যুক্তরাজ্যে ১লাখ বাংলাদেশী অবৈধ অর্ধেকেরও বেশী বৃহত্তর সিলেটের
সারা যুক্তরাজ্যে বসবাসরত ৫ লাখ বাংলাদেশীদের মধ্যে ১ লাখ এর বেশিই অবৈধভাবে বসবাস করছেন। ক্রয়োডন হোম অফিস সূত্র এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। এসব অবৈধ অভিবাসীদের দুই-তৃতীয়াংশই বৃহত্তর সিলেট বিভাগের বাসিন্দা। ওয়ার্কিং হলিডে, ওয়ার্ক পারমিট, ভিজিট ও স্টুডেন্ট ভিসায় হাজার হাজার পাউন্ড রোজগারের আশায় যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমানো এসব বাংলাদেশী অবৈধ অভিবাসীদের ভিসার মেয়াদ পার হয়ে যাওয়ায় তারা এখন দিন কাটাচ্ছেন চরম উদ্বেগ আর উৎকন্ঠায়। যুক্তরাজ্যের এসব অবৈধভাবে বসবাসরত বাংলাদেশীদের অনেকেই কাজ পাচ্ছে না, অনেকেই কাজ করলেও পাচ্ছে না প্রাপ্য মজুরী। যুক্তরাজ্য পুলিশের হাতে ধরা পড়ার ভয়ে তারা সেখানে বাইরে বের হতে পারছেন না। যুক্তরাজ্যের ক্যামডেন, ব্রিকলেন, বার্মিংহাম, পোর্টস্মাউথ, চিচেস্টার, সাউখামটন, লন্ডনসিটি, ইন্সলিংন্টন, ওয়েলস, কার্ডিফ, কেন্ট, হেমারস্মিথ, ক্যানজিষ্টনে অবৈধভাবে বসবাসরত বাংলাদেশীরা না পারছেন যুক্তরাজ্যে থাকতে না পারছেন দেশের ফিরতে। জমিজমা বিক্রি করে ১০/১৫ লক্ষ টাকা খরচ করে যুক্তরাজ্যে গিয়ে এখন প্রতি মুহূর্তে অভিবাসন আইনে যুক্তরাজ্য পুলিশের হাতে আটক হওয়ার আতংকে দিন কাটাচ্ছেন। তাদের মধ্যে ইতিমধ্যেই প্রায় ১’শ জন অবৈধ বাংলাদেশী যুক্তরাজ্য পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়ে জেল খেটে দেশে ফিরছেন। গত ১ সপ্তাহ ধরে যুক্তরাজ্যে বসবাসরত অবৈধ অভিবাসীদের গ্রেফতারে যুক্তরাজ্য পুলিশ কঠোর অভিযান চালাচ্ছে। যুক্তরাজ্যে ওয়ার্কিং হলিডে ভিাসায় গিয়ে ভিসার মেয়াদউত্তীর্ণ হয়ে জেল খেটে দেশে ফেরা মৌলভীবাজারের সৈয়দ তানভীর আহমেদ এ প্রতিবেদকদ্বয়কে জানান, যুক্তরাজ্যে বৃহত্তর সিলেটের তরুণরা যেতে চায় কারি কারি পাউন্ড রোজগারের আশায় স্বপ্ন গড়তে। কিন্তু সেখানকার বাস্তবতা আর অবৈধ অভিবাসীদের যন্ত্রণা বুঝতে পারলে আমাদের দেশের তরুণরা ঝাঁকে ঝাঁকে যেতে চাইতো না। যুক্তরাজ্যে যেতে হলে স্তিল্ড (দক্ষ) হতে হবে। সেখানে দক্ষ প্রশিক্ষিত শ্রমিক ছাড়া অদক্ষ শ্রমিকের কোন মূল্যায়ন নেই। বাংলাদেশী শ্রমিকদের কাগজপত্র অবৈধ হওয়ার কারণে অনেক ক্ষেত্রে তারা ন্যায্য মজুরী থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। জীবন কাটাচ্ছেন দুর্বিসহ দুঃসহ যন্ত্রণায়।
সূত্রঃ এনা, নিউইয়র্ক।
Evergreen Bangla Community


Post Your Comments