ঢাকায় অনাবাসী সম্মেলন - শামীম-রূপা দম্পতির রমরমা বাণিজ্য
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত হাজার হাজার বাঙ্গালীদের আপত্তি উপেক্ষা করে ঢাকায় শেষ হলো তিনদিনব্যাপী অনাবাসী সম্মেলন। এই সম্মেলনে প্রধান উপদেষ্টাকে যোগদানে বিরত রাখতে নিউইয়র্ক প্রবাসীরা স্মারকলিপি দিলেও প্রবাসীদের বিরোধীতা উপেক্ষা করে সম্মেলনে যোগ দেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ডঃ ফখরুদ্দীন আহমদ। এদিকে অনাবাসী সম্মেলনের নামে ‘স্কলারস বাংলাদেশ’ নামে অখ্যাত এই দেশিয় প্রতিষ্ঠান প্রবাসীদের কাছ থেকে সম্মেলনে যোগদানের রেজিষ্ট্রেশন ফি বাবদ তিন হাজার টাকা এবং বিভিন্ন ব্যাংক ও হাউজিং কোম্পানীর কাছ থেকে স্পন্সর ফি বাবদ কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। অপর দিকে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত প্রায় ৮০ লাখ প্রবাসীকে অন্ধকারে রেখে ঢাকাবাসী শামীম-রূপা দম্পতির এই কনফারেন্সের আয়োজন নিয়ে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। আলোচিত ওই ‘মিয়া-বিবি’ ঢাকা শেরাটনে তিনদিনের এই ব্যয়বহুল সম্মেলনের মাধ্যমে কাড়ি কাড়ি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন সম্মেলনে আগত প্রবাসীরা। অন্যদিকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা প্রবাসীদের বিরোধীতার খবর প্রবাসের পত্রিকাগুলোতে প্রকাশ করায় প্রবাসের কোনো কাগজের রিপোর্টারকে এই সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। পেশাগত প্রয়োজনে যারা স্বেচ্ছাপ্রণোদিত হয়ে এসেছিলেন ওই সম্মেলনের মিডিয়া কভার করতে তাদেরও অনুষ্ঠানস্থলে ঢুকতে দেয়া হয়নি। আমন্ত্রণ পাননি কূটনৈতিক রিপোর্টারদের সংগঠন ডিক্যাব, ওভারসীজ রিপোর্ঠারদের সংগঠন ‘ওকাব’ এমনকি জাতীয় প্রেস ক্লাবকেও আমন্ত্রণ জানায়নি নাম সর্বস্ব এই হায় হায় কোম্পানী। এদিকে স্কলারস বাংলাদেশ নামের তথাকথিত এই সংগঠনটি কোনো ধরনের সরকারি রেজিষ্ট্রেশন না থাকলেও সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা কি করে পেলো তা নিয়ে জন্ম দিয়েছে হাজারো প্রশ্ন।
এতো সব প্রশ্নের পরও অবশেষে সম্পন্ন হলো কোটি কোটি টাকার ‘রাজকীয়’ এই অনাবাসী সম্মেলন। ২৭ ডিসেম্বর ছিল উদ্ভোধনী অনুষ্ঠান। এদিন স্পেন প্রবাসী চিত্রশিল্পী মনিরুল ইসলামের শিল্পকর্মের প্রদর্শনী এবং যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী আলোকচিত্র শিল্পী ওবায়েদুল্লাহ মামুনের ক্যামেরায় ধারণ করা আমেরিকার জাতিসত্তা প্রদর্শন করা হয়। তারপর দু’দিন চলে বিভিন্ন বিষয়ে ১৮টি সেমিনার। শেষ দিন ছিল চারটি সেমিনার এবং নিউইয়র্ক প্রবাসী ডঃ নূরুন নবী রচিত ‘বর্ন ইন বেঙ্গল’ এর প্রকাশনা উৎসব এবং স্কলার অব দ্য ইয়ার ২০০৭ পুরষ্কার প্রাপ্ত চার দেশি ও চার অনাবাসীকে পুরষ্কার বিতরণ অনুষ্ঠান। পুরষ্কারপ্রাপ্তরা হলেন, শিল্প ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন পুরষ্কার- দেশে শিল্পী কলিম শরাফী ও স্পেনে অবস্থানরত চিত্রশিল্পী মনিরুল ইসলাম। বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনে এফ আর খান পুরষ্কার- দেশে হরিধানের উদ্ভাবক ঝিনাইদহের হরিপদ কাপালী ও যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং বাংলাদেশে গ্রামীণ ফোনের স্বপ্নদ্রষ্টা ইকবাল জেড কাদির। স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা ক্ষেত্রে ডাঃ মোহাম্মদ ইব্রাহীম পুরষ্কার- দেশে শিশু বিশেষজ্ঞ ডাঃ এম আর খান, ইউরোপে ৪০ বছর ধরে ক্যান্সার চিকিৎসায় ব্রত ডাঃ ফজলুল করিম। শিক্ষা ও কৃষি গবেষণায় ডঃ কুদরাত-ই- খোদা পুরষ্কার দেশে- চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিতের অধ্যাপক ডঃ নজরুল ইসলাম এবং প্রবাসী প্রকৌশলী অধ্যাপক ফজলে হুসেইন। পুরষ্কারপ্রাপ্তদের হাতে ৫০ হাজার টাকা, মানপত্র এবং ক্রেস্ট তুলে দেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ডঃ ফখরুদ্দীন আহমদ। তবে স্কলারস বাংলাদেশের এই ‘স্কলার’ পুরষ্কার গ্রহন করেননি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিতের অধ্যাপক ডঃ নজরুল ইসলাম। ১৮ জন বিশিষ্ট নাগরিকের সমন্নয়ে গঠিত একটি কমিটি বিভিন্ন দেশ থেকে আসা ১১ শতাধিক প্রস্তাব বিবেচনার পর নিজ নিজ ক্ষেত্রে অবদানের জন্য উক্ত আট জনকে মনোনীত করেন। কমিটির সদস্যরা হলেন- অধ্যাপক জিল্লুর রহমান সিদ্দিকী, ডঃ কামাল হোসেন, ডঃ ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদ, অধ্যাপক বোরহান উদ্দিন খান জাহাঙ্গীর, অধ্যাপক ইকবাল মাহমুদ, অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ, অধ্যাপক জামিলুর রেজা চৌধুরী, সাবেক তত্তাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অবঃ) মইনুল হোসেন চৌধুরী, রোকেয়া আফজাল রহমান, এ এস এম শাহজাহান, অধ্যাপক এস এম এ ফায়েজ, অধ্যাপক হাফিজ জি এ সিদ্দিকী, অধ্যাপক বজলুল মবিন চৌধুরী, ডঃ আতিউর রহমান, অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম, ডঃ মুহম্মদ জাফর ইকবাল ও অধ্যাপক এম এম আকাশ। সম্মেলনে আগত প্রবাসীদের মধ্যে আলোচনায় অংশ নেন- বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ নাগরিক ও ঢাকায় নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত আনোয়ার চৌধুরী, ব্রিটিশ কাউন্সিলম্যান ও লেবার দলীয় নেতা আইয়ুব করম আলী, দরস উল্লাহ, নিউজার্সির প্লেইবরোর কাউন্সিলম্যান ডঃ নূরুন নবী, মোরশেদ আলম, এহসান তাকবীম, অষ্ট্রেলিয়া প্রবাসী ডঃ আবেদ চৌধুরী, যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী ডঃ এহসান এমদাদ, জাপান প্রবাসী অধ্যাপক মনজুরুল ইসলাম, সিঙ্গাপুর প্রবাসী জুবায়ের আহমেদ, ভয়েস অব আমেরিকা নিউইয়র্কের জাকিয়া আর খান, কানাডা প্রবাসী ইমিগ্রেশন কন্সালটেন্ট মোহাম্মদ কে হক, কসমস কন্সালটিং এর প্রধান নির্বাহী আনোয়ারুল কবির, নিউইয়র্কের সিটি ইউনিভার্সিটির জনপ্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক মাবেল এম গোমেজ, অষ্ট্রেলিয়া প্রবাসী নিউক্যাসল ইউনিভার্সিটির সিনিয়র লেকচারার ডঃ আবুল হাসনাত মিল্টন, চীন প্রবাসী বাংলাদেশী বিনিয়োগকারী মোস্তফা আল মাহমুদ, নিউজার্সি প্রবাসী সেভিয়েন্ট ফামাসিউটিক্যালস এর ভাইস প্রেসিডেন্ট মুরাদ হুসাইন, কানাডা প্রবাসী ইউরো মার্ট অ্যাপারেলস লিমিটেডের চেয়ারম্যান সৈয়দ ফারুক আনোয়ার মিন্টু, আমেরিকা প্রবাসী ডিসট্রেসড চিলড্রেন ইন্টারন্যাশনালের নির্বাহী পরিচালক এ এহসানুল হক,ফ্রামিংহ্যাম স্টেট কলেজের অধ্যাপক আবদুল মোমেন, জাপান প্রবাসী আছি গকুন ইউনিভার্সিটির আন্তর্জাতিক উন্নয়ন বিভাগের অধ্যাপক ডঃ কুদরতে খোদা, মার্কিন নৌ বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সহযোগী পরিচালক ডঃ মোস্তফা এ এইচ তালুকদার, নিউইয়র্ক প্রবাসী গ্লোবাল ফাইন্যান্সিয়াল শেয়ারড সার্ভিসেসের তাহমিনা আহমেদ জেসমিন, বাংলাদেশ মেডিক্যাল এসোসিয়েশন নর্থ আমেরিকা শাখার সাবেক সভাপতি ডঃ জিয়া উদ্দিন, নিউইয়র্ক প্রবাসী স্থাণীয় সরকার বিশেষজ্ঞ আবু তালেব, জাপান প্রবাসী বিশিষ্ট ব্যবসায়ী খান মনিরুল মনি, বাংলাদেশে পরিবেশ রক্ষায় কর্মরত স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনের আহবায়ক আবু নাসের খান প্রমুখ।
সূত্রঃ এনওয়াই নিউজ, নিউইয়র্ক।
Evergreen Bangla Community


Post Your Comments