ক্যানেটিকাটের ম্যানচেস্টারে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদ্যাপিত
ক্যানেটিকাট তথা নিউ ইংল্যান্ডের ইতিহাসে এই প্রথম ম্যানচেস্টার ওয়াডেল এলেমেন্টারি স্কুলের ছাত্র-ছাত্রী ও শিক্ষকবৃন্দ অত্যন্ত ভাবগম্ভীর পরিবেশে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদ্যাপন করে।
অনুষ্ঠানের শুরুতে ভাষা শহীদদের স্মরণে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়। ওয়াডেল এলেমেন্টারি স্কুলের প্রিন্সিপাল রোলেন্ড জি. এক্সেলসন “International Mother Language Day February 21, 2008” শিরোনামে নিজের লেখা একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সম্বলিত প্রবন্ধ পাঠ করেন। প্রবন্ধে তিনি উলেখ করেন, ভাষা এবং সংস্কৃতি অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। ভাষা হল সংস্কৃতির প্রাণকেন্দ্র আবার সংস্কৃতিও ভাষার প্রাণকেন্দ্র। ভাষা হল সংস্কৃতির প্রধান বাহন। তিনি আমেরিকার ইতিহাস উল্লেখ করে বলেন ১৮৯৮ সালের স্প্যানিস-আমেরিকান যুদ্ধের পর ১৯১৭ সালে আমেরিকা Puerto Rico-র উপর স্প্যানিস ভাষার পরিবর্তে ইংরেজি ভাষা জোর করে চাপিয়ে দেয় কিন্তু Puerto Rico দের প্রতিবাদের মুখে আমেরিকানদের সে চেষ্টা ব্যর্থ হয়। ঠিক একই রকম ঘটনা বাংলাদেশের ব্যাপারেও। পাকিস্তান সরকার ১৯৪৮সালে বাঙালিদের মুখের ভাষা বাংলাভাষা তথা মাতৃভাষা কেড়ে নিয়ে উর্দু ভাষা চাপিয়ে দেয়। কিন্তু বাঙালি ছাত্র-জনতা প্রতিবাদ মুখর হয়ে উঠে। ১৯৫২ সালে ২১ ফের্রুয়ারি মাতৃভাষা বাংলাভাষার জন্য পাকিস্তানি ম্যালেটারির গুলিতে ঢাকায় অনেক ছাত্রকে প্রাণ বিসর্জন দিতে হয় এবং অনেকে আহত হয় এবং পাকিস্তনিদের সে চেষ্টাও ব্যর্থ করে বাঙালিদের প্রাণের ভাষা মাতৃভাষাকে প্রতিষ্ঠা করে। মি. এক্সেলসন একুশে ফের্রুয়ারিকে আমেরিকান ইতিহাসের
১৭৭৫ সালের বস্টন ম্যাসাকারের তুলনা করেন। তিনি বলেন ১৯৭১ সালে পাকিস্তানিদের বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধ করে বাঙালিরা তাঁদের নিজস্ব রাষ্ট্র প্রতিষ্টা করে যার নাম এখন বাংলাদেশ।
তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশের জনগণ তাদের নিজস্ব মাতৃভাষা রক্ষার জন্য প্রাণ বিসর্জন দিয়ে যে বীরত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে সেটাকে স্মরণ করে সম্মান দেখিয়ে ইউনেস্কোর ৩০তম অধিবেশনে ২১ ফেব্রয়ারিকে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ হিসাবে ঘোষণা করে যা বাংলাদেশের জন্য এক বিরাট অর্জন। প্রবন্ধ পড়া শেষে বাংলা বর্ণাক্ষর ও Mother Language Songs ছাপাঙ্কিত টিসাটর্ পরিহিত প্রিন্সিপাল রোলেন্ড জি. এক্সেলসন-কে বাঙালি শিক্ষার্থীদের সাথে সাথে অন্যান্য ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষকবৃন্দ করতালি ও বিভিন্ন ভাষার বর্ণাক্ষর ও শহীদমিনার প্রদর্শন করে অভিনন্দন জানায়।
বিশিষ্ট শিল্পি কৌশলী ইমা ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি আমি কি ভুলিতে পারি?’ একুশের গানটি গাওয়ার পর যখন ইংরেজি ভাষায়
“Can I forget the twenty-first February incarnadined by the blood of my brother?
Twenty-first February, built by the tears of a hundred mothers robbed of their sons,
can I ever forget it?
Can I forget the twenty-first February incarnadined by the blood of my country?”
গানটি গান তখন অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন এবং প্রিন্সিপাল রোলেন্ড জি. এক্সেলসনের চোখ অশ্রুসিক্ত হয়ে উঠে এবং কৌশলী ইমাকে অশ্রুসিক্ত নয়নে আন্তরিক অভিনন্দন জানান।
অনুষ্ঠান শেষে মি. এক্সেলসন বলেন, মাতৃভাষার জন্য বাংলাদেশের জনগণের প্রাণ বিসর্জনের বিনিময়ে আমরা ২১ ফেব্রুয়ারি ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ হিসাবে যে ঐতিহাসিক দিনটি পেলাম এর জন্য বাংলাদেশিদের সাথে আমরা আমেরিকানরাও গর্বিত।
সবশেষে তিনি অনুষ্ঠানের নেপথ্যে যারা ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা ফারুক ওয়াহিদ, সাবেত সাথী, আসিফ ইকবাল, কৌশলী ইমা এবং নাসিমুল করিম বাবুর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে অভিনন্দন জানান।
সূত্রঃ এনওয়াই বাংলা, নিউইয়র্ক।
Evergreen Bangla Community


Post Your Comments