আমেরিকায় অবৈধভাবে বসবাসরত বাংলাদেশীদের দিন কাটছে আতংকে

দৈনিক ৬৫ হাজার অবৈধ ইমিগ্র্যান্টকে গ্রেফতার এবং বহিষ্কারের টার্গেট নিয়ে মাঠে কাজ করছে ইমিগ্রেশন এনফোর্সমেন্ট বিভাগের বিশেষ শতাধিক টিম। এছাড়া প্রতি কর্মদিবসেই একাধিক ফ্লাইটে গ্রেফতারকৃত অবৈধ ইমিগ্র্যান্টদের স্বদেশে পাঠিয়ে দেয়া হচ্ছে। আমেরিকায় জন্মগ্রহণকারী লাখ লাখ শিশুকে রেখে মা-বাবাকেও পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে এবং হচ্ছে। আমেরিকান শিশুদের এহেন অবর্ণনীয় অসহায় অবস্থা থেকে রক্ষার জন্যে কংগ্রেসে ১৬ ফেব্রুয়ারি ‘ইমিগ্র্যান্ট চাইল্ড প্রটেকশন এ্যাক্ট’ নামক (এইচআর ১১৭৬) একটি বিল উত্থাপিত হয়েছে। নিতান্তই মানবিক কারণে এই বিল পাশের আহবান জানিয়ে ২৮ ফেব্রুয়ারি নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিলে একটি রেজ্যুলেশন সর্বসম্মতভাবে পাশ হয়েছে। কংগ্রেসের উপর চাপ প্রয়োগের জন্যে ইমিগ্র্যান্ট অধ্যুষিত প্রতিটি এলাকার জনপ্রতিনিধিদের সাথে লবিং করার আহবান জানানো হয়েছে নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিলের পক্ষ থেকে। সিটি কাউন্সিলের রেজ্যুলেশনে বলা হয়েছে, শুধুমাত্র অবৈধ ইমিগ্র্যান্ট অভিভাবকরাই বহিষ্কার হচ্ছেন না। একইসাথে এমন ১৬ লাখ সিটিজেন শিশুর মা-বাবাকে বহিষ্কার করা হয়েছে যারা গ্রীণকার্ডধারী ছিলেন। বিভিন্ন ধরনের অপরাধে দন্ডভোগের পর প্রেসিডেন্ট ক্লিনটনের আমলে পাশ হওয়া আইনের পরিপ্রেক্ষিতে এসব বৈধ ইমিগ্র্যান্টদেরকেও বহিষ্কারের প্রক্রিয়া চলছে জোরেশোরে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ৫ লাখ ৯৫ হাজার অবৈধ ইমিগ্র্যান্টের বিরুদ্ধে ৫/৭ বছর আগে ডিপোর্টেশনের নির্দেশ জারি হয়েছে। এরা হচ্ছে প্রধান টার্গেট। এদের খুঁজতে গিয়ে ঐ ঠিকানায় পাওয়া ইমিগ্র্যান্টদেরকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। স্ট্যাটাসহীনকে পাওয়া মাত্র গ্রেফতার করা হচ্ছে। সে ক্ষেত্রে সিটিজেন শিশুর মা-বাবাকেও রেহাই দেয়া হচ্ছে না। ইতিমধ্যেই বেশ কয়েক ডজন বাংলাদেশীকেও একইভাবে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তাদের শিশু-সন্তানদের অমানবিক পরিস্থিতির কথা মূলধারার মিডিয়াতেও প্রকাশিত হয়েছে।

ব্রঙ্কসের কংগ্রেসম্যান (ডেমক্র্যাট) হোযে সিরেনো উত্থাপিত বিলের কো-স্পন্সর করেছেন কুইন্সের কংগ্রেসম্যান গ্যারী একারম্যান, ব্রুকলীনের কংগ্রেসম্যান এডলফাস টাউন্স এবং ম্যানহাটান-ব্রুকলীন নিয়ে গঠিত নির্বাচনী এলাকার কংগ্রেসম্যান জেরাল্ড নেডলার। এ বিলে ইমিগ্রেশন জজকে বিশেষ ক্ষমতা দেয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে যাতে জন্মগতভাবে কোন আমেরিকান শিশুর মা-বাবাকে বহিস্কারের নির্দেশ প্রদান না করেন। এই বিলের পক্ষে লবিং চালানোর জন্যে সকলের প্রতি আহবান জানানো হয়েছে। বিশেষ করে নির্বাচনী সমাবেশগুলোতে এ বিষয়টি সিনেটর, কংগ্রেসম্যান এবং প্রেসিডেন্ট প্রার্থীর দৃষ্টিতে আনা জরুরী বলে ফ্যামিলিজ ফর ফ্রিডম’র প্রতিষ্ঠাতা বোর্ড মেম্বার আর্তি শাহানী মনে করেন।

অপরদিকে লং আইল্যান্ডের প্রথম হিসপ্যানিক নিউজপেপারের সম্পাদক ও ইমিগ্র্যান্ট দিনমজুরদের স্বার্থ নিয়ে কর্মরত ওমর হেনরিকুয়েজ বলেন, নির্বাচনকে পুঁজি করে ইমিগ্রেশন ইস্যুটি যেভাবে আলোড়িত হওয়া উচিত ছিল তার কিয়দংশ সৃষ্টি করা সম্ভব হয়নি। কেন এমন হচ্ছে? তাহলে শত শত মিলিয়ন ডলার ব্যয় হচ্ছে কোন খাতে? ইমিগ্র্যান্টদের স্বার্থ-অধিকার সংরক্ষণের জন্যেই তো স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলো বিভিন্ন সোর্স থেকে প্রতি বছর বিপুল অংকের অর্থ অনুদান পাচ্ছেন। সে অর্থ কী তাহলে যথাযথভাবে ব্যয় হচ্ছে না? নিউইয়র্ক কম্যুনিটি মিডিয়া এলায়েন্স আয়োজিত কর্মশালায় অতিথি বক্তা হিসেবে ওমর হেনরিকুয়েজ এ অভিযোগ করেন। অভিযোগ প্রসঙ্গে মানবাধিকার সংগঠক, ইমিগ্র্যান্টদের অধিকার নিয়ে তৃণমূল পর্যায়ের নেতা ডঃ পার্থ ব্যানার্জি বার্তা সংস্থা এনাকে বলেন, অভিযোগটি খুবই যৌক্তিক। কেননা ২০০৫ সালের মার্চ থেকে মে পর্যন্ত সারা আমেরিকায় যে ধরনের আন্দোলনের ঢেউ উঠেছিল-এবার কিন্তু তা নেই। অথচ নিবাচনের ময়দানে আরো বেগবান আন্দোলন রচিত হওয়া উচিত ছিল। কেননা ৩৫টি সিনেট এবং সবকটি কংগ্রেসম্যানের আসনে নির্বাচন হচ্ছে। প্রেসিডেন্ট প্রার্থীদের নির্বাচনী সমাবেশেও বিষয়টি তেমন জোরালোভাবে আসেনি এখন পর্যন্ত। তাহলে জাতীয়ভিত্তিক সংগঠনগুলো কী করছে? তারা তো নানা উৎস থেকে প্রতি বছর মিলিয়ন মিলিয়ন ডলারের অনুদান পেয়ে থাকেন। ইমিগ্র্যান্টদের স্বার্থে কাজের অঙ্গিকারেইতো নিয়ে থাকেন সে অনুদান। তাহলে ঐ অর্থ কীভাবে ব্যয় হচ্ছে-এ প্রশ্ন যে কোন নাগরিক উঠাতেই পারেন। ডঃ পার্থ ব্যানার্জি বলেন, বলতে দ্বিধা নেই যে, মাঠ পর্যায়ে তথা তৃণমূল পর্যায়ে কর্মরত স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলো একটি ডলারও পান না অনুদান হিসেবে। অথচ এখন তারাই সক্রিয় রয়েছেন ইমিগ্র্যান্টদের চরম দুর্দিনে। কিন্তু তাদের পক্ষে জাতীয়ভাবে ব্যাপক নাড়া দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। ডঃ পার্থ বলেন, জাতীয় ইমিগ্রেশন ফোরাম বা নিউইয়র্ক ইমিগ্রেশন কোয়ালিশনের মত বড় বড় সংস্থাগুলোর সম্পর্ক রয়েছে ক্যাপিটল হিলে বা হোয়াইট হাউজে। তারা হয়তো ভেতরে ভেতরে কাজ করছেন। কিন্তু সে কাজের কোন প্রতিফলন ঘটছে না ইমিগ্র্যান্ট বিরোধী অভিযানে। প্রতিদিনই নানা স্থান থেকে শত শত ইমিগ্র্যান্টকে গ্রেফতারের তথ্য মিডিয়ায় আসছে। একটা ভয়ংকর পরিস্থিতি বিরাজ করছে কম্যুনিটিতে। সকালে কেউ বাসা থেকে কাজের জন্যে বেরিয়ে গেলে বিকেলে তিনি ফিরবেন বলে কোন গ্যারান্টি দেয়া যাচ্ছে না। এ ধরনের পরিস্থিতি এই সভ্যসমাজে মেনে নেয়া যায় না। জীবিকার জন্যে যারা পরিবারসহ আমেরিকায় রয়েছেন তাদেরকে এমন ভীতিকর পরিস্থিতিতে দিনাতিপাত করতে হবে এটা যেন কেউ স্বপ্নেও ভাবেনি। ডঃ পার্থ বলেন, এখনও সময় রয়েছে ২০০৫ সালের মত জাগরণ সৃষ্টির। প্রেসিডেন্ট প্রার্থীদেরকে একটা ধাক্কা দেয়া দরকার। কেননা বড় দুটি দলের সম্ভাব্য ৩ প্রার্থীই সিনেটর। তারা দলীয় সিনেটরের মাধ্যমে এখনও পারেন হাউজে উত্থাপিত বিলের অনুরূপ একটি বিল সিনেটে উঠিয়ে পাশ করিয়ে নিতে।

ডঃ পার্থ ব্যানার্জি বলেছেন, হাউজে সিটিজেন শিশুদের মা-বাবাকে বহিষ্কার বন্ধের বিল উঠার প্রায় সাড়ে ৩ মাস আগে সিনেট এবং হাউজে ৩টি বিল উত্থাপন করা হয়েছে ইমিগ্রেশনের বিরুদ্ধে। ৬ নভেম্বর হাউজে ইমিগ্র্যান্ট বিরোধী (এইচআর ৪০৮৮) বিলটির নাম হচ্ছে ‘ সেইভ এ্যাক্ট।’ সেইভ হচ্ছে সিকিউরিটি আমেরিকা থ্রো ভেরিফিকেশন এন্ড এনফোর্সমেন্ট’ অর্থাৎ ইমিগ্রেশনের প্রচলিত আইনকে কঠোরতার সাথে প্রয়োগ করতে হবে, কর্মচারি নিয়োগের সময়েই স্ট্যাটাস যাচাই করতে হবে এবং সীমান্ত দিয়ে যাতে কেউই অবৈধভাবে ঢুকতে না পারে সে গ্যারান্টি থাকতে হবে। এজন্যে যত অর্থের প্রয়োজন তা মঞ্জুর করার প্রস্তাব করা হয়েছে এ বিলে। অবিশ্বাস্য হলেও সত্য যে নর্থ ক্যারলিনার ডেমক্র্যাট কংগ্রেসম্যান হিথ শুলার উত্থাপিত এইচআর ৪০৮৮ বিলে ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ৪৮ ডেমক্র্যাট এবং ৯২ রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান কো-স্পন্সর হয়েছেন। বিলটি বিবেচনার জন্যে সন্ত্রাস বিষয়ক সাব কমিটিতে প্রেরণ করা হয়েছে। অপরদিকে সিনেটে ১৫ নভেম্বর একযোগে দুটি বিল উত্থাপন করা হয়েছে হাউজের ৪০৮৮ এর পরিপূরক হিসেবে। এর একটি উত্থাপন করেছেন লুঝিয়ানার রিপাবলিকান সিনেটর ডেভিড ভিটার। এ বিলের নম্বর হচ্ছে এস ২৩৬৬ এবং অপরটি উঠিয়েছেন আরকানসাসের ডেমক্র্যাট সিনেটর মার্ক প্রাইয়োর। এ বিলের নম্বর হচ্ছে এস ২৩৬৮। এ বিলে কো-স্পন্সর রয়েছেন ৬ জন। অপর বিলে কো-স্পন্সরের সংখ্যা মাত্র ২। দুটি বিলই সিনেট কমিটিতে বিবেচনাধীন রয়েছে বলে সর্বশেষ প্রাপ্ত সংবাদে জানা গেছে। অবৈধ ইমিগ্র্যান্টদের বিরুদ্ধেই শুধু নয় বৈধভাবে বসবাসরতরাও রেহাই পাবেন না মামুলি অপরাধে লিপ্ত হলেই। এ ধরনের বিলের বিরুদ্ধেও কাজ করতে হবে ইমিগ্র্যান্টদের অধিকার নিয়ে সত্যিকার অর্থে কিছু করতে চাইলে। ক্যাপিটল হিলে ২০২-২২৫-৩১২১ নম্বরে ফোন করে যে কেউ বলতে পারেন যে, এ ধরনের বিল আমরা চাই না। এটা যেন পাশ করা না হয়। ফোনে কথা বলার সময় নিজের নাম, পরিচয় বা ঠিকানা জানানোর কোন প্রয়োজন নেই। শুধু আপনার মনোভাব প্রকাশ করলেই চলবে। যতবেশী ফোন করা হবে তত মঙ্গল হবে ইমিগ্র্যান্ট বিরোধী বিলকে ফাইলচাপা দিতে। উলে্নখ্য যে, ফোন করার সময় অবশ্যই বিলের নম্বর উলে্নখ করতে হবে।

এদিকে এশিয়ান-আমেরিকান লিগ্যাল ডিফেন্স এন্ড এডুকেশন ফান্ডের নির্বাহী পরিচালক মারগারেট ফাঙ বলেছেন, নির্বাচনের দিন ইমিগ্র্যান্ট ভোটারদেরকে অধিক হারে কেন্দ্রে যেতে হবে। ভোটের মাধ্যমে নিজেদের অবস্থানকে স্পষ্ট করতে পারলে কংগ্রেসম্যান-সিনেটর-প্রেসিডেন্ট অবশ্যই ভোটারকে সম্মান দেবেন। তিনি বলেন, কম্যুনিটিভিত্তিক মিডিয়াগুলোর অপরিসীম ভূমিকা রয়েছে নতুন সিটিজেনদের ভোটার হতে উদ্বুদ্ধ করতে এবং নির্বাচনের দিন কেন্দ্রে যাবার ক্ষেত্রে। একটি ভোটের যে কত মূল্য তা ভোটারকে উপলব্ধি করাতে হবে। সিটিজেন হওয়ার অর্থ শুধু নিকটাত্মীয়কে স্পন্সর করে আমেরিকায় নিয়ে আসা নয়, সিটিজেনদের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব হচ্ছে কম্যুনিটির অধিকার সংরক্ষণে বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করা। এটি করা সম্ভব দলে দলে কেন্দ্রে গিয়ে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেয়ার মাধ্যমে। যে কম্যুনিটি ভোটের ব্যাপারে বেশী ঐক্যবদ্ধ সে কম্যুনিটির প্রতি প্রশাসনের দৃষ্টিভঙ্গি ভিন্ন হতে বাধ্য। তিনি বলেন, আমাদের কম্যুনিটির এখনও অনেকেই জানেন না প্রাইমারী নির্বাচন কী? এর গুরুত্ব কতটুকু? এ ব্যাপারেও কম্যুনিটি মিডিয়াগুলোকে দায়িত্ব নিতে হবে। কম্যুনিটির লোকজন আমেরিকান লাইফ-স্টাইল, নিবাচনী ব্যবস্থা, প্রশাসনিক কাঠামো সম্পর্কে যতবেশী ওয়াকেবহাল হবেন তত লাভ হবে কম্যুনিটির পত্রিকাগুলোরও। প্রশাসনের সাথে সম্পৃক্ততা বৃদ্ধির অর্থ হচ্ছে সুযোগ-সুবিধা অধিক লাভ করা। এভাবে কম্যুনিটি এগিয়ে চলতে পারলে মিডিয়াও পাবে তার সুফল। মারগারেট ফাঙ বলেন, এশিয়ান-আমেরিকানের সংখ্যা কত সে তথ্য কখনোই নিশ্চিতভাবে জানা সম্ভব হয় না। তবে আনুমানিক প্রায় দেড় কোটি। ভোটারের সংখ্যা প্রায় ৭০ লাখ। এরমধ্যে রেজিস্টার্ড ভোটার হচ্ছেন ২৫ লাখের মত। প্রতি বছরই বাড়ছে সে সংখ্যা। তবে কেন্দ্রে উপস্থিতির ব্যাপারে এখনও বিরাট একটি সংখ্যার মধ্যে অবহেলা রয়েছে। এই অবহেলাকে কাটিয়ে উঠতে কম্যুনিটিভিত্তিক মিডিয়ার পাশাপাশি কম্যুনিটির সংগঠনগুলোকেও সক্রিয় হতে হবে।

আর্তি সাহানী বলেছেন, আমি কাজ করছি তাদের জন্যে যাদের বিরুদ্ধে বহিস্কারের নির্দেশ জারি হয়েছে এবং যাদেরকে ডিটেনশন সেন্টারে রাখা হয়েছে বহিস্কারের জন্যে। এটা সবচেয়ে বেশী বিপজ্জনক একটি পর্যায় এবং সেজন্যে আমাকে সাংঘাতিকভাবে সতর্কতা অবলম্বন করতে হয়। কিন্তু ইমিগ্র্যান্টদের অধিকার, মানবাধিকার এবং নাগরিকদের অধিকার নিয়ে যারা কাজ করছেন তারা যদি সংঘবদ্ধ হয়ে আরো জোরে রাজপথকে উত্থপ্ত করতে পারি তাহলেই সম্ভব লাখ লাখ সিটিজেন শিশুর মা-বাবার বহিষ্কারাদেশ রোধ করা। মিস সাহানী বলেন, গত বছরের জুনে কংগ্রেসে যে বিলটি পাশ হতে পারেনি, সেটি হলেও অবৈধ ইমিগ্র্যান্ট বিশেষ করে যাদের বিরুদ্ধে অনেক আগেই ডিপোর্টেশনের নির্দেশ জারি হয়েছে তারা উপকৃত হতে পারতেন না। ঐ রিফর্ম বিলটি ভেস্তে যাবার পরই বুশ প্রশাসন মরিয়া হয়ে উঠেছে ইমিগ্র্যান্ট বিরোধী আইন প্রয়োগে। তিনি বলেন, ১৯৯৪ সালে দৈনিক গড়ে ৫ হাজার অবৈধ ইমিগ্র্যান্ট গ্রেফতারের টার্গেট ছিল। ৬ বছর পর ২০০০ সালে সে টার্গেট বৃদ্ধি পায় দৈনিক গড়ে ২১ হাজার। এবার সে সংখ্যা ৩ গুণ করে দৈনিক গড়ে ৬৫ হাজার অবৈধ ইমিগ্র্যান্টকে গ্রেফতারের টার্গেট নিয়ে সোয়া শ’ টিম মাঠে নেমেছে। তারা প্রতিদিনই বিভিন্ন স্থানে হানা দিচ্ছে এবং ডিপোর্টেশন প্রাপ্তদের গ্রেফতার করে ডিটেনশন সেন্টারে নিচ্ছে। একইসাথে সীমান্তেও প্রহরা বাড়ানো হয়েছে। অবৈধভাবে প্রবেশের সময় যারা ধরা পড়ছেন তাদেরকে সাথে সাথে স্বদেশে পাঠিয়ে দেয়া হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে ইমিগ্রেশন এনফোর্সমেন্ট বিভাগের ফ্লাইট অপারেশন ইউনিটের প্রধান মাইকেল পিট্‌্‌স বলেন, এখন আর আগের দিন নেই যে সীমান্তে বা এয়ারপোর্টে কেউ ধরা পড়লেই রাজনৈতিক আশ্রয় চাইবেন, আর অমনি তাকে ছেড়ে দেয়া হবে। সেটিকে বলা হতো ‘ক্যাচ এন্ড রিলিজ।’ এখন হচ্ছে ‘ক্যাচ এন্ড রিটার্ণ।’ অর্থাৎ যারাই ধরা পড়ছেন তাদেরকেই পাঠিয়ে দেয়া হচ্ছে যত দ্রুত সম্ভব। তিনি বলেন, ডিটেনশন সেন্টারে প্রতিজনের জন্যে দৈনিক গড়ে ব্যয় হয় একশত ডলার করে। সে স্থলে গ্রেফতারকৃতদের যদি সরকারী খরচে নিজ দেশে পাঠিয়ে দেয়া যায় তাহলে খরচ পড়ে গড়ে মাথাপিছু ৬০০ ডলার করে। গত সেপ্টেম্বরে সমাপ্ত ২০০৭ অর্থ বছরে এ খাতে ব্যয় হয়েছে ৯৬ মিলিয়ন ডলার। ১৪১০০ ক্রিমিনালসহ ৭২ হাজার অবৈধ ইমিগ্র্যান্টকে গত বছর সরকারী খরচে স্বদেশে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। চলতি ২০০৮ অর্থ বছরে সে বাজেট বাড়িয়ে ১৩৫ মিলিয়ন করা হয়েছে। উপরোক্ত কর্মকর্তা বলেছেণ, ২০০৬ অর্থ বছরে সরকারী খরচে স্বদেশে পাঠিয়ে দেয়া হয় ৯৬০০ ক্রিমিনালসহ ৫০ হাজার অবৈধ ইমিগ্র্যান্টকে। মাইকেল পিট্‌‌স আরো বলেন, গ্রেফতারের পরই স্বল্পতম সময়ে বহিস্কারের এ পদক্ষেপ মন্ত্রের মত কাজ করছে। প্রতিদিন হাজার হাজার মেক্সিকান স্বেচ্ছায় যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করছে সীমান্ত ফাঁড়ি দিয়ে। তিনি বলেন, সরকারী ফ্লাইটে অবৈধদের পাঠানোর কার্যক্রম চলছে থাইল্যান্ড, ফিলিপাইন, নাইজেরিয়া, কিউবা, কম্বোডিয়ায়। এছাড়া সাউথ আমেরিকায় প্রতিদিনই একাধিক ফ্লাইট যাচ্ছে শতাধিক অবৈধ ইমিগ্র্যান্ট নিয়ে। তিনি বলেন, ক্রিমিনাল-ইমিগ্র্যান্টদের পাঠানো হয় পৃথক ফ্লাইটে। প্রসঙ্গত উলে্নখ্য যে, বর্তমানে আমেরিকায় লক্ষাধিক বাংলাদেশীসহ প্রায় সোয়া কোটি বিদেশী বসবাস করছেন অবৈধভাবে। এদেরকেই টার্গেট করা হয়েছে গ্রেফতারের মাধ্যমে বহিষ্কারের।

নিউইয়র্ক কম্যুনিটি মিডিয়ার কর্মশালাটির মডারেটর ছিলেন এন্থনী আভিঙ্কলা। তাকে সহায়তা করেন কা চ্যান। এ কর্মশালায় বলা হয় যে, সিনেটর জন ম্যাককেইন ইমিগ্র্যান্টদের বন্ধু হিসেবে মনে করা হলেও তার নিজ স্টেট আরিজোনায় এখন পুলিশ অফিসাররা অবৈধ ইমিগ্র্যান্ট গ্রেফতারের অভিযান শুরু করেছে। একইভাবে সিনেটর হিলারী ক্লিনটনও যে ইমিগ্র্যান্টদের সত্যিকারের বন্ধু সেটিও মনে করার কোন কারণ নেই। কেননা নিউইয়র্ক স্টেট গভর্ণর ইলিয়ট স্পীটজার কর্তৃক অবৈধ ইমিগ্র্যান্টদেরকেও ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদানের নির্বাহী আদেশ জারির পর হিলারী দ্ব্যর্থহীন সমর্থন দিয়েছিলেন। কিন্তু পরবর্তিতে ভোটের প্রশ্নে হিলারী সে সমর্থন অব্যাহত রাখেননি। এ ধরনের মনোভাবাপন্ন জনপ্রতিনিধিদের কাছে ইমিগ্রেশনের স্পর্শকাতর বিষয়টি নিয়ে পুরোপুরি নির্ভরশীল হওয়া কোনভাবেই ফলদায়ক নয় বলেও অবিমত পোষণ করা হয়। সাম্প্রতিক সময়ে প্রেসিডেন্ট পদে প্রার্থী বাছাইয়ের প্রাইমারীতেও ডেমক্র্যাট ও রিপাবলিকান উভয় পার্টির প্রার্থীরাই ভোটারের অবস্থানের আলোকে ইমিগ্রেশন ইস্যুতে বক্তব্য রাখছেন। টেক্সাসে সিনেটর হিলারী বলেছেন যে, তিনি প্রেসিডেন্ট হতে পারলে একশ দিনের মধ্যেই অবৈধ ইমিগ্র্যান্টদের ব্যাপারে একটি পদক্ষেপ নেবেন। বরাক ওবামা অবশ্য সুনির্দিষ্ট কোন সময় দেননি। তিনি বলেছেন সীমান্তকে নিরাপদ করার পর ইমিগ্রেশনের জটিল ইস্যুতে মনোনিবেশ করবেন। রিপাবলিকান পার্টির সম্ভাব্য প্রার্থী জন ম্যাককেইনের মুখে ইমিগ্রেশনের ব্যাপারে জোরালো কোন বক্তব্য আসছে না। প্রসঙ্গত উলে্নখ্য যে, প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ইমিগ্রেশনের ইস্যুটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দেখা দেয় সর্বপ্রথম ১৮৪৮ সালে। এর দু’বছর পর ইমিগ্রেশনের ইস্যুটি বর্তমানের মত সকলের মুখে মখে উচ্চারিত হয়। এ ইস্যুকে প্রাধান্য দিয়ে ১৮৫৬ সালের নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট পদে লড়েন মিলার্ড ফিলমোর। তিনি ২২% ভোট পেয়েছিলেন সে নির্বাচনে। সে সময় থেকেই রিপাবলিকান পার্টিতে ইমিগ্রেশন বিরোধী মহলের প্রভাব বেড়েছে। এদিকে গত বছরে ইমিগ্রেশন ইস্যুটি যথন তুঙ্গে উঠেছিল তেমনি সময় অর্থাৎ মে মাসে নিউইয়র্ক টাইমস এবং সিবিএস নিউজ পরিচালিত জরিপে দেখা গেছে যে ৫৭% আমেরিকান ইমিগ্র্যান্টদের ত্যাগের কথাকে অকপটে স্বীকার করেছেন। এর আগে ১৯৮৬ সালে পরিচালিত একই ধরনের জরিপে মাত্র ৩৪% আমেরিকান স্বীকার করেছিলেন ইমিগ্র্যান্টদের ত্যাগ-তিতিক্ষার কথা। গত বছরের জরিপে মাত্র ২৮% ইমিগ্র্যান্টদের ত্যাগের কথা অস্বীকার করেছেন। ১৯৮৬ সালের জরিপে এহেন মনোভাব পোষণকারী আমেরিকানের সংখ্যা ছিল ৪৪%। সে জরিপ চালিয়েছিল গ্যালোপ পোল।

সূত্রঃ এনা, নিউইয়র্ক।

Bangla Community News Tags:

Related Bangla Community News:

Post Your Comments

All comments are subject to editorial review and decision.

*
To prove you're a person (not a spam script), type the security text shown in the picture. Click here to regenerate some new text.
Click to hear an audio file of the anti-spam word

Free Membership. Join Now!

সাম্প্রতিক খবর

Bangla Blog