মিশিগানে এক বাঙালির অসম সাহসিকতার প্রশংসা মার্কিন মুল্লুকে
পেটে গুলিবিদ্ধ হওয়ার পরও জাপটে ধরেছিলেন বন্দুকধারী কৃষ্ণাঙ্গ দুর্বত্তকে
পেটের ভেতর দিয়ে প্রবেশ করে বন্দুকের গুলি পীঠ দিয়ে বেড় হয়ে যাবার পরও অসমসাহসী বাঙালি মোহাম্মদ নাসের (৪৩) কৃষ্ণাঙ্গ দুবৃত্তকে ছেড়ে দেননি। রক্তাক্ত নাসেরের চিৎকারে বাসার উপর তলা থেকে ছুটে আসেন তার ১৬ বছর বয়েসী পুত্র এবং শ্যালক। ওরা দু’জনেও জাপটে ধরেন দুর্বৃত্তকে। বন্দুকসহ দুর্বৃত্তটি অনেকক্ষণ ধ্বস্তাধ্বস্তি করে নিজেকে ছাড়িয়ে নেয়ার জন্যে। কিন্তু এরই মধ্যে নাসেরের পুত্র ফোন করে পুলিশকে। পুলিশ অকুস্থলে পৌঁছার আগ পর্যন্ত দুর্বৃত্তকে ধরে রাখতে সক্ষম হন ওরা ৩ বাঙালি। পুলিশ ঘরে প্রবেশের পরই নিথর হয়ে পড়ে যান ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ নাসের। দ্রুত তাঁকে নিকটস্থ রিসিভিং হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানকার চিকিৎসকরা তাঁকে বাঁচানোর সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছেন বলে ৪৮ ঘন্টা পর (বাংলাদেশ সময় সোমবার সকাল ৯টা) প্রাপ্ত সর্বশেষ সংবাদে জানা গেছে। উলে্নখ্য যে, ধ্বস্তাধ্বস্তিতে দুর্বৃত্তটিও আহত হয়েছে। তাকেও ভর্তি করা হয়েছে একই হাসপাতালে। উভয়েই অজ্ঞান হয়ে থাকায় বিস্তারিত কোন তথ্য উদঘাটন করতে সক্ষম হয়নি মিশিগানের পুলিশ। তবে পুলিশ জানিয়েছে যে, দুবৃত্তটি চিহ্নিত ছিনতাইকারী। এর আগেও কয়েকবার জেল খেটেছে।
১৮ জানুয়ারি সন্ধ্যা সাড়ে ৯টার সময় ঘটেছে উপরোক্ত চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি। ঘটনার বিবরণে প্রকাশ, বাংলাদেশী অধ্যুষিত ডেট্রয়েট সিটির পূর্বাঞ্চলে অলিভার স্ট্রীট এলাকায় নিজের বাসায় এসেছিলেন ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ নাসের। মাস তিনেক আগে তিনি সপরিবারে এ বাসা খালি করে পার্শ্ববর্তি ট্রয় সিটিতে নতুন ক্রয়কৃত বাড়িতে চলে গেছেন। খালি বাসাটি দেখতে এসেছিলেন পুত্র এবং শ্যালকসহ। দু’পরিবার থাকার উপযোগী বাসাটি ভাড়া দেয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন তিনি। এরপর ফিরে যাবেন নতুন বাসায় এবং সেজন্যে ছেলে ও শ্যালক উপরের তলায় অবস্থানকালে মোহাম্মদ নাসের বাসার সামনে পার্ক করা গাড়ি স্টার্ট দিতে যান। কেননা তখন চলছিল প্রচন্ড শৈত প্রবাহ। ইঞ্জিন গরম হতে একটু সময় লাগবে বিধায় তিনি স্টার্ট দিয়ে ফিরছিলেন ঘরে। বারান্দায় উঠার সময় দেখতে পান যে তাকে অনুসরণ করছে বন্দুকধারী এক কৃষ্ণাঙ্গ দুর্বৃত্ত। এক পর্যায়ে দুর্বৃত্তটি তাকে পেছন থেকে ধাক্কা দিয়ে বাসার ভেতরে ঢুকিয়ে দেয় এবং তার কাছ থেকে নগদ যা আছে তা ছিনিয়ে নিতে চায়। দুর্বৃত্তটি ভেবেছিল যে মোহাম্মদ নাসের হয়তো একা। মোহাম্মদ নাসের কিছুতেই হার মানতে চাননি। তিনি আপত্তি করেন এবং দুর্বৃত্তকে ধমক দেন বাসা থেকে চলে যাবার জন্যে। ততক্ষণে ২৫ বছর বয়েসী দুর্বৃত্তটির বন্দুক থেকে কয়েক রাউন্ড গুলি বের হয়। একটি বিদ্ধ হয় মোহাম্মদ নাসেরর তলপেটে এবং তা বেড়িয়ে যায় পীঠ দিয়ে। হতভম্ব হলেও ভেঙ্গে পড়েননি মোহাম্মদ নাসের। তিনি আচমকা জাপটে ধরেন দুর্বৃত্তকে এবং চিৎকার দেন। উপর তলা থেকে দ্রুত নীচে এসে তার পুত্র ও শ্যালক দুর্বৃত্তকে আরো ভালো করে ঝাপটে ধরে ও উত্তম মধ্যম দিতে থাকে। কিন্তু কোনভাবেই দুর্বৃত্তের হাত থেকে বন্দুকটি নিতে পারছিল না। এজন্যে অনেকক্ষণ ধ্বস্তাধ্বস্তি হয় বলে মোহাম্মদ নাসেরের ভাই সাংবাদিকদের জানিয়েছেন। এক পর্যায়ে মোহাম্মদ নাসেরের পুত্র ফোন করে পুলিশকে। বন্দুকসহ আহত অবস্থায় দুর্বৃত্তটিকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। উল্লেখ্য যে, মারাত্মকভাবে আহত হওয়া সত্বেও মোহাম্মদ নাসের কর্তৃক বন্দুকধারী দুর্বৃত্তকে শেষ পর্যন্ত জাপটে ধরে রাখার ঘটনাটি মার্কিন মিডিয়ায় ফলাও করে প্রচারিত হচ্ছে। আরো উল্লেখ্য যে, যে এলাকায় এ ঘটনাটি ঘটেছে সেটির আশপাশে বাঙালিদের সাথে মধ্যপ্রাচ্যের লোকজনও বাস করেন। অনেক বছর আগেই সেখান থেকে কৃষ্ণাঙ্গদের উচ্ছেদ ঘটেছে। জানা গেছে, মৌলভীবাজারের সন্তান ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ নাসের ২০/২১ বছর যাবত মিশিগানে বসবাস করছেন। তিনি ইসলামিক সেন্টার অব নর্থ ডেট্রয়েটের সেক্রেটারী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। কম্যুনিটি সার্ভিসের পাশাপাশি তার পেশাগত সুনামও রয়েছে মিশিগানে। তার আশু আরোগ্যে সকলের দোয়া প্রার্থনা করা হয়েছে।
খবরঃ মিশিগান থেকে এনা।
Evergreen Bangla Community


Post Your Comments