রফিকুন্নবীসহ চারুশিল্পীদের নাগরিক সংবর্ধনা জ্ঞাপন - নিউইয়র্কে ‘বাংলাদেশ গ্যালারী’ নির্মাণে কম্যুনিটির সহায়তা কাম্য
আধুনিক শিল্পের নিভরযোগ্য স্থান হিসেবে নিউইয়র্কে বাংলাদেশী চিত্রকলার নিয়মিত প্রদর্শনীর জন্যে একটি গ্যালারী স্থাপনের জন্যে প্রবাসীদের আন্তরিক সহায়তা প্রত্যাশা করা হয় ২৪ মার্চ সন্ধ্যায় এস্টোরিয়ায় ক্লাব সনমে রনবীসহ বাংলাদেশের খ্যাতনামা চারু শিল্পীদের নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে। উত্তর আমেরিকায় বাংলা ভাষার সর্বাধিক জনপ্রিয় ঠিকানা পত্রিকা আয়োজিত এ নাগরিক সংবর্ধনায় উপস্থিত প্রত্যেক শিল্পীকে ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। সংবর্ধিত শিল্পীরা হলেন রফিকুন্নবী রনবী, কালিদাস কর্মকার, ডঃ ফরিদা জামান, খোরশেদ আলম সেলিম, রোকেয়া সুলতানা এবং ঢাকাস্থ বেঙ্গল গ্যালারী অব ফাইন আর্টসের পরিচালক সুবির চৌধুরী। উলে্নখ্য যে, সমকালিন বাংলাদেশ আলোকে আন্তর্জাতিক একটি চিত্র প্রদর্শনীতে অংশ নেয়ার জন্যে উপরোক্ত চারুশিল্পীরা বর্তমানে নিউইয়র্কে অবস্থান করছেন। জাতিসংঘ সদর দফতর সংলগ্ন টার্কিশ সেন্টারে ২০ মার্চ থেকে চলছে এ প্রদর্শনী।
ঠিকানা আয়োজিত চারু শিল্পীদের নাগরিক সংবর্ধনার অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঠিকানা ও এনা’র প্রেসিডেন্ট সাঈদ-উর রব এবং তা উপস্থাপনা করেন ঠিকানা সম্পাদক মুহম্মদ ফজলুর রহমান। অনুষ্ঠানে বক্তৃতাকালে টোকাই খ্যাত রনবী বলেন, আমার মাঝেমাঝে খুব হিংসা হয় যখন দেখি যে আমার চেয়ে অনেক বেশী জনপ্রিয়তা পাচ্ছে ‘টোকাই।‘ আবার আমার খুব কষ্ট হয় যখন দেখি যে চিহ্নিত মাস্তানী-সন্ত্রাসীদের নামের আগে ‘টোকাই’ যুক্ত করা হচ্ছে। রনবী বলেন, আসলে টোকাই হচ্ছে অন্যায়-অপকর্মের বিরুদ্ধে সোচ্চার প্রতিবাদের প্রতিক। চিত্রের মাধ্যমে যা প্রকাশ করা সম্ভব হয় না, কার্টুনে তা টোকাই চরিত্রের মাধ্যমে সহজে প্রকাশ করা হচ্ছে।
বেঙ্গল গ্যালারী অব ফাইন আর্টসের পরিচালক সুবির চৌধুরী বলেন, জাতিসংঘের সহায়তায় নিউইয়র্কের মত গুরুত্বপূর্ণ একটি জায়গায় বাংলাদেশের চিত্র প্রদর্শনীর চেষ্টা বিগত কয়েক বছর যাবতই করে আসছিলাম। কিন্তু সরকার থেকে বা জাতিসংঘ মিশনে ইতিপূর্বেকার রাষ্ট্রদূতরা সেভাবে সহায়তা করেননি বলে তা সম্ভব হয়নি। সুবির চৌধুরী বলেন, বর্তমানের রাষ্ট্রদূত মিস ইসমত জাহান যখন নিউইয়র্কের পোস্টিং পেয়েছেন তখনই পূর্ব পরিচয়ের সূত্র ধরে অনুরোধ জানিয়েছিলাম এবং তিনি সে অনুরোধ রক্ষা করেছেন। এর ফলে বাংলাদেশের চিত্রকর্মও যে অনেক দেশের চেয়ে পিছিয়ে নেই সে ব্যাপারটি বিশ্ব সম্প্রদায়কে অবহিত করার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। প্রবাসী শিল্পী খোরশেদ আলম সেলিম বলেন, নিউইয়র্কে সাউথ ইস্ট এশিয়ার ১০০টি গ্যালারী হচ্ছে। ইতিমধ্যেই ভারতের ৪টি, চীন, জাপান, কোরিয়ার গ্যালারী হয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশের গ্যলারী নেই। একাজটি করতে প্রবাসীদের আন্তরিক সহায়তা দরকার। ঠিকানা পত্রিকার মাধ্যমে কম্যুনিটির কাছে আমরা আহবান জানাচ্ছি, নিউইয়র্কে বাংলাদেশ গ্যালারীর জন্যে এগিয়ে আসুন। তাহলে বাংলাদেশের ইমেজ গড়ার ক্ষেত্র আরো প্রসারিত হবে। বাংলাদেশও যে আধুুনিক সভ্যতার সাথে তাল মিলিয়ে চলেছে সে ব্যাপারটিও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সহজে জানানো যাবে।
সভাপতির সমাপনী বক্তব্যে সাঈদ-উর রব বলেন, শিল্পীরা সমাজকে এগিয়ে চলার পথ দেখান তার চিত্রকর্মের মাধ্যমে, শিল্পীর তুলিতে প্রতিফলিত হয় অন্যান্যের প্রতিবাদ। তেমনি কয়েকজন গুণী শিল্পীকে প্রবাসীদের পক্ষ থেকে আজ সংবর্ধনা জানাতে পেরে ঠিকানা পরিবারের সকলে গৌরবান্বিতবোধ করছে।
অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাধীনতার শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা এবং মুক্তিযোদ্ধাদের সশ্রদ্ধ সালাম জানানো হয়। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পরিপূরক একটি কবিতা আবৃত্তি করেন আবৃত্তিশিল্পী মিথুন আহমেদ এবং সবশেষে মুক্তিযুদ্ধের গান পরিবেশন করেন স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পী শহীদ হাসান এবং স্বপ্না কাওসার। প্রারম্ভে সংবর্ধিত শিল্পীদের ফুল দিয়ে স্বাগত জানায় ছোট্টমণি মেঘা, আফরিন এবং তাসনিম।
অনুষ্ঠানে কম্যুনিটির নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ যোগদান করেছিলেন। চারুশিল্পীদের জনপ্রিয়তা যে এ প্রবাসেও ব্যাপকভাবে রয়েছে তা আবারো প্রমাণিত হলো কর্মদিবসে জমজমাট এ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে।
সূত্রঃ এনওয়াই বাংলা, নিউইয়র্ক।
Bangla Community News Tags: জাতিসংঘ, জাপান, প্রবাসী, মুক্তিযোদ্ধা
Evergreen Bangla Community
Post Your Comments