নতুন ইমিগ্রেশন আইন ও রেষ্টুরেন্টে স্টাফ সংকট নিরসনে স্কটিশ পার্লামেন্টে বাংলাদেশীদের বিশাল প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ
বিগত ১৩ই মার্চ স্কটল্যান্ডের বাংলাদেশীরা নতুন ইমিগ্রেশন আইনের প্রভাবে স্কটল্যান্ডের কারী ইন্ড্রাষ্ট্রিতে সৃষ্ট স্টাফ সংকটের প্রতিবাদে স্কটিশ পার্লামেন্টের সামনে এক বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ আয়োজিত হয়। শত শত রেষ্টুরেন্ট মালিক ও কর্মচারীরা সুসজ্জিত হয়ে হাতে ব্যানার ও পোষ্টার নিয়ে দুপুর ১২ টা থেকে ২টা পর্যন্ত পার্লামেন্টের সামনে অবস্থান নেন। বাংলাদেশ সমিতি এডিনবরার উদ্যোগে আয়োজিত বিক্ষোভে স্কটিশ পার্লামেন্টের অসংখ্য এমএসপি ও স্থানীয় এমপি রা অংশগ্রহন করেন এবং তাদের সমর্থন দান করেন। স্কটিশ ফার্স্ট মিনিষ্টার অ্যালেক্স স্যালমন্ড এমএসপি বিকেলে বিক্ষোভকারীদের সাথে দেখা করেন এ সময় বাংলাদেশ সমিতির নেতৃবৃন্দরা তাদের দাবি দাওয়া সম্বলিত একখানা স্মারকলিপি ফার্স্ট মিনিষ্টারের হাতে তুলে দেন। এ সময় স্কটীশ পার্লামেন্টের প্রথম এশিয়ান এমএসপি বশির আহমদ, এডিনবরার এমপি মার্ক ল্যাজারউইচ, গ্রীন পার্টির এমএসপি রবিন হার্পার, গ্লাসগোর এমএসপি সান্দ্রা হোয়াইট, হাইল্যান্ডের এমএসপি রব গিবসন প্রমুখ। বিশিষ্ট কারী ফ্যান হিসাবে খ্যাত স্কটিশ ফার্ষ্ট মিনিষ্টার অ্যালেক্স স্যালমন্ড বলেন- ওয়েষ্ট মিনিষ্টার কতৃক সম্প্রতি প্রণীত নতুন এ আইনের ক্ষতিকর প্রভাবে রেষ্টুরেন্ট সেক্টরে স্টাফ সংকট বিষয়টির সাথে আমি পুরোপুরি একমত, এ ব্যাপারে অতি সত্বর কার্যকরী পদক্ষেপ নেয়া দরকার বলে আমি মনে করি নতুবা আমাদের স্কটিশ অর্থনীতিতে এর বিরুপ প্রভাব পড়তে পারে। স্টাফ ছাড়া রেষ্টুরেণ্ট চালু থাকবে না আর রেষ্টুরেন্ট চালু না থাকলে এর বিরুপ পড়বে আমাদের সমাজ ও অর্থনীতির উপর ওয়েষ্ট মিনিষ্টার পার্লামেন্টে এ বিষয়টি সম্পর্কে আমরা জোরালো উত্থাপন করব। বিবিসি সহ স্থানীয় প্রিণ্ট মিডিয়ায় সহকারে বিষয়টি কাভারেজ প্রদান করে।
উল্লেখ্য , গত ২৯ শে ফেব্রুয়ারী থেকে বাস্তবায়িত আইনের ফলে কোন রেষ্টুরেন্টে যথাযথ অনুমোদনহীন কোন কর্মী পেলে রেষ্টুরেন্ট মালিকের ২ বছর কারাদন্ড ভোগ এবং জরিমানা প্রদান করতে হবে। বাংলাদেশ সমিতি সভাপতি নুনু মিয়া বলেন - রেষ্টুরেন্ট মালিকরা ইমিগ্রেশন বৈধতা যাচাই বাচাই করতে দায়িত্ব প্রাপ্ত বা অভিজ্ঞতাসম্পন্ন নয়। এ আইনের ফলে রেষ্টুরেণ্ট মালিকরা কিভাবে বৈধ স্টাফ নির্বাচন করবেন তা বুঝে উঠতে পারছেন না । অন্যদিকে, নতুন আইনের জটিলতায় অনেক বাংলাদেশী রেষ্টুরেন্ট কর্মী কাজে যোগ দিতে দ্বিধাগ্রস্থ। এমনিতেই স্কটল্যান্ডে সবসময় স্টাফের অভাব বিদ্যমান ছিল বর্তমান পরিস্থিতিতে বিশেষ করে রেষ্টুরেন্টের কিচেন স্টাফের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।
সমস্যার তীব্রতা জানাতে গিয়ে স্থানীয় রেষ্টুরেন্ট মালিক জানান - বর্তমানে আমাদের অনেকের পক্ষেই রেষ্টুরেন্ট পরিচালনা করা বেশ কষ্টকর হয়ে পড়েছে। কম স্টাফ থাকায় আমরা দিনের বেলায় রেষ্টুরেন্ট খোলা রাখতে পারছি না । কেউ কেউ বিকল্প হিসাবে পুর্বে রান্না করা কারী ফ্রোজেন করে রেষ্টুরেণ্টে সরবরাহ করার কথা বিবেচনা করছেন যাতে কিচেন স্টাফ ছাড়া কোনমতে ব্যাবসা চালু রাখা যায় আবার অনেকে মেনু থেকে অনেক আইটেম বাদ দিতে বাধ্য হচ্ছেন ।
সরকার ইউরোপিয়ান দেশের নাগরিকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করার জন্য এশিয়ান দেশ থেকে আসা ইমিগ্রাণ্টদের উপর কড়াকড়ি আরোপ করেছে। নতুন পয়েন্ট বেইসড সিস্টেমে নন ইউরোপিয়ান দেশ বা বাংলাদেশ থেকে কোন স্টাফ আনার ক্ষেত্রে নতুন শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অন্যান্য শর্ত সমুহ আরোপ করায় ভবিষ্যতে এ ইন্ড্রাষ্ট্রিতে কোন লোক আনাও বেশ জটিল হয়ে পড়েছে। যেমন, ওয়ার্ক পারমিট ভিসার ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসাবে এনভিকিউ-৩ অর্জন করার বাধ্যবাধক করা হয়েছে। বাংলাদেশ সমিতির জেনারেল সেক্রেটারী ফয়ছল চৌধুরী এমবিই বলেন - যারা রেষ্টুরেন্ট কিচেনে দীর্ঘ দিন ধরে কাজ করছেন তাদের সেই কর্ম অভিজ্ঞতা কোন ভাবেই মুল্যায়ন করার সুযোগ নেই নতুন প্রনীত সিস্টেমে। কিন্তুু , ম্যাকডোনাল্ড রেষ্টুরেন্টে ৩ বছর কাজ করলে ডিপ্লোমা ডিগ্রী লাভ করা যায়। কষ্ট সহিষ্ণু বাংলাদেশী রেষ্টুরেষ্ট কর্মীরা গভীর রাত পর্যন্ত কাজ করে ব্রিটেনের সামাজিক সেবা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভুমিকা রাখছে তা সরকার কোনভাবেই মুল্যায়ন করছে না।
তিনি আরও বলেন - এ পরিস্থিতি চালু থাকলে থাকলে বাৎসরিক ৩.২ বিলিয়ন পাউন্ড ট্যাক্স প্রদানকারী এই কারী ইন্ড্রাষ্টি একসময় ধ্বংস হয়ে পড়বে । ইউরোপিয়ান জনগন কতৃক রেষ্টুরেন্টে কাজ সম্পর্কে বাংলাদেশ সমিতির জনৈক সদস্য বলেন - কারীর জনপ্রিয়তা লাভের মুল কারন হচ্ছে এর স্বকীয়তা, যারা স্পাইস ও কারীর মধ্যে বেড়ে উটেছে তারাই জানে কিভাবে সুস্বাদু কারী তৈরী করতে হবে।
নতুন প্রণীত আইন কি প্রভাব সৃষ্টি করছে তা পর্যবেক্ষন করতে হোম অফিস কতৃক গটিত কমিটি আগামী জুন মাস নাগাদ রিপোর্ট প্রদান করবে বলে জানা গেছে।
সূত্রঃ এনওয়াই বাংলা, নিউইয়র্ক।
Bangla Community News Tags: ইমিগ্রেশন
Evergreen Bangla Community



Post Your Comments