বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের বিজয় দিবসের অনুষ্ঠান “মুক্তির চেতনা হৃদয়ে”
গত ১৫ ডিসেম্বর শনিবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, টরন্টো মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে আয়োজন করে একটি অনবদ্য অনুষ্ঠান “ মুক্তির চেতনা হৃদয়ে”। মুক্তিযুদ্ধের সংবর্ধনা, কবিতা ,গান, স্মৃতিচারন ও নাচ দিয়ে সাজানো এই অনুষ্ঠান। বিশিষ্ট চলচ্চিত্রকর্মী, আবৃত্তিকার ও অভিনেতা শেখর-ই-গোমেজ এর গ্রন্থনা, পরিচালনা ও উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানের শুরুতেই বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধা ও সম্মান জানিয়ে মুক্তিযোদ্ধা শওকত হোসেনকে সংবর্ধনা দেয়া হয়। মুক্তিযোদ্ধা শওকত হোসেন চট্টগ্রামে তৎকালীন মেজর জিয়াউর রহমান এবং মেজর মীর শওকত আলীর নেতৃত্বে সস্মুখযুদ্ধে অংশগ্রহন করেন। তিনি কালুরঘাটে স্থাপিত স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে প্রচারিত স্বাধীনতার ঐতিহাসিক ঘোষনা পাঠের সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশ সাস্কৃতিক কেন্দ্রের পক্ষ থেকে অনন্ত আহমেদ মুক্তিযোদ্ধা শওকত হোসেনের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি পাঠ করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ সাস্কৃতিক কেন্দ্র প্রবাসে একটি দায়িত্ব পালনের নিরলস চেষ্টা করে যাচ্ছে। যাতে প্রবাসে বাংলা সংস্কৃতি স্বগৌরবে টিকে থাকে। আমাদের নতুন প্রজন্ম যেনো শেকড়ের কথা ভুলে না যায়। আমরা যেনো সবাই মুক্তিযুদ্ধের চেতনা হৃদয়ে লালন করি। যাঁদের ত্যাগের বিনিময়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছে বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র সবসময় তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং সেসব অকুতভয় বীর মুক্তিযোদ্ধাদেরই প্রতিনিধি শওকত হোসেন। আমরা ব্যাক্তি শওকত হোসেনকে নয় সংবর্ধনা দিচ্ছি মুক্তিযোদ্ধাদের এবং মুক্তিযোদ্ধা শওকত হোসেনকে। অনন্ত আহমেদ আরো বলেন আমরা আমাদের দেশকে ভালোবাসি এবং আজকে ভীষন ঝড় এবং বৈরী আবহাওয়াকে উপেক্ষা করে সকলের অংশগ্রহন সেই ভালোবাসাকেই প্রমান করে। তিনি সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
মুক্তিযোদ্ধা শওকত হোসেন তাঁর বক্তব্যের শুরুতেই আবেগঘন ভাবে সকল শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি সম্মান জানিয়ে সবাইকে নিয়ে এক মিনিট নিরবতা পালন করেন। মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারন করতে গিয়ে তিনি কালুরঘাটের সেই ঐতিহাসিক স্বাধীনতা ঘোষনা পাঠের প্রেক্ষাপট বর্ননা করেন এবং বিভিন্ন যুদ্ধের বর্ননা করেন।
এখানে উল্লেখ্য যে অনুষ্ঠানটি অনন্ত আহমেদের পরিকল্পনায় সারা পৃথিবীব্যাপী বেশ কয়েকটি জনপ্রিয় ‘ ওয়েব সাইট’ এর ভয়েস চাট রুম এবং কয়েকটি লাইভ রেডিওতে সরাসরি সম্প্রচারিত হয়। পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শত শত শ্রোতা অনুষ্ঠানটি উপভোগ করেন এবং তাঁদের মতামত ও অনুভূতি ব্যক্ত করেন। উপস্থিত ও অনলাইনে অনেকেই শওকত হোসেনকে বিভিন্ন প্রশ্ন করেন এবং শওকত হোসেন সেগুলির উত্তর দেন।
শওকত হোসেনের স্মৃতিচারনের সময় দেখা যায় সেই সময়কার এবং শওকত হোসেনের স্মৃতির প্রেক্ষাপটের সাথে সম্পৃক্ত বেশ কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা অন লাইনে আছেন এবং তাঁরা তাদের কথা বলেন এবং শওকত হোসেনের কথার সত্যতা এবং ব্যাখ্যা নিয়ে আলোচনা করেন। গত ১৫ দিন ধরে বিভিন্ন ওয়েব সাইটে অনুষ্ঠানটির আমন্ত্রন প্রচারিত হওয়াতে ব্যাপক সাড়া পাওয়া যায়। টরন্টো থেকেও অনেক শ্রোতা অনুষ্ঠানটি অনলাইনে উপভোগ করেন এবং তাঁদের শুভেচ্ছা জানান।
কবিতা ও গানের সময় দেখা যায় শিল্পীদের পরিচিত ও আত্নীয়স্বজনবৃন্দও অনুষ্ঠানটি উপভোগ করছেন। তাঁদের শুভেচ্ছা সকলকে আপ্লুত করে। অনুষ্ঠান চলাকালীন টিভির বিশাল পর্দায় অনলাইনের শ্রোতাদের ভালোলাগার অনুভূতি প্রকাশ ও শুভেচ্ছা শিল্পীদের উৎসাহিত করে। কেউ কেউ স্বকন্ঠে শিল্পীদের অভিনন্দন জানান এবং বিশেষ গান বা কবিতার জন্য অনুরোধ করেন।
বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের এটি ছিলো দশম সংবর্ধনা অনুষ্ঠান। এর আগে কেন্দ্র যাদের সংবর্ধনা দিয়েছে তাঁরা হলেন সাহিত্যিক নবনীতা দেব সেন, গনিত বিশেষজ্ঞ ও কলামিষ্ট ডঃ মীজান রহমান, অভিনেতা হাসান ইমাম ও নৃত্যশিল্পী লায়লা হাসান (যৌথ), নাট্যশিল্পী লুৎফুন্নাহার লতা, আবৃত্তি শিল্পী ব্রততী বন্দ্যোপাধ্যায়, নাট্যশিল্পী আফরোজা বানু, নাট্যশিল্পী পিযুষ বন্দোপাধ্যায়, সঙ্গীতশিল্পী মিতা হক ও সঙ্গীতজ্ঞ পন্ডিত অজয় চক্রবর্তী।
“মুক্তির চেতনা হৃদয়ে” অনুষ্ঠানের সাংস্কৃতিক পর্বের শুরুতে দেশের গান পরিবেশন করেন টরন্টোর বিশিষ্ট শিল্পী ও ১৯৭১ এর সঙ্গীতযোদ্ধা নূরুল আলম লাল। তারপর শুরু হয় স্বরচিত কবিতা পাঠের পর্ব। এতে স্বরচিত কবিতা শোনান বিশিষ্ট কবিবৃন্দ। তাঁরা হলেন ফেরদৌস নাহার, রোকসান লেইস, ইশরাত জাহান দীপ্তি, মেহরাব রহমান ও নাঈম হাসান। গীটারে দেশের গান পরিবেশন করেন শিল্পী শহিদুল আলম খান সেতার। বিশিষ্ট চিন্তাবিদ, গবেষক ও নাট্যকার হাসান মাহমুদ একটি চমৎকার দেশের গান শোনান। বিশিষ্ট লেখক, নাট্যকার ও মুক্তিযোদ্ধা আকতার হোসেন মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারন করেন। আবৃত্তিপর্বে অংশগ্রহন করেন তওহিদ বিশ্বাস শান্ত, অনন্ত আহমেদ, মেরী হাওলাদার, সুমী রহমান, জাহানারা খানম চিনু ও শেখর-ই-গোমেজ। দেশের গানের সাথে নাচ পরিবেশন করেন সানজানা ফারিন।
আপ্যায়নের দায়িত্বে ছিলেন সাইদা বারী এবং রোজলীন গোমেজ। সহযোগিতায় দ্বীপ্তি, শেলী ও চিনু। মঞ্চসজ্জায় অনন্ত আহমেদ এবং ভিডিওগ্রাফীতে ছিলেন সেতার।
সূত্রঃ এনওয়াই বাংলা।
Evergreen Bangla Community


Post Your Comments