দুই নেত্রীর মুক্তি ও জরুরী আইন প্রত্যাহার দাবিতে লন্ডনে বাংলাদেশীদের ব্যাপক বিক্ষোভ
প্রধান উপদেষ্টার হোটেল এবং সমাবেশ স্থলের বাইরে যুক্তরাজ্য বিএনপি এবং যুক্তরাজ্য যুবলীগের উদ্যোগে বড় ধরনের দুটি বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে ডঃ ফখরুদ্দিনকে কালো পতাকা প্রদর্শন করা হয় মানবাধিকার লংঘনের জন্য। এছাড়া অবিলম্বে দুই নেত্রীর নিঃশর্ত মুক্তি, জরুরী আইন প্রত্যাহার করে জাতীয় নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা এবং দুর্নীতি দমনের অভিযানের নামে প্রধান দুটি রাজনৈতিক দলকে ধ্বংসের ষড়যন্ত্র থেকে বিরত হওয়ার আহবানে গগনবিদারি শ্লোগান দেয়া হয়। স্থানীয় সময় রোববার অপরাহ্নে এসব কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয় দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যেই। লন্ডনের এই কর্মসূচিতে যোগদানের জন্য ইউরোপের কয়েকটি দেশ থেকেও বিএনপি, আওয়ামী লীগ, যুবলীগের নেতা-কর্মীরা এসেছিলেন বলে আয়োজকরা জানিয়েছেন। উল্লেখ্য যে, সেনেগালের ডাকারে ওআইসি সম্মেলনে যোগদান শেষে ৫ দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে ডঃ ফখরুদ্দিন আহমেদ ১৬ মার্চ রোববার সকাল সাড়ে ৯টায় লন্ডনের হিথরো এয়ারপোর্টে পৌঁছেন। এ সময় বৃটিশ সরকারের এশীয় ও কমনওয়েল্্থ ষিয়ক অফিসের পরিচালক রাষ্ট্রদূত জন ডেনিস ও লন্ডনে বাংলাদেশের হাই কমিশনার সফি ইউ আহমেদ তাকে স্বাগত জানান। এরপর পশ্চিম লন্ডনে হাইড পার্কে ডর্চেস্টার পার্কলেন হোটেলে উঠেন তিনি। ‘যেখানে ফখরুদ্দিন সেখানেই প্রতিরোধ’ শীর্ষক কর্মসূচির আওতায় এই হোটেলের সামনেই বিক্ষোভ করেন যুক্তরাজ্য যুবলীগের নেতা-কর্মীরা। বিক্ষোভে নেতৃত্ব দেন যুবলীগের সভাপতি আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী এবং সেক্রেটারী তাইফ আহমেদ। যুক্তরাজ্য এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন শাখা আওয়ামী লীগ, যুবলীগের নেতাকর্মীরাও অংশ নেন এ বিক্ষোভে। এরপর সন্ধ্যায় পশ্চিম লন্ডনে কুইন্স গেইটে ব্যাডেন পাউয়েল মিলনায়তনে প্রবাসীদের এক সমাবেশে বক্তৃতার উদ্দেশ্যে যাবার সময় সমবেত কয়েক শত প্রবাসী দুই নেত্রীর মুক্তিসহ জরুরী আইন প্রত্যাহারের শে্নাগান দেন। এ সমাবেশের আয়োজন করেছিল যুক্তরাজ্য বিএনপি। তবে ইউরোপের আরো কয়েকটি দেশের নেতৃবৃন্দকে দেখা যায় সমাবেশে। যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব কমরউদ্দিন আহমেদ সমাবেশ স্থল থেকে বার্তা সংস্থা এনাকে বলেন, সকাল থেকেই বৃষ্টি হচ্ছে। এমন দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যেই প্রায় এক হাজার প্রবাসীর উপস্থিতিতেই অনুভব করা যায় কেয়ারটেকার সরকারের আচরণের বিরুদ্ধে প্রবাসীদের ক্ষোভের নমুনা। তিনি বলেন, আমরা ৩টি কারণে বিক্ষোভ করতে বাধ্য হচ্ছি। প্রথমটি হচ্ছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও তার পুত্র তারেক ও কোকোসহ সকল রাজবন্দির মুক্তি, জরুরী আইন প্রত্যাহার ও নির্বাচনের তপসিল ঘোষণা। এ ৩টি দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত যেখানে ফখরুদ্দিন সেখানেই বিক্ষোভ চলবে। তিনি বলেন, আমরা এ দাবি উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টাকে স্মারকলিপি দিয়েছি। ২৪ ঘন্টার মধ্যে আমাদের নেত্রীকে মুক্তি দেয়া না হলে ১০ ডাউনিং স্টীটে প্রধান মন্ত্রী গর্ডন ব্রাউনের সাথে ডঃ ফখরুদ্দিনের বৈঠকের স্থলে আরো বড় আকারের বিক্ষোভ প্রদর্শিত হবে। আলহাজ্ব কমরউদ্দিন বিক্ষোভের নেতৃত্ব দেয়ার সময় নিউইয়র্ক থেকে ফোন করেন বিএনপির মহাসচিব খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন। তিনি ফোনেই বিক্ষোভকারীদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, জরুরী আইন বহাল থাকায় বাংলাদেশের মানুষ অনেক কিছুই করতে পাচ্ছেন না। প্রবাসে আপনারা বিএনপির দুর্দিন লাঘবে যে কষ্ট করছেন সে কথা বিএনপির ইতিহাসেই শুধু নয়, বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।
প্রধান উপদেষ্টার বক্তৃতার সময়ও মিলনায়তনের বাইরে বিএনপির বিক্ষোভ-সমাবেশ চলতে থাকে। এতে সভাপতিত্ব করেন আলহাজ্ব কমরউদ্দিন এবং সমাবেশ পরিচালনা করেন যুক্তরাজ্য বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম এ মালিক। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন মিয়া মনিরুল আলম, আব্দুল লতিফ জেপি, সিরাজউদ্দিন, শামসুদ্দিন আহমদ, এ কে আযাদ, এম লুৎফর রহমান, শরিফুজ্জামান চৌধুরী তপন, তাজুল ইসলাম, কামাল আহমেদ, লিটন আহমেদ চৌধুরী, মশাহীদ আলী, নজরুল ইসলাম খান, শাহেদ উদ্দিন চৌধুরী, ব্যারিস্টার আরমান রফিক, আহমদ আলী, দেওয়ান মুশফিক চৌধুরী নিয়াজ, নূরল ইসলাম, লুৎফর রহমান, খন্দকার আব্দুল করিম নীপু, এনামুল হক লিটন এবং নাসিম আহমেদ।
এদিকে ১৭ মার্চ সোমবার প্রধান উপদেষ্টার হোটেলের সামনে যুক্তরাজ্য মহিলা আওয়ামী লীগের ডাকে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হবে এবং ১৮ মার্চ ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রীটের সামনে যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগ এবং বিএনপিসহ বেশ কয়েকটি সংগঠন সম্মিলিতভাবে বিক্ষোভ করবে বলে এনাকে জানানো হয়েছে।
ব্যাডেন পাউয়েল হাউজ মিলনায়তনের বাইরে বিক্ষোভ চলায় প্রধান উপদেষ্টা ডঃ ফখরুদ্দিন আহমেদকে পেছনের গেইট দিয়ে অনুষ্ঠানস্থলে নেয়া হলেও পররাষ্ট্র উপদেষ্টাসহ তার সফরসঙ্গীরা বিক্ষোভকারীদের সম্মুখ দিয়ে মিলনায়তনে যান। তবে বিক্ষোভকারীরা অভূতপূর্ব শৃঙ্খলা প্রদর্শনে সক্ষম হন। উল্লেখ্য যে, লন্ডন পুলিশের অনুমতি নিয়েই এ বিক্ষোভের আয়োজন করা হয়। ইতিপূর্বে অনেক রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে লন্ডন প্রবাসীরা নানাবিধ কারণে বিক্ষোভ করেছেন। তবে এবারের মত প্রাকৃতিক দুর্যোগের মধ্যে এতবেশী লোক সমাগম আর কখনোই হয়নি বলে প্রবীন একজন প্রবাসী এনাকে জানিয়েছেন।
সূত্রঃ এনা, লন্ডন।
Bangla Community News Tags: আওয়ামী লীগ, খালেদা জিয়া, বিএনপি
Evergreen Bangla Community



Post Your Comments