লাইবেরিয়ায় সমুদ্রে সাঁতার কাঁটতে গিয়ে শান্তিরক্ষা মিশনের বাংলাদেশী ক্যাপ্টেন রাজিব নিখোঁজ
৯৬ ঘন্টা পরও সন্ধান পাওয়া যায়নি ক্যাপ্টেন রাজিবুল কবিরের। লাইবেরিয়ায় জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে কর্মরত বাংলাদেশে সেনাবাহিনীর আরো দুজন ক্যাপ্টেনের সাথে ৩০ ডিসেম্বর বিকেলে পার্শ্ববর্তি সমুদ্র সৈকতে গিয়েছিলেন সাঁতার কাটতে। সমুদ্র তখন উত্তাল ছিল। ঢেউ খেলা করছিল অনেক উপরে উঠে। এরই মাঝে তারা ৩ বন্ধু ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন। আর এটাই হয়েছে কাল ক্যাপ্টেন রাজিবের জন্যে। ঢেউয়ের সাথে তাল মিলিয়ে কিনারে থাকতে পারেননি ক্যাপ্টেন রাজিব। বন্ধু দু’জন তীরে উঠলেও ক্যাপ্টেন রাজিব হারিয়ে যান। অনেকক্ষণ অপেক্ষা করেও তার কোন হদিস না পেয়ে মিশনের রেডিওতে প্রচার করা হয় বিষয়টি। সাথে সাথে হ্যালিকপ্টারে তল্নাশী শুরু হয় আটলান্টিকের পশ্চিম উপকূলীয় এ সমুদ্রে। সন্ধ্যা ঘনিয়ে রাতের গভীরতা গ্রাস করে নৌ-সেনারাও খুঁজতে থাকেন ক্যাপ্টেন রাজিবকে। এভাবে টানা ৯৬ ঘন্টা পর্যন্তও (বাংলাদেশ সময় শুক্রবার সকাল) ক্যাপ্টেন রাজিবের কোন হদিস পাওয়া যায়নি। জাতিসংঘে বাংলাদেশ মিশনে সামরিক এটাচে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইলিয়াস রাসুল ৩ জানুয়ারী রাতে (বাংলাদেশ সময় শুক্রবার সকাল) বার্তা সংস্থা এনাকে এ তথ্য জানিয়ে বলেন, লাইবেরিয়া মিশনের সদর দফতরের সন্নিকটেই অবস্থিত থিঙ্কার্স ভিলেজ বীচ। সেখানেই গিয়েছিলেন খুলনার অধিবাসী ক্যাপ্টেন মোঃ রাজিবুল কবিরসহ ৩ জন। সে সময় আবহাওয়া ভালো ছিল না সমুদ্রে বড় বড় ঢেউ আছড়ে পড়ছিল। সেই ঢেউই ভাসিয়ে নিয়ে গেছে ক্যাপ্টেন রাজিবকে। তিনি বলেন, এর আগেই ঐ মিশনের একজন অফিসার সমুদ্রে হারিয়ে গিয়েছিলেন। ৪৮ ঘন্টা পর তাকে উদ্ধার করা হয়েছে। কিন্তু ক্যাপ্টেন রাজিব হারিয়ে যাবার পর ৯৬ ঘন্টা অতিবাহিত হলো, এখনও কোন হদিস পাওয়া যায়নি। তিনি বলেন, আমরা কেউই আশা ছাড়িনি। সর্বাত্মক চেষ্টা চলছে তাঁকে খুঁজে বের করার জন্য। উদ্ধারকারী দলের পক্ষ থেকে আশপাশের সকল স্থানে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইলিয়াস রাসুল সকলের দোয়া চেয়েছেন যাতে ক্যাপ্টেন রাজিবকে দ্রুত উদ্ধার করা সম্ভব হয়।
২০০৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে প্রতিষ্ঠিত লাইবেরিয়া শান্তিরক্ষা মিশনে বর্তমানে বাংলাদেশের ৩২৪৬ জন সৈন্য অত্যন্ত সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করছেন।
খবরঃ জাতিসংঘ থেকে এনা।
Bangla Community News Tags: United Nation
Evergreen Bangla Community


Post Your Comments