ওয়াশিংটনের বৈঠকে সরকারের আন্তরিকতা নিয়ে সংশয় প্রকাশ
স্টেট ডিপার্টমেন্ট কর্তৃক বাংলাদেশে মানবাধিকার পরিস্থিতির অবনতি সম্পর্কিত রিপোর্ট প্রকাশের পরদিনই মার্কিন কংগ্রেসনাল ককাসের সদস্যরাও রোডম্যাপ অনুযায়ী নির্বাচন অনুষ্ঠানে সরকারের আন্তরিকতা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করলেন। তাঁরা মনে করেন যে নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট তপসিল ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত এ সংশয় চলতেই থাকবে। তাই যত দ্রুত সম্ভব নির্বাচনী তপসিল ঘোষণা করা দরকার। ১২ মার্চ ওয়াশিংটন ডিসিতে ক্যাপিটল হিলে বাংলাদেশ দূতাবাস আয়োজিত এক বৈঠকে এ সংশয় প্রকাশের পাশাপাশী দুর্নীতি বিরোধী অভিযান, নির্বাচন কমিশন পুণর্গঠন, সন্ত্রাস বিরোধী অভিযান, বিচার বিভাগকে পৃথকীকরণসহ বিভিন্ন পদক্ষেপের প্রশংসা করা হয়। তবে গ্রেফতারকৃতরা যাতে বিচার প্রক্রিয়ায় আত্মপক্ষ সমর্থনের সর্বোচ্চ সুযোগ পায় সে ব্যাপারেও সংশি্নষ্টদের প্রতি আহবান জানানো হয়। এছাড়া দুর্নীতি বিরোধী অভিযানে কেউ যাতে অহেতুক হয়রানির শিকার না হন সে ব্যাপারেও সংশি্নষ্টদের প্রতি আহবান জানানো হয়। বৈঠকে কংগ্রেসনাল বাংলাদেশ ককাসের প্রতিষ্ঠাতা কো-চেয়ার কংগ্রেসম্যান যোসেফ ক্রাউলী, টেক্সাসের কংগ্রেসওম্যান শীলঅ জ্যাকসন লী, নিউইয়কের কংগ্রেসম্যান ন্যান্সী বয়ডা এবং মাইকেল আরক্ণ্ড ক্যানসাসের কংগ্রেসমান ডেনির মুর এবং নিউজার্সীর কংগ্রেসম্যান বীল প্যাসকল। উল্লেখ্য যে, দূতাবাসের উদ্যোগে কংগ্রেসাল ককাসের সাথে এ ধরনের বৈঠকের উদ্যোগ এটাই প্রথম। রাষ্ট্রদূত হুমায়ূন কবির এ সময় উদ্বেগাকুল কংগ্রেসম্যানদের আশ্বস্ত করেন যে রোডম্যাপ অনুযায়ী ডিসেম্বরের মধ্যে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ব্যাপারে সরকারের আন্তরিকতার কোনই কমতি নেই। এছাড়া বিচার বিভাগকে স্বাধীন করায় গ্রেফতারকৃত সকলেই আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ পাচ্ছেন। রাষ্ট্রদূত কংগ্রেসম্যানদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন সিডর দুর্গতদের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করে কংগ্রেসে একটি বিল পাশ করার জন্যে। একইসাথে তিনি সকলের প্রতি আহবান জানান অবিলম্বে বাংলাদেশী ইমিগ্র্যান্টদের জন্যে টিপিএস প্রোগ্রামকে সক্রিয় করতে। এছাড়া বাংলাদেশী পণ্যকেও আমেরিকায় অবাধে প্রবেশাধিকারের বিলটি পাশেও কংগ্রেসম্যানদের আন্তরিক সহায়তা প্রত্যাশা করেন। কংগ্রেসম্যান যোসেফ ক্রাউলীসহ সকলেই বলেন, আমরা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে সংহত দেখতে চাই, মানবাধিকার পরিস্থিতির সন্তোষজনক উন্নয়ন ঘটছে বলে জানতে চাই। গ্রেফতারকৃত দুই নেত্রীকে বিচার প্রক্রিয়ায় আন্তর্জাতিক ও জাতীয় রীতি অনুসরণ করা হচ্ছে কিনা সে ব্যাপারেও জানতে চান তারা।
বৈঠকে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হুমায়ুন কবির কংগ্রেসে বাংলাদেশ ককাস যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক বৃদ্ধিতে মাইলফলকের ভূমিকা পালন করতে পারে বলে উল্লেখ করেন।
এসময় সরকার কতৃক গঠিত মানবাধিকার কমিশন গঠন, সন্ত্রাসবাদ, শ্রমিক অধিকার উন্নয়ন বিষয়ে সরকারের নেয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ সম্পর্কেও তিনি ব্যাখা করেন।
এছাড়া সিডর উত্তর ত্রাণ প্যাকেজ, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে শুল্কমুক্ত পন্যের প্রবেশাধিকার বা এনপিডিএ বিল,যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত অবৈধ বাংলাদেশীদের জন্য সাময়িক অবস্থান সুবিধা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় বাংলাদেশকে সহযোগীতার জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানান।
রাষ্ট্রদূতের অফিস থেকে জানা গেছে যে, কংগ্রেসনাল ককাসের সাথে এ ধরনের বৈঠকের আয়োজন আরো করা হবে। এরফলে বাংলাদেশের সর্বশেষ পরিস্থিতি তাদেরকে অবহিত করার পাশাপাশী বাংলাদেশের স্বার্থোদ্ধারে তারা যাতে যথাযথ কাজে লাগতে পারেন সে পথও সুগম হবে। এ ব্যাপারে কম্যুনিটির সর্বস্তরের লোকজনের সহায়তাও কামনা করা হয়েছে।
সূত্রঃ এনা, ওয়াশিংটন ডিসি।
Bangla Community News Tags: ইমিগ্র্যান্ট
Evergreen Bangla Community



Post Your Comments