সফল ভাবে সম্পন্ন হল বেলজিয়াম বাংলা থিয়েটারের ৩য় প্রযোজনা “পদ্মা পাড়ের মানুষ”
অসম্ভবকে সম্ভব করলেন তারা! প্রথম নয় দ্বীতিয় নয় তৃতিয় প্রযোজনায়ও সার্থকতার ছাপ রাখলেন তারা। দেখিয়ে দিলেন মেধা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে অসম্ভবকেউ সম্ভব করা যায়। দর্শকের মুখে তাই তাদের ভূয়সী প্রশংসা আর নাটকের পর্দা পরে যাবার পরও এতটুকু ক্লান্তির ছাপ ছিলনা রং ঘরে ছিল পরিতৃপ্তির হাসি। এই হাসি নিজেদের উজার করে দর্শকের জন্য বিলিয়ে দেবার। নাটকের শুরুতে ভাষ্যকাররা যেমন বলছিলেন অনেক বাধা ও চড়াই উতরাই তাদেরকে পাড়ি দিয়ে তবেই উপস্থিত হতে হয়েছে আজকের এই পর্যায়ে দর্শক মাত্রই উপলব্ধি করেছেন কেমন কঠিন ছিল সেই দিনগুলি। নিজেদের রাজনৈতিক প্রভাব মুক্ত রেখে, অপেশাদার অনভিজ্ঞ কিছু লোকজন নিয়ে (যাদের অনেকেই বেলজিয়ামের মাটিতে নিজেদের অস্তিত্বের জন্য লড়ে চলেছেন), প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতাকে পাশকাটিয়ে শুধুমাত্র ধৈর্য ও আত্মবিশ্বাসকে পূজি করে এতদুর আসার সাহস তারা দেখিয়েছে।
এই সংগঠনটিকে যিনি সৃষ্টি ও লালন করে চলেছেন সেই ব্যাক্তি সাইফুল ইসলাম। যার রচনা ও নির্দেশনায় এই সংগঠনটি দিয়ে চলেছে একের পর এক নতুন নাটক সেই প্রচার বিমুখ ব্যাক্তিটি তার নাটককে সফল করার জন্য নিজের কৃতিত্ব নিতে নারাজ। তিনি এই কৃতিত্বের ভাগিদার করেছেন তার সহকর্মীদের, এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশী ষ্টুডেন্টস ইন বেলজিয়াম (এবিএসবি)-কে, এখানকার ব্যাবসায়ী সমাজকে সর্বোপরি প্রবাসী বেলজিয়াম বাসীকে।
বাংলানিউজ তাদের দুটো মহড়া কাছ থেকে দেখেছে। দুর দুরান্ত থেকে আগত এই সব শিল্পিগুলি যেন একত্রে একটি পরিবার। বাংলানিউজ তাদের কাছ থেকে অতিথির যে মর্যাদা পেয়েছে তা ভূলার নয়। তাদের মধ্যে যে নিবিড় সম্পর্ক কিন্তু সিদ্ধান্ত গ্রহনে যে গনতন্ত্র তা অনেক সংগঠনেই বিরল। জনাব আশরাফুল ইসলাম যিনি সবাইকে ঠান্ডু মাঝি ওরফে ঠোসার চরিত্র অভিনয় করে আনন্দ দিয়েছেন অথচ যিনি কিনা এক সপ্তাহ আগে পিতৃ বিয়োগে মুহ্যমান এক মুহুর্তেঊ দর্শককে বুঝতে দেননি তার বেদনার কথা।
তবে একটি কথা না বললেই নয়, কতৃপক্ষ নাটক শুরু করতে যে দেরী করেছেন (৪.৩০ এর বদলে ৫.২০-এ) সেটি এড়াতে পারলে সবচেয়ে ভাল হতো। আমরা না হয় বাঙ্গালীরা এমনতর শিডিউলে অভ্যস্থ কিন্তু নাটকদেখতে আসা ইউরোপিয়রা যারা এরকম অবস্থায় অনভিজ্ঞ তার বুঝতে পারছেলিননা টিকেট কেটে এমন দশায় কি করা উচিত। যার সেচ্ছাসেবক হিসাবে দায়িত্ব পালন করছিলাম তারা এমন ভাবে ছোটাছূটি করছিলেন তাতে মনে হচ্ছিল ভিতরে কোথাউ আগুন লেগেছে তারা এখন সেটি নিয়েই বেশি ব্যাস্ত। তারা যদি দর্শকদের বিশেষতঃ ইউরোপিয়ান অতিথিদের আশ্বস্ত করতেন তাহলে বিষয়ট অনেক ভালো লাগত।
বাংলানিউজ নাটকের ব্রেকের ফাকে দর্শকের যে অনুভুতি সংগ্রহ করেছে তাতে আর বোঝার বাকি নেই বেলজিয়ামে এক নতুন ঝড়ের আবির্ভাব হয়েছে। সেই ঝড় শিল্পের মাধ্যমে সমাজ পরিবর্তনের। সামান্য সমন্বয়গত সমস্যা ও ষ্টেজ ভিতির কারনে কয়েকজনের ফ্রিজ হয়ে যাওয়া ও কারিগরী কিছু বিচ্যুতিতে দর্শকদের মৃদু সমালোচনা থাকলেউ প্রশংসা তাকে ছাপিয়েগেছে বহুগুন। দুই মাসের ব্যাবধানে নতুন নাটক নিয়ে হাজির হবার ঘোষনাকে দুঃসাহস বললেউ তাদের আগ্রহের কথা ব্যাক্ত করেছেন সবাই। শুধুমাত্র ২ ইউরোর বিনিময়ে সুন্দর একটি মিলয়ানতনে পরিশিলিত এই আয়োজন দেখতে পারবে এ ধারনা অনেকেই করেনি। অনেক আয়োজনে ভাড়া করা শিল্পিদের নাচন-কুর্দন দেখতে যেখানে মানুষ উচ্চমুল্যের টিকেট জবরদস্তির মুখে কিনতে বাধ্য হয় সেখানে শিল্পি গড়ার এই শিক্ষালয়ে নিজেদের ভাই-বোন বন্ধুকে আবিস্কার করলয়াম নতুন এক পরিচয়ে। এটা আমাদের অর্জন আমাদের অহংকার। জয় বেলজিয়াম বাংলা থিয়েটার, বেলজিয়াম বাংলাথিয়েটার জিন্দাবাদ।
Bangla Community News Tags: banglanews.be, Belgium, Belgium news, Brussels
Evergreen Bangla Community


Post Your Comments