নিউইয়র্কের ঈগল থিয়েটারে ‘অযান্ত্রিক’ প্রদর্শিত
ষাট, সত্তর এমনকি আশি দশকের প্রথম দিকেও চলচ্চিত্র ছিল শিক্ষিত উন্নত মননশীল বাঙালির একটি অন্যতম বিনোদনের অংশ। সপ্তাহের ছুটির দিনে, ঈদে-পুজায়, বড় দিনে বউ-স্বামী-বাচ্চা, বৃদ্ধ মা-বাবা, বন্ধু-বান্ধব, আত্বিয় স্বজন সবাইকে নিয়ে শহরের রং-চং মাখা, চোখ ধাঁধানো পোষ্টার আটা পেক্ষাগৃহকে কেন্দ্র করে এই উন্নত রুচিবোধের বাঙালিরা এক অনন্য আড্ডায় মেতে উঠতেন। এখন দৃশ্যপটের পরিবর্তন হয়েছে। এক ধরনের অসুস্থ্য বিনোদনকে উপজিবী করে কিছু ব্যাবসায়ীরা ছবি বানানোর ফলেই পেক্ষাগৃহগুলোর চারপাশে দেখা যাচ্ছে শুধুমাত্র অসুস্থ্য আর রুগ্নতার করুন চিত্র। এদিকে রুচিবান বাঙালিরাও যেন বাংলা চলচ্চিত্র এবং এর পেক্ষাগৃহ থেকে তাদের বিনোদনের দৃষ্টিটিও ধীরে ধীরে তুলে নিলেন। শুরু হল আমাদের চলচ্চিত্র মাধ্যমের এক করুন বেদনাময় অধ্যায়।
গত ৬ জানুয়ারি নিউইয়র্কের ঈগল থিয়েটারে এনওয়াইএফসি (নিউইয়র্ক ফিল্ম সেন্টার) এর উদ্যেগে প্রদর্শিত হল ঋত্বিক ঘটকের ‘অযান্ত্রিক’। একদিকে এনওয়াইএফসি সংগঠনটির নতুন আত্বপ্রকাশ অন্যদিকে ঘটকের ‘অযান্ত্রিক’ এর মত সেই ৫৮ সালে নির্মিত সাদা-কালো একটি ধ্রম্নপদি চলচ্চিত্র প্রদর্শনির আয়োজন- সব মিলিয়ে উদ্যোক্তাগণ কেউই যে খুব একটা সহজ নিঃশ্বাস নিতে পারছিলেন, তা বলা যায় না। কিন্তু কি আশ্চর্য! এক জন দুজন করে, যুগোল বন্দি হয়ে, সেজে-গুঁজে, নিউইয়র্কের বাঙালিরা সেদিন যেন ঈগল থিয়েটারে উপচে পড়লেন! ঈগল থিয়েটারের আশে-পাশে শুধু শুনি বাঙালির ফিস-ফাস, ঝলসে উঠতে দেখি সেই হারিয়ে যাওয়া বাঙালির প্রাণের থিয়েটার কেন্দ্রিক জম্পেস আড্ডার এক অনন্য স্রতধারা! ধীরে ধীরে পাঁচশো আসনের পেক্ষাগৃহটির প্রায় অর্ধেক আশন যখন দর্শকে ভরে গেল তখন উদ্যক্তদের কপালের ভাঁজ যেন মিলিয়ে যেতে শুরু করল। নিউইয়র্কের বাংলা শিল্প-সংস্কৃতির পাড়ায় সেদিন যোগ হল এনওয়াইএফসি নামের আরেক নতুন অধ্যায়ের। জয় হল সুস্থ্য চলচ্চিত্রের, প্রমানিত হল উন্নত মনন আর রুচিবোধের।
এনওয়াইএফসি আপাতত প্রতি দুমাস অন্তর এ ধরনের চলচ্চিত্র প্রদর্শনির আয়োজন করবে বলে ঘোষনা দিয়েছে। একটা উন্নত মানের ফিল্ম- আর্কাইভ তৈরী করাও এই সংগঠনটির অন্যতম উদ্দেশ্য। এই লক্ষ পুরণে সংগঠনটির একটি উন্নত রুচিশিল সদস্য সমাজ গড়ে তুলতেও বদ্ধপরিকর। যারা এনওয়াইএফসির সদস্য হিশেবে জড়িত হতে চান তাঁরা যোগাযোগ করতে পারেন। শুধু বাংলা চলচ্চিত্র নয়, দেশি-বিদেশী যে কোন ভালো ছবি এনওয়াইএফসির হাত দিয়ে নিউইয়র্কের বাঙালিদের পাতে পরিবেশন করার কথা জানালেন সংগঠনটির আহ্বায়ক বিশিষ্ঠ চলচ্চিত্রকার এনায়েত করিম বাবুল। শুধুমাত্র ছবি প্রদর্শনিতেই এনওয়াইএফসির কার্যক্রম থেমে থাকবে না। নতুন যারা চলচ্চিত্র তৈরী করতে চান তাদের প্রতি সবরকম সহযোগীতার হাত বাড়িয়ে দিবে এই সংগঠনটি। মোট কথা সুস্থ্য চলচ্চিত্রের মাধ্যমে নিউইয়র্ক এই বাঙালি কমিউটিতে একটা সুস্থ্য শিল্প-সংস্কৃতির চর্চার ক্ষেত্র নির্মাণে এই সংগঠনটি প্রতিশ্র্নতিবদ্ধ। নিউইয়র্ক ফিল্ম সেন্টারের যাত্রা শুভ হোক এবং যে প্রত্যয় আর স্বপ্ন নিয়ে এই সংগঠনটি এক ঝাক তরুনের প্রতিশ্রুতিশীল তারুন্যের উত্তাপে যাত্রা শুরু হল তা অব্যাহত থাকুক এটাই আমাদের একমাত্র প্রার্থনা।
খবরঃ এনওয়াই বাংলা।
Evergreen Bangla Community


Post Your Comments