নিউইয়র্কে সর্বজনীন সমাবেশ থেকে পররাষ্ট্র উপদেষ্টাকে ওয়াশিংটনে আসার অনুরোধ

অবৈধ বাংলাদেশীদেরকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার স্থগিতে টিপিএস চালুর লবিং করুন

প্রধান উপদেষ্টা ডঃ ফখরুদ্দিন আহমদের প্রতিনিধি হিসেবে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা ডঃ ইফতেখার আহমেদ চৌধুরীকে ওয়াশিংটনে এসে বুশ প্রশাসনের সাথে বৈঠকের মাধ্যমে আমেরিকায় বসবাসরত অবৈধ বাংলাদেশীদের জন্যে টেম্পরারী প্রটেকটেড স্ট্যাটাস (টিপিএস) প্রোগ্রাম চালুর আহবান জানানো হয়েছে। ২৮ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির কার্যালয়ে বিভিন্ন শ্রেণী ও পেশার লোকজনের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এক সভা থেকে এ আহবান জানানো হয়েছে। সভা থেকে বলা হয় যে, ৫০ হাজারেরও অধিক বাংলাদেশীকে আমেরিকা থেকে বহিস্কারের প্রক্রিয়া চলছে। এখন যদি তাদেরকে বহিস্কার করা হয় তাহলে প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষত-বিক্ষত বাংলাদেশে গিয়ে তারা আরো নাজুক অবস্থায় পতিত হবেন। আর এ ব্যাপারটি মার্কিন প্রশাসনের সকলেই অবহিত, কেননা সপ্তাহে দুয়েক আগেই মার্কিন কংগ্রেসে সর্বসম্মতভাবে একটি বিল পাশ হয়েছে সিডর-এর আঘাতে ক্ষতিগ্রস্থদের প্রতি সহানুভূতি জ্ঞাপন করার জন্য। এছাড়া বাংলাদেশের দুর্দশা পীড়িত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্যে বুশ প্রশাসন ও আন্তর্জাতিক মহলের প্রতি উদাত্ত আহবান জানানো হয়েছে ঐ বিলে। সমাবেশের প্রধান অতিথি বাংলাদেশ সোসাইটির বোর্ড অব ট্রাস্টির চেয়ারম্যান আকতার হোসেন বলেছেন, কদিন আগে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা ডঃ ইফতেখার আহমেদ চৌধুরী একটি চিঠি দিয়েছেন আমেরিকার পররাষ্ট্র মন্ত্রী কন্ডোলিজা রাইসের কাছে বাংলাদেশীদেরকে টিপিএস প্রোগ্রামের আওতায় নেয়ার জন্য। কিন্তু এই পত্র প্রদানই যথেষ্ঠ নয় বলে উলে্নখ করে আকতার হোসেন বলেন, এখন সময় হচ্ছে সশরীরে ওয়াশিংটনে এসে কন্ডোলিজা রাইস অথবা স্টেট ডিপার্টমেন্টের উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠকের মাধ্যমে প্রোগ্রামটি চালুর ব্যাপারে সক্রিয় ভূমিকা রাখার। আকতার হোসেন উলে্নখ করেন, ২০০৩ সালে ইমিগ্রেশনে বিশেষ রেজ্রিস্ট্রেশন কর্মসূচি চালু করার ফলে লক্ষাধিক বাংলাদেশীর ভাগ্য বিপন্ন হয়ে পড়েছিল। সে সময়কার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মুর্শেদ খান ওয়াশিংটনে এসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনে সক্ষম হন। একইভাবে বতমানের পররাষ্ট্র উপদেষ্টাও অসহায় বাংলাদেশীদের জন্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন। প্রসঙ্গত উলে্নখ্য যে, ১৯৯০ সালে পাশ হওয়া ইমিগ্রেশনের একটি আইনের বলে প্রাকৃতিক অথবা অন্য কোন দাঙ্গা-হাঙ্গামায় মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ রাষ্ট্রের নাগরিকদেরকে আমেরিকা থেকে বহিস্কারের প্রক্রিয়া একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত স্থগিত রাখা যায়। ইতিপূর্বে নিকারাগুয়াসহ দক্ষিণ আমেরিকার কয়েকটি গোলযোগপূর্ণ রাষ্ট্রের অবৈধ ইমিগ্র্যান্টরা সে সুবিধা পেয়ে পরবর্তিতে তারা গ্রীণকার্ড পেয়েছেন। বাংলাদেশেও বর্তমানে একই পরিস্থিতি বিরাজ করছে-যে কারণে অবৈধভাবে বসবাসরত বাংলাদেশীরা টিপিএস প্রোগ্রামে আসতে পারেন। এজন্যে দরকার একটি নির্বাহী আদেশ জারির এবং এটি করবেন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্টের মন্ত্রী মাইকেল চেরটফ।

নিউইয়র্ক সোসাইটি আয়োজিত উপরোক্ত সমাবেশ থেকে টিপিএস প্রোগ্রামকে চালুর লক্ষ্যে বুশ প্রশাসনের সাথে লবিংয়ের জন্যে উচ্চ পর্যায়ের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে্‌। এর আহবায়ক ও সদস্য-সচিব হয়েছেন যথাক্রমে নার্গিস আহমেদ (সভানেত্রী-বাংলাদেশ সোসাইটি) এবং জয়নূল আবেদীন (সেক্রেটারী-বাংলাদেশ সোসাইটি)। এই কমিটির উপদেষ্টা পরিষদের চেয়ারম্যান হয়েছেন আকতার হোসেন এবং উপদেষ্টা মন্ডলীতে রয়েছেন ব্রম্নকলীন ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি হাজী ওবায়দুল হক, জ্যাকসন হাইটস ব্যবসায়ী সমিতির নেতা হারুন ভূইয়া, সোসাইটির নেতা আযহারুল হক মিলন, সাবেক সেক্রেটারী ফখরুল আলম, মূলধারার রাজনীতিক সউদ চৌধুরী, কম্যুনিটি এ্যাক্টিভিস্ট আলী ইমাম, সোহরাব সরকার প্রমুখ। প্রধান সমন্বয়কারী হয়েছেন জালালাবাদ এসোসিয়েশনের সভাপতি কামাল আহমেদ এবং সমন্বয়কারীর দায়িত্ব পালন করবেন কম্যুনিটি এ্যাক্টিভিস্ট কাজী আযম। সমাবেশের সমন্বয়কারী বাংলাদেশ সোসাইটির সাংগঠনিক সম্পাদক মিনহাজউদ্দিন বাবর এনাকে জানিয়েছেন, এছাড়া মূলধারার সাথে সম্পর্ক রয়েছে এমন কয়েকজনকেও রাখা হয়েছে এ কমিটিতে। ইমিগ্রেশন এটর্নীরাও এগিয়ে এসেছেন টিপিএস প্রোগ্রাম চালুর লবিং প্রক্রিয়ায়।

প্রসঙ্গত উলে্নখ্য যে, গত জুন মাসে মার্কিন কংগ্রেসে ইমিগ্রেশন রিফর্ম বিল ভেস্তে যাওয়ায় অবৈধভাবে বসবাসরত এক কোটি ২০ লক্ষাধিক ইমিগ্র্যান্টকে গ্রেফতার এবং আমেরিকা থেকে বহিস্কারের প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই কয়েক লাখ অবৈধ ইমিগ্র্যান্টকে বহিস্কার করা হয়েছে। এরমধ্যে বাংলাদেশীর সংখ্যাও অনেক ছিল। এছাড়া কয়েকশত বাংলাদেশীকে গত কয়েক মাসে গ্রেফতার করা হয়েছে। আরো ৫০ সহস্রাধিক বাংলাদেশী পরিবার-পরিজন নিয়ে সদা আতংকগ্রস্ত জীবন কাটাচ্ছেন। আরো উলে্নখ্য যে, লসএঞ্জেলেসভিত্তিক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্কের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই বাংলাদেশীদেরকে টিপিএস প্রোগ্রামের আওতায় নেয়ার জন্যে বুশ প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে চিঠি দেয়া হয়েছে। তারা স্ব স্ব এলাকার কংগ্রেসম্যান-সিনেটরের মাধ্যমে বুশ প্রশাসনের উপর চাপ প্রয়োগের জন্যও বাংলাদেশী-আমেরিকানদের প্রতি উদাত্ত আহবান জানিয়েছেন। ঢাকা প্রশাসনের নির্দেশে ইতিমধ্যে ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাস থেকেও স্টেট ডিপার্টমেন্টে বাংলাদেশ ডেস্কে একটি অনুরোধপত্র দেয়া হয়েছে।

সূত্রঃ এনা, নিউইয়র্ক।

Post Your Comments

All comments are subject to editorial review and decision.

*
To prove you're a person (not a spam script), type the security text shown in the picture. Click here to regenerate some new text.
Click to hear an audio file of the anti-spam word

Free Membership. Join Now!