মার্কিন মিডিয়া কর্তৃক ‘হিরো অব দ্য সিটি’ উপাধি - হাসান আশকারীর মহানুভবতায় উজ্জ্বল হচ্ছে বাংলাদেশের ইমেজ
ঢাকার নবাব পরিবারের উত্তরাধিকারী, নিউইয়র্কের কলেজ ছাত্র হাসান আশকারীর কারণে পাশ্চাত্যে শুধু বাংলাদেশীদেরই প্রশংসা উচ্চারিত হচ্ছে না, মুসলিম সম্প্রদায়ের ধর্মবিশ্বাসেরও গুণকীর্তণ করা হচ্ছে অবিরতভাবে। মার্কিন কংগ্রেস, নিউইয়র্ক স্টেট সিনেট এবং নিউইয়র্ক সিটি কর্তৃক হাসান আশকারী (২০)কে মেডেল, এওয়ার্ড এবং নগদ অর্থ প্রদানের পাশাপাশি মার্কিন মিডিয়াগুলো অকৃপণভাবে তাকে ‘হিরো অব দ্য নিউইয়র্ক সিটি‘ বিশেষণেও বিশেষিত করছে। হাসান আশকারীর অনবদ্য সাহসিকতাকে তার ধর্মবিশ্বাসেরই প্রতিফলন হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে মার্কন কংগ্রেসে। প্রতিটি আমেরিকানেরই উচিত হচ্ছে হাসান আশকারীর আচরণকে অনুসরণ করা-এ অভিমত পোষণ করেছেন কংগ্রেসে বক্তৃতাকালে কংগ্রেসনাল বাংলাদেশ ককাসের কো-চেয়ার কংগ্রেসম্যান যোসেফ ক্রাউলী। নিউইয়র্কের সিনেটর জন সাবিনী ২১ ডিসেম্বর ‘লিটল বাংলাদেশ’ হিসেবে খ্যাত জ্যাকসন হাইটসের রাজপথে হাটবাজার রেস্টুরেন্টের সামনে হাসান আশকারীকে সংবর্ধনা প্রদানের অনুষ্ঠানে উলে্নখ করেছেন, হাসান হচ্ছেন নিউইয়র্কারদের আদর্শ, চেতনা এবং মূল্যবোধের প্রতিক। সাবওয়েতে দুর্বৃত্তদের কবল থেকে ৪ ইহুদি যুবক-যুবতীকে রক্ষায় হাসান আশকারীর ভূমিকায় সত্যিকার অর্থে একজন মানুষের পরিচয়ই গৌরবের সাথে উপস্থাপিত হয়েছে। এমন একজন মানুষকে নিউইয়র্ক স্টেট সিনেটের পক্ষ থেকে বিশেষ সম্মান জানাতে পেরে নিজেকে গৌরবান্বিত বোধ করছি্। সিনেটর জন সাবিনী বলেছেন, আজ আমি হাসান আশকারীর বিরত্বপূর্ণ ভূমিকার জন্যে প্রক্ল্যামেশন প্রদান করছি। সিনেটের অধিবেশন চালু হলে সেখানে আনুষ্ঠানিক একটি প্রস্তাব নেয়া হবে তাকে ধন্যবাদ জানিয়ে।
১৯ ডিসেম্বর সিটি মেয়র মাইকেল ব্নুমবার্গ হাসান আশকারীকে নিজ চেম্বারে ডেকে নিয়ে সাবওয়ে হিরো আখ্যায়িত করেছেন। সিটি মেয়র একটি মেডেলও প্রদান করেছেন হাসানকে।
৯ ডিসেম্বর দিবাগত রাতে মানহাটানের রেস্টুরেন্টে কাজ শেষ করে ব্রম্নকলীনের বাসায় ফিরছিলেন হাসান আশকারী। ক্যানেল স্ট্রীট থেকে কিউ ট্রেন ছাড়ার পর একই বগিতে ১০ জনের একটি দল ম্যারি ক্রিসমাস বলে সম্বোধন করে ৪ ইহুদি যুবক-যুবতীকে। এ ৪ জন ওদের জবাব দেন হ্যাপী হানুকা বলে। কেননা তখন তারা যাচ্ছিলেন তাদের ধর্মীয় উৎসবে। এরপরই খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী ঐ ১০ জন চড়াও হয় ৪ ইহুদির উপর। ১০ জনের আক্রমণে নাস্তানাবুদ ৪ জনের পাশে বগির কেউই দাঁড়াননি। সকলেই পরিস্থিতি অবলোকন করে নিরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছিলেন। এমনি অবস্থায় ৪ জনের পাশে দাঁড়ান হাসান আশকারী। কিন্তু ঐ দুর্বৃত্তরা তাকেও বেধড়ক মার দেয়। গুরুতরভাবে আহত হওয়া সত্বেও হাসান হাল ছাড়েননি। এক পযায়ে দুর্বৃত্তরা হাসানের উপরই অধিক মনোযোগ দিলে ইহুদিদের একজন ইমাজেন্সী চেইন টেনে ট্রেনের সুপারভাইজারের দৃষ্টি আকর্ষণে সক্ষম হন। এরপর ট্রেনটি ডিকাব এভিনিউতে দাঁড়ানোর পর ঐ দুর্বৃত্তরা পলায়নের চেষ্টা করেছিল। কিন্তু পুলিশী হস্তক্ষেপে তা সম্ভব হয়নি। হাসান আশকারী সে সময় রুখে না দাঁড়ালে ঐ ৪ জনের অবস্থা খুবই করুণ হতো। এ কথা ইহুদি যুবক-যুবিতীরা বিভিন্ন মিডিয়ায় বলার পর নিউইয়র্ক সিটির পরিধি ছাড়িয়ে বিস্তৃত হয়েছে গোটা বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় মিডিয়ায়। এভাবেই হাসান আশকারীর মহানুভবতার কথার মাধ্যমে বাংলাদেশ এবং মুসলমানদের ইমেজকে পাশ্চাত্যে উজ্বল হয়েছে।
কংগ্রেসম্যান ক্রাউলী হাউজ ফ্লোরে বিপুল করতালির মধ্যে হাসান আশকারীর প্রশংসা করার সময় আরো বলেছেন যে, তিনি শীঘ্রই তার ডিস্ট্রিক্ট অফিসে হাসান আশকারীকে সংবর্ধনা জানাবেন। অপরদিকে ২১ ডিসেম্বর জ্যাকসন হাইটসে সিনেটর জন সাবিনী সংবর্ধনার সময় আমেরিকা বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্সের সিনিয়র নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট হাসানুজ্জামান হাসানও তাকে একটি চেক প্রদান করেন। এ সময় কুইন্স ডেমক্র্যাটিক ডিস্ট্রিক্ট লিডার মুহম্মদ আমিনুল্নাহ হাসান আশকারীকে একটি মাসিক মেট্র কার্ড প্রদান করেছেন বলে জানা গেছে। উলে্নখ্য যে, ম্যানহাটানের বার্কলে কলেজে হিসাব বিজ্ঞানে পড়ছেন হাসান আশকারী। লেখাপড়ার খরচ বহনের জন্যে সপ্তাহের ৭দিনই তিনি রেস্টুরেন্টে কাজ করেন। তার মা-বাবা-ভাই-বোনেরা সকলেই থাকেন ঢাকায়। ইতিমধ্যেই ইহুদি সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে তাকে বেশ কয়েক দফা সম্বর্ধনা প্রদান করা হয়েছে।
খবরঃ এনা।
Evergreen Bangla Community
Post Your Comments