স্ত্রীকে টুকরো টুকরো করে হত্যার দায়ে নিউইয়র্কে বাংলাদেশী সোলায়মান জেলে
ঘুমন্ত শিশু সন্তানের পাশেই কুরবানীর পশুর মত টুকরা টুকরা করে স্ত্রী শাহিদা সুলতানা লাভলী (৩২) কে খুনের দায়ে নিউইয়র্ক সিটির জ্যামাইকা থেকে ২২ ডিসেম্বর ভোরে (বাংলাদেশ সময় শনিবার সন্ধ্যায়) মোহাম্মদ সোলায়মান মিয়া (৪৯) নামক এক বাংলাদেশীকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। এই দম্পতির ৪ বছর বয়েসী কন্যা তাসনিয়া জেনিফার ঘুমিয়ে থাকাবস্থায় একই বিছানার পাশে তার মাকে ধারালো ছুরি দিয়ে জবাই করা হয়। সোলায়মান মিয়ার বাড়ী চট্টগ্রামের আনোয়ারায় এবং মিসেস লাভলীর বাড়ি রাজশাহীর গুদাগাড়িতে।
মিসেস লাভলীর বড়বোন জানিয়েছেন যে, দীর্ঘদিন ধরেই তাদের মধ্যে কলহ চলছিল। গ্রীণকার্ডের জন্যে নিজের চেয়ে অনেক বেশী বয়েসী সোলায়মান মিয়াকে ২০০২ সালে বিয়ে করেছিলেন রাজশাহী ভার্সিটি থেকে অর্থনীতিতে মাস্টার্স সম্পন্নকারী শাহিদা সুলতানা লাভলী। কিন্তু বিয়ের পরে তার গ্রীণকার্ডের জন্যে আবেদন করেননি সোলায়মান মিয়া। এটাই ছিল দাম্পত্য কলহের অন্যতম কারণ বলে এই দম্পতির পরিচিতজনেরা উল্লেখ করেছেন। অনেকের ধারণা, গ্রীণকার্ড পেলেই লাভলী তাকে ত্যাগ করবেন বলে মোহাম্মদ সোলায়মান মিয়া ইমিগ্রেশনে স্ত্রীর জন্যে গ্রীণকার্ডের আবেদন করেননি। এক পর্যায়ে মিসেস লাভলী একটি সন্তান ধারণ করেন। তার ধারণা ছিল যে, সন্তানের বাবা হলে হয়তো সোলায়মান মিয়া সদয় হবেন এবং তাকে স্পন্সর করবেন। কিন্তু সে ধারণাও সত্যে পরিণত হয়নি।
প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, সোলায়মান মিয়া নিকটেই একটি রেস্টুরেন্টে কাজ করতেন রাতের শিফ্টে। মিসেস লাভলীও সপ্তাহে দুদিন কাজ করতেন আরেকটি রেস্টুরেন্টে। তাদের দু’জনের বয়সের ব্যবধানের পাশাপাশি দৈহিক গড়নেও বেশ অসামঞ্জস্য ছিল। মিসেস লাভলী ছিলেন সোলায়মান মিয়ার চেয়ে বেশ লম্বা এবং স্মার্ট। মিসেস লাভলী ঘুমিয়ে ছিলেন বলেই হয়তো তাকে সোলায়মান মিয়ার একার পক্ষে হত্যা করা সম্ভব হয়েছে বলেও লাভলীর স্বজনেরা উল্লেখ করেছেন। উল্লেখ্য যে, লাভলী এবং তার বড়বোন ফেরদৌসী বেগম একই ভবনে পৃথক এপার্টমেন্টে বাস করছিলেন। লাভলীরা ছিলেন পাঁচ তলায় এবং তার বড়বোন ফেরদৌসী বাস করতেন গ্রাউন্ড ফ্লোরে। আরো জানা গেছে, মাস্টার্স করার পর লাভলী আমেরিকায় আসার আগে নার্স হিসেবে একটি কোর্স সম্পাদন করেছিলেন। এরপরই এসেছিলেন ট্যূরিস্ট ভিসায়। নিউইয়র্কে এসেও তিনি নার্স হিসেবে কোর্স করছিলেন। জানুয়ারিতে সেই ডিপ্লোমা কোর্সের পরীড়্গা দেয়ার কথা ছিল। এরপর স্থায়ীভাবে বসবাসের নেশায় পেয়েছিল মিসেস লাভলীকে। এসব কারণে ২০০২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব গ্রহণকারী মোহাম্মদ সোলায়মান মিয়ার সাথে তার বিয়ে হয়। আশা ছিল বিয়ের পরই স্বামীর মাধ্যমে তিনি গ্রীণকার্ড পাবেন। কিন্তু গ্রীণকার্ডের স্বপ্ন পূরণ হওয়ার আগেই তাকে চির বিদায় নিতে হলো এ জগত থেকে। এসব ব্যাপারে সোলায়মান মিয়ার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। কেন তিনি এভাবে স্ত্রীকে হত্যা করেছেন তাও জানা যায়নি। পুলিশের তদন্তের পরই হত্যাকান্ডের সত্যিকারের মোটিভ জানা সম্ভব হবে বলেও অনেকে মনে করছেন। তবে এই দম্পতি কম্যুনিটির কোন অনুষ্ঠানাদিতে যাননি, ফলে তারা কম্যুনিটির কাছে একেবারেই পরিচিত নন।
ঈদের আনন্দে গোটা কম্যুনিটি যখন উদ্বেলিত, ঠিক তেমনি সময়ে এমন নৃশংস হত্যাযজ্ঞের খবরে সকলেই বিমর্ষ হয়ে পড়েছেন। আমেরিকান মিডিয়াতেও এসেছে বিষয়টি। পুলিশ মোহাম্মদ সোলায়মান মিয়াকে হাজতে প্রেরণের সময় ৪ বছর বয়েসী কন্যাকে নিরাপদ হেফাজতে নিয়েছে। মিসেস লাভলীর খন্ড-বিখন্ড লাশ দেখতে দেয়া হয়নি তার বোনকে। কেননা তা দেখলে তিনিও আৎকে উঠতে পারেন।
শাহিদা সুলতানা লাভলী খুনের ঘটনা মার্কিন মিডিয়ায়ও গুরুত্ব সহকারে প্রচারিত হচ্ছে।
সূত্রঃ এনা।
Evergreen Bangla Community


Post Your Comments