বিলিয়ন ডলার বাজেটঃ ব্যাকগ্রাউন্ড তল্লাশীর অভিনব পদ্ধতি চালু করছে এফবিআই

একজন মানুষের সামগ্রিক বৈশিষ্ট মুহূর্তেই যাচাই করতে সক্ষম-এমন একটি ডাটাবেজ তৈরী করছে যুক্তরাষ্ট্রের এফবিআই (ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন)। এ বাবদ প্রাথমিক পর্যায়ে বরাদ্দ করা হয়েছে এক বিলিয়ন ডলার তথা ৭ হাজার কোটি টাকা। এই পদ্ধতি চালুর ফলে গোটাবিশ্বের সন্দেহভাজনদের গতিবিধি মনিটরিং করা সহজ হবে এবং যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের আগ্রহীদের ব্যাকগ্রাউন্ডও স্বল্প সময়ে জানতে পারবে সংশ্নিষ্ট কর্মকর্তারা। শুধু তাই নয়, বর্তমানের বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে ১০ আঙ্গুলের টিপসই এবং ছবি ব্যবহারে যে সময় ব্যয় হচ্ছে নতুন ডাটাবেজে তার সিকিভাগ সময়ও লাগবে না বলে সংশি্নষ্টরা উলে্নখ করেছেন। এটি হবে গোটাবিশ্বে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য একটি ডাটাবেজ-এ দাবিও করেছেন সংশ্নিষ্টরা।

মুখমন্ডলের ডিজিটাল ইমেজ, টিপসই এবং হাতের তালুর ছাপ   ইতিমধ্যেই এফবিআইয়ের ডাটাবেজে সন্নিবেশিত হচ্ছে। জানুয়ারি থেকে পরিকল্পিত সর্বাধুনিক ডাটাবেজের কার্যক্রম শুরু হলে সন্দেহভাজনদের বায়োমেট্রিক ইনফরমেশন সংরক্ষণের দিগন্ত আরো বিস্তৃত হবে। নতুন পরিকল্পনাকে পরিপূর্ণভাবে ব্যবহারের জন্যে এফবিআই ১০ বছর সময় নেবে। চোখের তারার রঙিন অংশ সংরক্ষণের মাধ্যমে মানুষের বৈশিষ্টকে মুহূর্তে অবলোকনের এ ব্যবস্থা অচিরেই সারাবিশ্বের গোয়েন্দাদের প্রশংসা অর্জনে সক্ষম হবে বলে আশা করছেন যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা। এই ডাটাবেজের মাধ্যমে অপরাধ দমন করা যেমন সহজতর হবে একইভাবে সন্ত্রাসীদের চিহ্নিত করাও দুষ্কর হবে না। এই পদ্ধতির আওতায় বড় বড় প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা/কর্মচারিদেরকেও নেয়া হবে। প্রতিষ্ঠানের বাইরে কেউ যদি কোন অপকর্মে লিপ্ত হয়, সে তথ্য মুহূর্তেই সংশি্নষ্ট প্রতিষ্ঠানের মালিক জানতে পারবেন।

নতুন এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে নিয়োজিত এফবিআই’র ক্রিমিনাল জাস্টিস ইনফরমেশন সার্ভিসের সহকারী পরিচালক থমাস ই বুশ থার্ড বলেছেন, ব্যাপকভিত্তিক, দ্রততর এবং সর্বোত্তম সেবা প্রদান হচ্ছে আমাদের লক্ষ্য। উলে্নখ্য যে, এই ডাটাবেজের সদর দফতর থাকবে ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ার ক্লার্কসবার্গের এপালাচিয়ান ফুটহিল্‌সে।

নানাবিধ কারণে আমেরিকানদের ব্যাকগ্রাউন্ড চেকিংয়ের জন্যে বর্তমানের পদ্ধতিগুলো প্রশ্নের উদ্রেক করেছে। অনেকে আদালতে গিয়ে অভিযোগ করেছেন ব্যাকগ্রাউন্ড চেকিংয়ের নামে তাদেরকে অহেতুক নাজেহালের। যদিও নিরাপত্তার প্রশ্নে এর বিকল্প নেই। এ ধরনের অবাঞ্চিত প্রশ্নের সম্মুখীন যাতে না হতে হয়, সেজন্যেই সর্বাধুনিক এ পদ্ধতির সংযোজন করা হচ্ছে-যাতে কেউ অহেতুক নাজেহাল হচ্ছেন বলে মনে করবেন না। এ প্রযুক্তির ফলে তারাই ব্যাপক পরীক্ষার সম্মুখীন হবেন যাদের ব্যাপারে প্রচুর সন্দেহের অবকাশ থাকবে। যারা সত্যিকার অর্থে ভালো লোক তারা প্রাথমিক পর্বেই অব্যাহতি পাবেন অর্থাৎ তারা বুঝতেই পারবেন না যে তাদের ব্যাকগ্রাউন্ড চেক হয়ে গেছে।

গত দু’বছর থেকেই বায়োমেট্রিক পদ্ধতির ব্যবহার বেড়েছে। প্রতিরক্ষা দফতরের ডাটাবেজে কয়েক কোটি মানুষের টিপসই, হাতের তালুর ছাপ, মুখমন্ডলের ছবি সংরক্ষণ করা হয়েছে। এরমধ্যে ১৫ লক্ষাধিক ইরাকী এবং আফগানের ব্যাক গ্রাউন্ডও রয়েছে। ডিটেনশন সেন্টারে আটক ছিলেন এমন অনেক ইরাকীর ডিএনএ নমুনাও সংরক্ষণ করেছে প্রতিরক্ষা দফতর। এদিকে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্ট কোন কোন এয়ারপোর্টে হাতের তালুর ছাপও রেখেছে-যারা দ্রম্নত ব্যাকগ্রাউন্ড চেকিংয়ে আগ্রহী। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্ট এখন চেষ্টা করছে আরো দ্রম্নত হাতের তালু এবং মুখমন্ডল যাচাইয়ের প্রযুক্তি সন্নিবেশ করতে।

নতুন প্রযুক্তির কার্যক্রম চালু হলে সারাবিশ্বে ক্রিমিনাল হিসেবে সন্দেহযুক্ত সাড়ে ৫ কোটি লোকের সাথে যুক্তরাষ্ট্রে আসতে আগ্রহী বিদেশীদের ব্যাকগ্রাউন্ড চেক করা সহজ হবে এবং সেই চেকিং নিয়ে কারো সন্দেহের অবকাশ থাকবে না অর্থাৎ ‘নিউ জেনারেশন আইডেনটিফিকেশন’  প্রযুক্তির ব্যাপারে কারো কোন সন্দেহ থাকবে না। 

খবরঃ এনা।

Post Your Comments

All comments are subject to editorial review and decision.

*
To prove you're a person (not a spam script), type the security text shown in the picture. Click here to regenerate some new text.
Click to hear an audio file of the anti-spam word

Free Membership. Join Now!