নিউইয়র্কে বাংলাদেশী পরিবারের ট্র্যাজেডিঃ ২ শিশু সন্তানসহ মা সরকারী আশ্রয় শিবিরে
নিউইয়র্কে বাংলাদেশী পরিবারের ট্র্যাজেডিঃ ২ শিশু সন্তানসহ মা সরকারী আশ্রয় শিবিরে
পুত্রবধূকে প্রহারের মামলায় শাশুড়িসহ ননদ-স্বামীর হাজতবাস
পুত্রবধূকে প্রহারের দায়ে শাশুড়িসহ ননদ এবং স্বামীর হাজতবাসের পর ২ শিশু কন্যাসহ ভীতসন্ত্রস্ত বাংলাদেশী বধূকে পুলিশ পাহাড়ায় নিরাপদ আশ্রয় কেন্দ্রে রাখা হয়েছে। নিউইয়র্ক সিটির ব্রঙ্কসের পার্কচেষ্টার এলাকার এ ঘটনাটি কম্যুনিটির ইমেজকে আরেক দফা বিপন্ন করেছে। কেননা তরুণী বধূটি যখন ননদ ও শাশুড়ির কবল থেকে বাঁচার জন্য ‘হেল্্প হেল্্প’ বলে চিৎকার করতে করতে খালি পায়ে এপার্টমেন্ট থেকে দৌড়ে বের হচ্ছিলেন সে সময় বৃদ্ধা শাশুড়ি প্রতিবেশীদেরকে বলেন যে, ও পাগল হয়েছে। হাসপাতাল থেকে পালিয়েছে। ওর পাশে কেউ যাবেন না।
লক্ষীপুরের মোহাম্মদ বাবুল এবং তার মা রোকেয়া বেগম ও বোন মনোয়ারা বেগমকে নিউইয়র্ক সিটির পুলিশ গ্রেফতার করে হাজতে পাঠিয়েছিল। দুদিন হাজকবাসের পর তারা জামিনে মুক্তি পেলেও মোহাম্মদ বাবুলের স্ত্রী ইভা ইসমত পপিকে তার ৩ বছর বয়েসী ও ৯ মাস বয়েসী শিশু কন্যাসহ সরকারের হেফাজতে নেয়া হয়েছে গত ২১ ডিসেম্বর। ৯ জানুয়ারি শাশুড়ি, স্বামী ও ননদকে ব্রঙ্কস ক্রিমিনাল কোর্টে হাজির হতে হবে।
আশ্রয় শিবির থেকে মিসেস পপি ৩১ জানুয়ারি বিকেলে বার্তা সংস্থা এনাকে জানিয়েছেন, তার বাবার বাড়ী কুমিল্নায় এবং বড় হয়েছেন ঢাকায়। এসএসসি পরীক্ষা দেয়ার পরই বিয়ে হয়েছে মাকিন নাগরিক মোহাম্মদ বাবুলের সাথে। ইমিগ্র্যান্ট হয়ে আমেরিকায় আসার আগেই একটি কন্যা সন্তানের মা হই। এরপর আমেরিকায় আসার পর আরেকটি সন্তান নিয়েছি। তার বয়স এখন ৯ মাস। স্বামী ম্যানহাটানে একটি সুপার মার্কেটের ম্যানেজার, ভালোই চলছিল সংসার। স্বামীর কেনা বাড়ীতে বাস করছি। শশুড়, শাশুড়ি, ননদেরা সকলেই পাশের বাড়িতে বাস করেন। তাদের ধারণা, আমার উপর এবং তাদের পুত্রের উপর কর্তৃত্ব নেই। পুরো কর্তৃত্ব বজায় রাখতে পারছেন না আমার কারণেই। এটাই হচ্ছে ক্ষোভের কারণ। এজন্য আমার উপর সম্মিলিত আক্রমণ চালানো হয়। মাঝেমধ্যেই আমাকে হুমকি দেয়া হয় স্বেচ্্ছায় বাংলাদেশে ফিরে যাবার জন্য। কিন্তু আমি যাবো কেন? দুটি শিশু সন্তানকে নিয়ে বাংলাদেশে গেলে ওরা মানুষ হবে কীভাবে? মিসেস পপি বলেন, বাংলাদেশী মেয়েরা তো জীবনে একবারই বিয়ে করে। তাই আমি সংসার ভাঙতে চাইনি বলে শত নির্যাতন মুখ বুজে সহ্য করে চলেছি। কিন্তু ২১ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় আমাকে হত্যার ষড়যন্ত্র করেছিল শাশুড়ি ননদ। চুলের মুঠি ধরে মেঝেতে ফেলে দিয়ে আমার বুকের উপর বসে শাশুড়ি বলেছেন যে, আমাকে মেরে কেটে টুকরা টুকরা করে লাশ পাঠিয়ে দেবে বাবার বাড়িতে। এসব কথা বলার পাশাপাশি আমার উপর নির্যাতন চালানো হয়। ননদও মারধোর করেছে আমাকে। এক পর্যায়ে আমি দৌড়ে আত্মরক্ষা করেছি। মিসেস পপি বলেন, প্রতিবেশীদের সাহায্য পাইনি। কেননা আমার শাশুড়ি ও ননদ ওদেরকে জানিয়েছেন যে আমার নাকি মাথা খারাপ হয়েছে। এ অবস্থায় বাসার নীচ তলায় একটি স্টোরে গিয়ে ফোন করেছি পুলিশকে। পুলিশ এসে আমার শিশু সন্তানদের উদ্ধার করেছে এবং একইসাথে ওদেরকে গ্রেফতার করে হাজতে পাঠিয়েছিল।
মিসেস পপি বলেন, আমেরিকায় কোন আত্মীয়-স্বজন নেই বলে বড় অসহায় বোধ করছি এবং এ সুযোগটিও ওরা নিয়েছে। কেননা ওদের সমস্ত আত্মীয়-স্বজন রয়েছেন আমেরিকায়। মিসেস পপি ন্যায় বিচারের জন্য কম্যুনিটির সার্বিক সহায়তা চেয়েছেন। মিসেস পপির অভিযোগ সম্পর্কে জানার জন্য যোগাযোগ করা হয় তার স্বামী মোহাম্মদ বাবুলের সাথে। কিন্তু ফোনে তাকে পাওয়া যায়নি এ সংবাদ লেখার সময় পর্যন্ত।
শাশুড়ি, ননদ এবং স্বামীর বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলো কম্যুনিটিতে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। কেননা মাত্র কদিন আগেই নিউইয়র্ক সিটির জ্যামাইকায় দাম্পত্য কলহের জের হিসেবে স্বামী সোলায়মান মিয়া কর্তৃক বাংলাদেশী বধূ সাহেদা সুলতানা লাভলীকে নৃশংসভাবে খুনের ঘটনা ঘটেছে।
খবরঃ এনা, নিউইয়র্ক।
Evergreen Bangla Community
Post Your Comments