৯ দেশের রাষ্ট্রদূতের ভূয়সী প্রশংসা ধ্বনির মধ্যে নিউইয়র্কে বাংলাদেশের সেরা শিল্পীদের ৯ দিনব্যাপী চিত্রপ্রদর্শনী শুরু
ভারত, পাকিস্তান, নেদারল্যান্ড, নেপাল, টার্কিশ, কিউবা, নিউজিল্যান্ড এবং বেলজিয়ামের স্থায়ী প্রতিনিধিগণের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা ধ্বনির মধ্যে ২০ মার্চ নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দফতরের সামনে বাংলাদেশের সেরা চিত্রশিল্পীদের সম্মিলিত অংশগ্রহনে ৯ দিনের চিত্র প্রদর্শনী শুরু হয়েছে। টার্কিশ কালচারাল সেন্টারে অনাড়ম্বর এক অনুষ্ঠানে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত মিস ইসমত জাহান বিপুল করতালির মধ্যে এ প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন। এ সময় শিল্পী রফিকুন্নবী, নিউইয়র্কস্থ এশিয়ান কালচারাল কাউন্সিলের পরিচালক রাল্ফ স্যামুয়েলসন এবং এ প্রদর্শনীর কো-হোস্ট ঢাকার বেঙ্গল গ্যালারী অব ফাইন আর্টসের পরিচালক সুবির চৌধুরীও বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করেন বাংলাদেশ মিশনের কাউন্সিলর সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী। উলে্নখ্য যে, জাতিসংঘের শহর নিউইয়র্কে বাংলাদেশের সেরা শিল্পীদের সম্মিলিত অংশগ্রহনে এ ধরনের চিত্র প্রদর্শনী এর আগে কখনো হয়নি। উদ্বোধনী ভাষণের সময় রাষ্ট্রদূত ইসমত জাহান বলেন, জাতিসংঘের বিভিন্ন ফোরামে এতদিন নানা কাজে ব্যস্ত ছিলাম এবং এখনও রয়েছি। তারই ফাঁকে সমকালিন বাংলাদেশের আলোকে প্রখ্যাত শিল্পীদের এ প্রদর্শনীর আয়োজন করতে পেরে মিশনের আমরা সকলেই গৌরবান্বিতবোধ করছি।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ৩৪ শিল্পীর ৪২টি চিত্রকর্ম প্রত্যক্ষ করার পর জাতিসংঘে নেদারল্যান্ডের স্থায়ী প্রতিনিধি ফ্র্যাঙ্ক মেজোর বার্তা সংস্থা এনার কাছে বলেন, আমি বাঙালি না হলেও চিত্রকলার ব্যাপারে সম্যক ধারণা রয়েছে। চিত্রকর্মগুলো আমাকে অভিভূত করেছে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ সম্পর্কে জাতিসংঘে আমার সহকর্মীরাও নতুন ধারণা পাবেন। নেপালের স্থায়ী প্রতিনিধি মিস মালিন মজেস বলেছেন, আমি এ প্রদর্শনীর চিত্রকর্মগুলোর ব্যাপারে মতামত জানানোর আগে বাংলাদেশের প্রকৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা প্রদর্শন করতে চাই। কেননা সুন্দর একটি প্রকৃতির আলোকেই শিল্পীরা এমন সুন্দর কর্ম সম্পাদন করতে সক্ষম হন। টার্কিশ স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত বাকি আলকিন বলেন, আমাদের এ মিলনায়তনটি ব্যবহারের অনুমতি দিয়ে সঠি কাজটি করেছি বলে এখন মনে হচ্ছে। হৃদয় ছুঁয়ে যাবার মত পরিবেশ তৈরী করতে সক্ষম হয়েছেন শিল্পীরা।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ সময়ে বাঙালি সেরা কবিদের অন্যতম শহীদ কাদরীও এসেছিলেন হুইল চেয়ারে ভর করে। তিনি বেশ খানিকক্ষন প্রদর্শনী কেন্দ্রে বসে থেকে ঢাকা ঘেকে আগত শিল্পী রফিকুন্নবী, কালিদাস কর্মকার, ফরিদা জামান, শেখ আফজাল, রোকেয়া সুলতানা এবং প্রবাসের শিল্পী খোরশেদ আলম সেলিমের সাথে বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেন। তিনি অসুস্থ হওয়া সত্বেও অতিথি শিল্পীদের খোঁজ-খবর নেন। নিউইয়র্কে বাংলাদেশের কন্সাল জেনারেল মোহাম্মদ শামসুল হক, বিভিন্ন মিডিয়ার উর্ধতন কর্মকর্তাসহ কম্যুনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ অংশ নেন।
জাতিসংঘে বাংলাদেশ মিশনের সার্বিক সহায়তায় ২৮ মার্চ পর্যন্ত প্রতিদিনই এ প্রদর্শনী সর্বসাধারণের জন্যে খোলা থাকবে। উলে্নখ্য যে, স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে জাতিসংঘে বাংলাদেশ মিশন আয়োজিত অনুষ্ঠানটিও এই প্রদর্শনী কেন্দ্রেই হবে। সেদিন অর্ধ শতাধিক দেশের স্থায়ী প্রতিনিধি এবং শতাধিক দেশের কূটনীতিকরা এ প্রদর্শনীতে আসবেন বলে আয়োজকরা উলে্নখ করেছেন।
এদিকে নিউইয়র্কে আগত বেঙ্গল গ্যালারী অব ফাইন আর্টসের শিল্পীদেরকে ২৪ মার্চ ‘নাগরিক সংবর্ধনা’ প্রদান করা হবে। উত্তর আমেরিকায় সর্বাধিক জনপ্রিয় ঠিকানা পত্রিকা এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করছে।
সূত্রঃ এনা, নিউইয়র্ক।
Bangla Community News Tags: জাতিসংঘ, বেলজিয়াম, স্বাধীনতা দিবস
Evergreen Bangla Community
Post Your Comments