বৈধ কাগজপত্রহীন বাংলাদেশীর সংখ্যা দাঁড়ায় ৮০ হাজারের মত।
সরকারী হিসাব অনুযায়ী, গত বছর ১৪৬৪৪ বাংলাদেশী আমেরিকায় এসেছেন ইমিগ্র্যান্ট ভিসায়। শুধুমাত্র গত বছর সিটিজেনশিপ গ্রহণকারী বাংলাদেশীর সংখ্যা হচ্ছে ৬৬৮৩। গত বছরও অস্থায়ী ওয়ার্ক পারমিটে এসেছেন ১০৯৮ জন। অপরদিকে গত বছর নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা (আই-৯৪)য় আগমনকারী বাংলাদেশীর সংখ্যা হচ্ছে ১৪২২৪। গত বছর নিউইয়র্কসহ বিভিন্ন স্টেটে ৬৪ বাংলাদেশীর রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন মঞ্জুর হয়েছে। অপরদিকে বহিস্কার করা হয়েছে ১৯০ জনকে। বহিষ্কারের অপেক্ষায় বিভিন্ন ডিটেনশন সেন্টারে রয়েছেন আরো শতাধিক বাংলাদেশী।
আমেরিকার সিটিজেনশিপ গ্রহণকারী লক্ষাধিক বাংলাদেশীর ৭৫% ও যদি ভোটার হিসেবে তালিকাভুক্ত হন তাহলেও কম্যুনিটি হিসেবে মূলধারায় বাংলাদেশীদের গুরুত্ব পারবে বলে অনেকে মনে করছেন। এ ব্যাপারে পুরনো সিটিজেনদের ভূমিকা অপরিসীম বলেও সংশি্নষ্টরা উলে্নখ করেন। কেননা দিন যত যাচ্ছে ততই খড়গ প্রসারিত হচ্ছে ইমিগ্র্যান্টদের উপর। বিশেষ করে মুসলিম ইমিগ্র্যান্টদের প্রতি নজরদারির নানারকমের ঘটনা ঘটে্ই চলেছে। তাই সকলেরই উচিত হবে গ্রীণকার্ডের বয়স সাড়ে ৩ বছর বা ৫ বছর হওয়ার সাথে সাথে সিটিজেনশিপের আবেদন করা। কেননা মামুলি অপরাধের জন্যেও এখন গ্রীণকার্ড কেড়ে নিয়ে বহিষ্কারের প্রবণতা পরিলক্ষিত হচ্ছে।
ইমিগ্রেশন বিভাগের উপরোক্ত সংখ্যার অতিরিক্ত কত বাংলাদেশী থাকতে পারেন আমেরিকায়-সে ব্যাপরে নিশ্চিত কোন হিসাব না পাওয়া পর্যন্ত মোট সংখ্যার ব্যাপারে কোনকালে কেউই নিশ্চিত হতে পারবেন না। তবে ৭ থেকে ৮ লাখ বাংলাদেশী বসবাস করছেন আমেরিকার বিভিন্ন সিটিতে এ দাবি কম্যুনিটির লোকজনের। সবচেয়ে বেশী বাংলাদেশী বাস করছেন নিউইয়র্ক, লসএঞ্জেলেস, নিউজার্সীর পেটারসন, ফ্লোরিডার মায়ামী, ফোর্টলডারডেল, অরল্যান্ডো, জর্জিয়ার আটলান্টা, টেক্সাসের হিউস্টন ও ডালাস, মিশিগানের ডেট্রয়েট প্রভৃতি স্থানে।
মূলধারায় কম্যুনিটির প্রতিনিধিত্বকারী লোকজনের সংখ্যা এখনও নিতান্তই নগন্য। যে হারে কম্যুনিটি সমৃদ্ধ হচ্ছে, তে তুলনায় মূল ধারায় প্রতিনিধিত্ব বাড়ছে না। তবে কম্যুনিটিভিত্তিক সংগঠনের সংখ্যা অকল্পনীয় হারে বেড়ে চলেছে। কোন কোন গ্রামের নামেও রয়েছে একাধিক সংগঠনের অস্তিত্ব। ডেমক্র্যাটিক পার্টি কিংবা রিপাবলিকান পার্টির সাথে সম্পৃক্ত হওয়ার চেয়ে দেশী রাজনীতি তথা বিএনপি আর আওয়ামী লীগের প্রতি এখনও ঝোঁক বেড়েই চলেছে। ইতিমধ্যেই যারা মূলধারায় সম্পৃক্ত হয়েছেন তাদের অনেকের কার্পণের কারণে অন্যদের সম্পৃক্ততার পথ সুগম হচ্ছে না বলেও অভিযোগ রয়েছে। যদিও আমেরিকান স্বপ্ন পূরণে মূলধারায় সম্পৃক্তির বিকল্প নেই।
সূত্রঃ এনা, নিউইয়র্ক।
Bangla Community News Tags: আওয়ামী লীগ, ইমিগ্রেশন, ইমিগ্র্যান্ট, কানাডা, বিএনপি
Evergreen Bangla Community


Post Your Comments