এনআরবি সম্মেলন নিয়ে রাষ্ট্রদূতের নতুন ব্যাখ্যা: রাষ্ট্রদূত হুমায়ুন কবীর কি কুম্ভকর্ণ ঘুমে অবচেতন ছিলেন?

ওয়াশিংটনস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের রাষ্ট্রদূত হুমায়ুন কবীর সম্প্রতি ঢাকায় সমাপ্ত এনআরবি সম্মেলন নিয়ে নতুন করে একটি পত্র পাঠিয়েছেন বিভিন্ন পত্রিকার অফিসে। এই পত্রে তিনি জানিয়েছেন, এনআরবি সম্মেলনের আয়োজক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তার কোন সম্পৃক্ততা ছিল না। তিনি বা দূতাবাস এই সম্মেলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। বিবৃতিতে তিনি জানান, ইতিমধ্যে বিভিন্ন পত্র-পত্রিকার রিপোর্ট থেকে তিনি জানতে পেরেছেন যে, এনআরবি সম্মেলনের তার সমর্থন এবং সম্পৃক্ততা রয়েছে। এ খবর সত্যি নয় বলে তিনি পত্রে দাবি করেছেন। রাষ্ট্রদূতের এই পত্র কৌতুহল সৃষ্টি করেছে মিডিয়াতে। রাষ্ট্রদূত এতোদিন পর কেন এই পত্র পাঠালেন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠাই স্বাভাবিক। তিনি কথিত এনআরবি সম্মেলন অনুষ্ঠানের কয়েকদিন আগে এক পত্র দিয়ে সম্মেলনে অংশ নিতে আহবান জানিয়েছিলেন। প্রবাসের প্রায় সকল পত্র-পত্রিকা এবং সংগঠনের নেতৃবৃন্দের কাছে এই পত্র পাঠানো হয়েছিল। এই পত্রে তিনি সম্মেলনের উদ্দেশ্য উলে্নখ করে ইতিবাচক কথা লিখেছিলেন। সম্মেলন সমাপ্ত হবার পর রাষ্ট্রদূত হঠাৎ করে নতুন করে এই পত্র কেন পাঠালেন-তা নিয়ে বাংলাদেশী কমিউনিটিতে গুঞ্জণ উঠেছে। এনআরবি সম্মেলন সমাপ্ত হয়ে গেছে। এরপর রাষ্ট্রদূতের যেন টনক নড়েছে। কমপক্ষে এক মাস যাবত প্রবাসের বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় এবং দেশের কয়েকটি জাতীয় দৈনিকে এই সম্মেলনের আয়োজকদের গ্রহণযোগ্যতা, উদ্দেশ্য ও প্রবাসের প্রতিনিধিত্বশীল ব্যক্তি বা সংগঠনের সম্পৃক্ততা না থাকার কথা উল্লেখ করে বেশ কয়েকটি রিপোর্ট প্রকাতি হয়েছিল। ঐ রিপোর্টগুলো মাসাধিকাল পর রাষ্ট্রদূত হুমায়ুন কবীরের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। তাহলে তিনি কি এতোদিন কর্ণকুম্ভের ঘুমে অবচেতন ছিলেন?

বলা বাহুল্য, এনআরবি সম্মেলন নিয়ে নিউইয়র্কসহ বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে প্রতিবাদ হয়েছে। নিউইয়র্কে প্রতিবাদের ঝড় ছিল তীব্র। প্রতিবাদকারীরা এই কথিত সম্মেলনকে সমর্থন ও সহযোগিতা করার কারণে দূতাবাস ও কনসূলেটের কর্মকর্তাদের বয়কট এবং সামাজিক সম্পর্ক ছিন্ন করার আহবান জানিয়েছিলেন। কানাডা ও ইউকেসহ বিভিন্ন দেশেও কথিত অনাবাসি সম্মেলন নিয়ে প্রতিবাদ হয়েছে। ধরে নিচ্ছি, রাষ্ট্রদূত হুমায়ুন কবীর প্রবাসী বাংলাদেশীদের প্রতিবাদের কারণ অনুধাবন করতে পেরেছেন। দেরীতে হলেও তিনি নিজের অবস্থান নির্ণয় করতে একটি পত্র দিয়েছেন। তবে তিনি যদি এনআরবি সম্মেলনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসীরা কতটা এবং কেমনভাবে জড়িত কিংবা আদৌ জড়িত কিনা-এ বিষয়টির খোঁজ নিতেন, তাহলে তার সঙ্গে বাংলাদেশী কমিউনিটির দূরত্ব তৈরি হতো না। সম্মেলনের আগে সরকারকে সঠিক তথ্য প্রদান করলে একটি দম্পত্তি নির্ভর কথিত প্রবাসী সম্মেলনের গ্লানিও সরকারকে বহন করতে হতো না। প্রবাসে হ্রাস হতো না সরকারের জনপ্রিয়তা।

সূত্রঃ এনওয়াই নিউজ, নিউইয়র্ক।

Post Your Comments

All comments are subject to editorial review and decision.

*
To prove you're a person (not a spam script), type the security text shown in the picture. Click here to regenerate some new text.
Click to hear an audio file of the anti-spam word

Free Membership. Join Now!