ইত্তেফাকের নিউইয়র্ক প্রতিনিধিকে অব্যাহতির নোটিশ
দৈনিক ইত্তেফাকের নিউইয়র্ক প্রতিনিধি মাহমুদ খান তাসেরকে কেন দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি প্রদান করা হবে না সে মর্মে গত ৯ মার্চ ইত্তেফাকের কার্যনির্বাহী পরিচালক-১ একটি পত্র দিয়েছেন। সে পত্রে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন সংবাদ পরিবেশনের গুরুতর অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া ছিচকে চুরির দায়ে গ্রেফতার ও অবশেষে কোর্টে হাজিরার তথ্যও জানতে চাওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য যে, গত কয়েক বছর যাবত মাহমুদ খান তাসের ইত্তেফাকে এমনসব সংবাদ পরিবেশন করেন যার অধিকাংশের তথ্যের সাথেই বাস্তবের অমিল ছিল। এরফলে ইত্তেফাকের ইন্টারনেট এডিশনের প্রতি প্রবাসের অনেক সুধিজনের বিরুপ ধারণা সৃষ্টি হয়েছে। ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকটি সংগঠন ও বিশিষ্ট ব্যক্তির পক্ষ থেকেও ইত্তেফাকে অভিযোগ করা হয়। তারই পরিপ্রেক্ষিতে ইস্যু করা হয়েছে অব্যাহতি প্রদানের আগে আত্মপক্ষ সমর্থনের পত্রটি।
গত বছরের এপ্রিল মাসের ১২ তারিখে ছিচকে চুরির মামলা থেকে শর্তসাপেক্ষে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে মাহমুদ খান (তাসের)কে। নিউইয়র্কের ইস্ট ফিশকিল টাউন কোর্টের কেস হিস্ট্রি রিপোর্ট প্রত্যক্ষ করলেই এর সত্যতা পাওয়া যায়। মাননীয় জজ উইলিয়াম জী’র এজলাসে মামলাটির নিষ্পত্তি হয়। মাহমুদ খান তাসেরকে গ্রেফতার করা হয়েছিল ২০০৫ সালের আগষ্ট মাসের ২০ তারিখে। এরপর তাকে কোর্টে হাজিরা দিতে হয়েছে অন্ততঃ ১২বার। মামলার নিষ্পত্তির যাবতীয় কাজ ২০০৭ সালের ১২ এপ্রিল সম্পাদিত হলেও শর্তারোপ করা হয় যে ঐ বছরের অর্থাৎ গত বছরের সেপ্টেম্বরের ৭ তারিখের মধ্যে যদি আর কোন অপরাধে লিপ্ত না হন তাহলেই তিনি মামলা থেকে অব্যাহতি পাবেন। কোর্টের কেস হিস্ট্রি গভীরভাবে পর্যালোচনা করলেই বিষয়টি স্পষ্ট হবে। অর্থাৎ জীবনে আর কোনদিন অপকর্মের অভিযোগে গ্রেফতার হবেন না বলে মুচলেকা দেয়ার পরই সাধারণতঃ এ ধরনের শর্তে মামলা-মোকদ্দমার নিষ্পত্তি করা হয় বলে আমেরিকান আইনজীবীরা উল্লেখ করেন। তবে ছিচকে চুরির জন্যে গ্রেফতারের খবর জানার পরই মাহমুদ খান তাসেরকে আইবিএম’র চাকরি থেকে বরখাস্তô করা হয়।
ছিচকে চুরির মামলায় গ্রেফতার হওয়ার পরও দৈনিক ইত্তেফাকের মত মর্যাদাসম্পন্ন একটি পত্রিকায় মাহমুদ খান তাসেরকে সংবাদদাতা হিসেবে বহাল রাখার ঘটনায় কম্যুনিটির সুধিজনে তীব্র প্রতিক্রিয়া পরিলক্ষিত হচ্ছে গত কয়েক বছর থেকেই। শুধু তাই নয়, তিনি বেশ কিছু নিউজ পরিবেশন করেন যার সাথে সত্যের লেশমাত্র ছিল না। এজন্যে তাকে বিএনপি এবং আওয়ামী লীগের সভা থেকে তিরস্কার করা হয়। সর্বশেষ বাংলাদেশ সোসাইটি অব নিউইয়র্ক ভবনে আয়োজিত কম্যুনিটির এক সভা থেকেও তাকে তাড়িয়ে দেয়া হয়। জাতিসংঘ সদর দফতরের সামনে বিএনপি-আওয়ামী লীগের বিক্ষোভ-সমাবেশের কাছে যাওয়া মাত্র তাকে ধাওয়া করা হয়েছিল। এসব সংবাদ নিউইয়র্ক হতে প্রকাশিত সংবাদপত্রে ছাপাও হয়।
সবচেয়ে বিস্ময়কর ব্যাপার হচ্ছে, কয়েক মাস আগে মাহমুদ খান তাসের এক ক্ষুদ্রায়তনের বৈঠকে আকস্মিক ইত্তেফাকের পরিচালক মন্ডলীর সভাপতি ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন সম্পর্কে বাজে মন্তব্য করেন। এটা অনেকের কাছে আকাশ ভেঙ্গে পড়ার মত মনে হয়েছে। কেননা সে কথা বলার সপ্তাখানেক আগেই তিনি ঢাকা থেকে ফিরেন জাতিসংঘ বাংলাদেশ মিশনে প্রেস মিনিস্টার হওয়ার তদ্বির শেষে। প্রেস মিনিস্টার হিসেবে নিয়োগের ব্যাপারে হয়তো তাকে ব্যারিস্টার সাহেব (সে সময় তিনি কেয়ারটেকার সরকারের তথ্য উপদেষ্টা ছিলেন) কোন ধরনের সহায়তা করেননি বলেই অমন মন্তব্য ছুঁড়ে দেন বলে সে সময় কয়েকজন মন্তব্য করেছিলেন।
সূত্রঃ এনা, নিউইয়র্ক।
Bangla Community News Tags: আওয়ামী লীগ, জাতিসংঘ, দৈনিক ইত্তেফাক, বাংলাদেশ সোসাইটি, বিএনপি
Evergreen Bangla Community


Post Your Comments